বুধবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন

স্বাক্ষাতকার: ছড়ার মানুষ সাজ্জাদ মোহাম্মদ

স্বাক্ষাতকার: ছড়ার মানুষ সাজ্জাদ মোহাম্মদ

পাতা প্রকাশ: কেমন আছেন? বসন্ত কেমন কাটছে?
সা. মো  || আলহামদুলিল্লাহ। ভালো  আছি। এইতো বসন্ত কাটছে ফুলে ফুলে। চোখ বুলিয়ে গাছে গাছে। হা হা….. 
পাতা প্রকাশ: আপনার লেখালেখির শুরুর গল্পটা শুনতে চাই…
সা. মো || গল্পটা…… ১৯৯৬ সাল। ক্লাস টেনের কথা। স্কুলে গেছি। বৃষ্টির দিন। ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি কম। ছবি আঁকতাম। চক নিয়ে ব্লাক বোর্ডে একটা ছবি আঁকলাম। গ্রামের দৃশ্য। আমার এক সহপাঠী ; নাম শহীদুল। বললো, “তুইতো দারুণ ছবি আঁকিস। একটা ছবি একে অংকুর মেলায় পাঠিয়ে দে। “সেই সময় রংপুরের জনপ্রিয় দৈনিক যুগের আলো’র শিশু-কিশোর পাতা অংকুর মেলার সম্পর্কে আমার জানা ছিলোনা। অংকুর মেলা’র সাথে পরিচয় হলো। ছবি এঁকে পাঠালাম ; ছাপা হলোনা। ১৯৯৭ সাল। গ্রীষ্ম সংখ্যার ঘোষণা এলো। ” গ্রীষ্মের গরমে ” শিরোনামে ছোট্ট একটা ছড়া লিখে পাঠালাম। প্রথম লেখা প্রকাশ হলো পত্রিকায়। সে কী আনন্দ…….. তারপর থেকেই চলছে।               
পাতা প্রকাশ: ছোটোবেলায় জীবনের লক্ষ্য কী ছিলো? তা কি হতে পেরেছেন?
সা. মো  || ছোট্টবেলা থেকে এন্ড্রু কিশোরের গান শুনতাম ; ভীষণ ভালো লাগতো -এখনো ভালো লাগে। লক্ষ্য ছিলো একজন নামকরা কন্ঠ শিল্পী হবো। হতে পারিনি। লক্ষ্যটা ঢিলেঢালা ছিলো বোধয়! হা হা।                  
পাতা প্রকাশ: আপনি নিজেকে কি ছড়াকার ভাবেন? নাকি অন্যকিছু?
সা. মো || সাহিত্যের এই শাখাটা আমার কাছে  ভীষণ কঠিন মনে হয়। অনেক নিয়ম, ছন্দ-অন্তের অনেক হিসেব! সাহিত্যের এই শাখাটা বিশাল সাগর হলে আমি সেই সাগরের এক ফোঁটা পানি। নিজেকে ছড়াকার ভাবতে পারিনা। ছড়ার পাঠক হতে পেরেছি মনে হয়।                 
পাতা প্রকাশ: নিজের বই নিয়ে উপলব্ধি কী?
সা. মো || প্রকাশনা সংস্থা বাবুই  থেকে “তিন বন্ধুর ছড়া ” নামে একটা যৌথ ছড়ার বই বেরিয়েছে ২০১৭ সালে। পাঠকের প্রতিক্রিয়া থেকে উপলব্ধি করেছি – একটি বইয়ে কেবল এক শ্রেণির পাঠকের জন্যই লেখা থাকা উচিৎ। মানে – শিশুদের জন্য হলে সব লেখাই শিশুতোষ এবং কিশোর – কিশোরীদের জন্য হলে  সব লেখাই হতে হবে কিশোর উপযোগী। “তিন বন্ধুর ছড়া” তে দুই ধরনের লেখা ছিলো ; এটা ঠিক হয়নি।                          
পাতা প্রকাশ: আপনার কাছে ছড়া কী?
সা. মো || আমার কাছে ছড়া হচ্ছে -অনেক গন্ধের একটি ফুল। যা দিয়ে সব ধরনের মানুষের ভালবাসা পাওয়া যায়।          
পাতা প্রকাশ: আপনার মাথায় ছড়ার ইমেজ কীভাবে আসে?
সা. মো || নানান ভাবে আসে। যেমন ধরুন -পাবলিক বাসে চড়েছি। নানান মানুষের নানান কথায় বিশেষ একটি বিষয় নিয়ে কথা শুরু হলো। একেক জনের একেক মন্তব্য। সেগুলো শুনে শুনে মাথায় একটা অন্ত চলে আসে – যেমনঃ”বলছে যা ওই যাত্রী শুনছে কি তা তার বিষয়েরপাত্র এবং পাত্রী? “আসলে লেখার ইমেজ কখন কিভাবে আসবে বলা মুশকিল।    
পাতা প্রকাশ: আপনি কার ছড়া বেশি পড়েন? বিশেষ কারও কবিতা কি আপনাকে প্রভাবিত করে?
সা.মো || অনেকের ছড়াই পড়ি। হাতের কাছে যা পাই পড়ে ফেলি। তবে, অতি চমৎকার অন্তমিলের একটি ছড়া বারবার পড়ি ; পড়ে মজা পাই। সে ক্ষেত্রে জগলুল হায়দার ভাইয়ার ছড়া আমাকে ভীষণ কাছে টানে। হ্যাঁ। যদিও নিজে লিখিনা ; তবুও কবিতা আমাকে দারুণ প্রভাবিত করে। 
পাতা প্রকাশ: ইদানিং আপনি গল্পও লিখছেন। গল্প নিয়ে কোন পরিকল্পনা কী? 
সা. মো || হঠাৎই একটি গল্প লিখলাম -“পরী- পাত্রী। ” দারুণ সাড়া পেলাম। দু চারজন ইতিবাচক মন্তব্য করলেন। এমনটা আশা করিনি। পরিকল্পনা আছে কয়েকটা গল্প দিয়ে একটা বই করার।            
পাতা প্রকাশ: সবশেষে, লেখক হিসেবে চূড়ান্ত লক্ষ্য কী?
সা. মো || চুড়ান্ত লক্ষ্য হলো – তাড়াহুড়ো না করে সময় নিয়ে ভালো কিছু লিখে নিজেকে প্রকাশ করা।

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge