মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন

সালিশ-মাসুম মােরেশদ

সালিশ-মাসুম মােরেশদ

সালিশ
মাসুম মােরেশদ

বাদ মাগরিব সালিশ বসেছে।লোকজন ঠাসা।ছেলেপক্ষ ছাড়াছাড়ি চাচ্ছে আর মেয়েপক্ষ চাচ্ছে মিমাংসা করে সংসারটা হোক।মেয়েপক্ষের অবস্থা তেমন ভাল নয়।
যাক, মেম্বার সাহেব শুরু করে বললেন, মোফা, ক্যানে বাবা তুই সংসার করব্যার চাইস না?তোর বৌয়ের কী দোষ, ক?
সালিশ বৈঠকে উপস্থিত দুইপক্ষের লোকজনসহ সবাইকে কথা না বলতে, গণ্ডগোল না করতে অনুরোধ করলেন মেম্বার সাহেব।
ততক্ষণে মোফাজ্জল দাঁড়িয়ে সালাম দিয়েছে।মেম্বার সাহেব বসে পড়লে মোফাজ্জল চতুর্দিক চোখ ঘুরিয়ে সবটা দেখে নিল।যেন যুদ্ধের মাঠে শত্রুদের দেখে নেয়া, পরে দ্রুত কৌশল ঠিক করা।পাশাপাশি নিজপক্ষীয় লোকজন দেখে মনেমনে নিশ্চয় আশ্বস্ত হল সে।জোরে একটা দম নিয়ে বলতে শুরু করল।
মহিলাদের জটলা একদিকে।সেদিক থেকে সখিনার কান্নার আওয়াজ আসছে।
সংসার ভেঙে যাওয়ার আসন্ন আশংকা বুকের ভেতর।
মোফাজ্জল বলতে লাগল, মুই ছকিনার সাথে সংসার করব্যার ন।অয় খুব খারাপ বেটিছাওয়া।উয়ার সাথে সংসার করা পাপ হৈবে।তায় একটা বদের বদ।সারা বাজারে উয়ার দুন্নাম।
মেয়েপক্ষের একজন মুরুব্বী খুব রাগ করে বললেন, কী খারাপ বাহে, কিসের বদ তায়, খুলি কন?বিয়াও হবার একবছর পার হৈছে, হটাৎ করি কন, ছকিনা খারাপ বেটিছাওয়া।হামার চোখের সামনোত ছোট থাকি বড় হৈল্, বিয়াও হৈল্।আর আইজ তোমার বাড়িত সংসার করবার আসি তার দোষ বেড়াইল তায় ভালবাসা করি বেড়াইছে!
সখিনার বাবার বাড়ির এলাকার মুরুব্বীর কথায় অনেকে হৈচৈ শুরু করল।ছেলেপক্ষ খুব চটে গেল মুরুব্বীর উপর।তাদের অনেকেই মুরুব্বীকে ইঙ্গিত করে যা তা বলতে লাগলেন।
মেম্বার সাহেব খুব জোরে চিৎকার করে খুব রাগ দেখিয়ে সবাইকে শান্ত করলেন।উপস্থিত অন্য মুরুব্বীরাও মেম্বারের সাথে সুর মিলিয়ে সবাইকে থামালেন।
বাবা, মোফা, তুই বইস তো।তোর বৌর কাছোত শুনি।তোর বাকি কতা পরে শোনমো এলা।তুইতো বাড়ি বাড়ি সবাকে সৌগ খুলি কয়া কয়া ডাকাছিস এটে।
অন্য এক মুরুব্বী বললেন।
মোফাজ্জল আরও কিছু বলতে চাচ্ছিল।কিন্তু মেম্বার সাহেব থামিয়ে দিলেন।তিনি এবার সখিনাকে দাঁড় করালেন।কনতো বাহে ছকিনা, কি নিয়া তোমার গণ্ডগোল?
সখিনা চোখ মোছে, নাক মোছে আর বলতে থাকে।হামার সুখের সংসার।কোন ঝামেলা নাই।ওমরা (মোফাজ্জল) সারাদিন বাজারোত দোকান করে আর মাও (শ্বাশুরী) আর মুই হাঁস, মুরগী, গরু ছাগল পালি আর সংসারের কামকাজ করি।সবায় মিলিমিশি আছি।কোন ঝামেলা নাই।সাতদিন হৈল, গত শুকোরবার আইতোত তায় বাড়ি আসিল্, হাতমুখ ধুইল্।ভাত বাড়ি দিনু।চটকে ফ্যালে দিল্।কনু, কী হৈল্ তোমার, ভাতোত কোন পইল্ কী?কথা নাই কিছু, আজগুবি মোর চুল ধরি ঘুষায় আর কয়, মুই তোর হাতে আর খাবার ন।তুই বদ বেটিছাওয়া।ক, কয়টা তোর নাঙ?কয়জনের সাতে ভালবাসা কচ্ছিস, ক?
তামার কতা শুনি মোর মাথাত আকাশ ভাঙ্গি পইল্।ঘুই, ঘুই কন কী? কায় কী কইল্?কনু, তোরা কোনদিন দ্যাখছেন মুই অন্য কোন ব্যাটাছাওয়ার সাথে কথা কৈছো?
তায় কয়, তুই বদ বেটিছাওয়া।তোর সাথে সংসার করব্যার ন। কয়া আরও কয়টা চড়, থাপ্পড় দিল্।মুই তার পাও ধরি কনু, তোরায় মোর একমাত্র মানুষ।মুই জেবনে কারও সাথে সম্পর্ক করো নাই।তায় পাও ঝটকে দিয়া , ন্যাদেয়া (লাথি) ছুরি খোঁজে, তখনে মাও দৌড়ি আসি ঘর ঢুকি মোক বাঁচে নিল্।নাইলে মোক মারি ফেলাইল্ হয়।মাও সৌগ শুনিয়া তামার ব্যাটার সাতে আগ হৈল্।তারপর থাকি মুই মার ঘরোত থাকো।
মোফাজ্জল তখন মাটিতে আঙ্গুল দিয়ে কি যেন লিখছিল।বাঘের ভয়ে সাবধানী হরিণের মতো দুই কান খাড়া করে সখিনার সব কথা শুনছিল।
সখিনা আবারও চোখের পানি, নাকের পানি মুছে বলতে লাগল, পরেরদিন সকালবেলা মোক কৈল্, চলি যা বাপের বাড়ি।আসিস না।তোর সাথে সংসার করব্যার ন।
কান্নাটা তার বাড়ল।
কাঁদতে কাঁদতে সে বলল, সেইদিন থাকি মোর হাতে খায় না, মোর সাতে কতা কয় না।আইজ মেম্বর সাইব, ময়মুরুব্বী আর ছারোক ডাকাইছে।আর মোর বাপের বাড়ির লোক ডাকে বিচার বসাইছে।মোক ছাড়ি দেবে, তালাক দেবে।
এবার সখিনা আরো জোরে জোরে কাঁদতে লাগল।গগণবিদারী সে কান্না।তার কান্না শুনে, দেখে অনেকে হা- হাপিত্যেস করতে লাগল।।মহিলাদের জটলায় কেউ কেউ চোখ মুচছে।কান্না ছোঁয়াছে নাকি সখিনার দুঃখে কাতর হয়ে সমবেদনা জানাতে এ কান্না, চোখ মোছামুছি-তা বোঝা গেল না।
সখিনা বলল, মোর কোন দোষ নাই, মোর সংসার ভাঙ্গেন না।মুই ওমাক ছাড়ব্যার ন।
একটা শোরগোল পড়ল।মেম্বার সাহেব সখিনাকে মহিলাদের দিকে যেতে বললেন।তার বাবার বাড়ির দিকের দুজন মহিলা তাকে জড়িয়ে ধরে বলল, আল্লা আছে।তোর জয় হৈবে।কান্দিস না।তার আঁচল দিয়ে তার চোখমুখ মুছে দেয় তারা।
মেম্বার সাহেব পরে মোফাজ্জলকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোর বেটিছাওয়া ভাল্ সব্বায় জানে।তা কার সাথে তার সম্পর্ক,
কোনটে এমার খারাপি দেখলু,
কোন চ্যাঙরার সাথে তায় ভালবাসা করে বা কচ্ছে? ক?
কিন্তু বুঝিশুনি কতা কৈস।পোরমান দেওয়া নাগবে কিন্তু।আন্দাজি দোষ দেখাপু, পোরমান নাই, তায় হবার নয়।
মোফাজ্জল দাঁড়িয়ে বলল, উগলা উয়ার ঢঙের কান্দোন।তোমারগুলার মন নরম হবার পায়, মুই গলবার ন।তোরা জানেন না, অয় বিয়ার আগোত ভালবাসা কচ্ছে অনেকগুলা চ্যাঙরার সাথে।মুই শোনছো সৌগ।মোরে দোকানোত পান খায়া কায়ো কায়ো মোর বেটিছাওয়ার খারাপ গল্প করে, খারাপ কতা কয়।ছি ছি, মুই কালসাপের সাতে সংসার পাতছো বাহে ,মুই উয়াক নিবার ন।
মহিলাদের সারি থেকে সখিনার গলা ভেসে আসে।আল্লার কিরা, মুই কারো সাথে ভালবাসা করো নাই।হামরা গরীব মানুষ।হামরা ক্যানে ইগলা করমো।নাক মোছে, চোখ মোছে আর কাঁদে।কেঁদে কেঁদে বলে সে।মরা কান্দোন তার, যেন তার খুব কাছের কেউ মারা গেছে।
শালিসে একজন হাইস্কুলের শিক্ষক ছিলেন।প্রত্যেকেই তাঁকে সম্মান সমীহ করেন।তিনি এলাকার সব বিচার, সালিশে থাকেন না।আজ এসেছেন।তিনি এতক্ষণ দেখছিলেন সব, শুনছিলেন সব।এবার তিনি কথা বলতে চাইলেন।সবাই তাঁকে শ্রদ্ধা করেন।অনেকে সায় দিয়ে বললেন, হ্যা, হ্যা, মাস্টার সাইব কন।
মেম্বার সাহেব সবাইকে থামালেন।পাশাপাশি সখিনাকেও তার কান্না থামাতে বললেন।সবার উদ্দেশ্যে বললেন, মাস্টার সাইব কি কয় শোনো সব্বায়।কতার মাঝোত কায়ো কোন কতা কন না।
মাস্টার সাহেব বললেন, আচ্ছা, মোফাজ্জলের মা কোথায়?তার মুখে কিছু শুনি।
মোফাজ্জলের মা মহিলাদের একটু সামনে ঘোমটা টেনে দাঁড়ান এবার।
মাস্টার সাহেব বললেন, আচ্ছা, মোফাজ্জলের মা, বলুনতো আপনার বৌমা কেমন মহিলা?
খুব ভাল্।
কামকাজে খুব চালু।
বৌটা আইসার পর থাকি হামার সংসারটা উজাল হৈছে।মোরো আরাম হৈছে।
সখিনার খারাপ কিছু কাণ্ড বা ঘটনা দেখেছেন কোনদিন?মাস্টার সাহেব জিজ্ঞেস করলেন।
না, না, না।
তায় ঠনঠনা।
কোন খারাপি দ্যাখো নাই, ক্যানে আন্দাজি মিছা কতা কঁও।
আচ্ছা, থামুন, যান।মোফাজ্জল তুমি বাবা একটু দাঁড়াও।
সে দাঁড়ায় আবার।বাবা, তোমাকে কটা প্রশ্ন করি, ঠিকঠিক জবাব দিও।
পিনপতন নিরবতা তখন।
মোফাজ্জল বলে, জি, ছার, ঠিক আছে।
তোমার বিয়ে হবার কদ্দিন হল?
জি, একবছর ছার।
শোন, এই একবছরে তোমার বাড়িতে তোমার বৌ সখিনা বেগমের কোন খারাপ কিছু দেখেছো?
না বোধক মাথা ঝাঁকায় সে।
কিংবা দূর বা কাছের কোন পুরুষের সাথে অযথা কথা বলে, খারাপ কিছু করে, দেখা করে?বা অন্য কিছু?
আবারো না-বোধক মাথা ঝাঁকুনি।
তোমার পরিবারে এসে সে সন্দেহজনক কিছু করেছে কোনদিন?তুমি বা তোমার মা তাকে হাতেনাতে ধরেছো-এমন কিছু?
সখিনার শ্বাশুরি মহিলাদের জটলা থেকে মাথা বাড়িয়ে বলল, না, বাহে মাস্টারের ব্যাটা, বৌটা কারও সাথে মেশে না।
সারাদিন বাড়িতে থাকে,
বাড়িরে কামকাজ করে।
অদান নোয়ায়।
মোফাজ্জল তার মায়ের কথায় কথা বলল না বা কথা ধরল না।এখন সে মাথা হেট করে ডান পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে মাটি খুঁচছে।
আবার শোরগোল পড়ল।
এবার মেয়ে পক্ষের চেঁচামেচি।তারা মোফাজ্জলকে দেখে নিবে, পুলিশে দিবে-হুমকি দিতে লাগল।
ছেলেপক্ষের লোকও কথা বলতে ছাড়ছে না।বলছে, উগলার ভয় দেখান না-তো। কোর্ট, পুলিশ হামারো পকেটোত আছে।
গরম বাতাস বয়।দুপক্ষের সাটাসাটিতে আবার একটু হৈচৈ শুরু হয়।
মাস্টার সাহেব, মেম্বার সাহেব সবাইকে থামতে বললেন।মুরুব্বিরা দাঁড়িয়ে সবাইকে থামালেন।
মাস্টার সাহেব মোফাজ্জলকে বসতে বলে সবার উদ্দেশ্যে বলতে লাগলেন, তারা বিয়ে করেছে একবছর।এই একবছরে কোন খারাপ কিছু তার বাড়ির লোক বা মোফাজ্জল দেখেনি।তার মানে হচ্ছে মোফাজ্জল বাজারে দোকান করে।কেউ ইচ্ছে বা অনিচ্ছায় হোক মোফাজ্জলকে আজেবাজে কিছু বলেছে বা অন্য কোনভাবে সে শুনেছে তার বৌ সখিনা কারো সাথে বিয়ের আগে ভালবাসাবাসি করেছে।
অনেকেই বলল, হ্যা, হ্যা, ঐটায় কথা।
তিনি আবার বললেন, হতে পারে মোফাজ্জলের সাথে বিয়ের আগে মেয়েটিকে কেউ ভালবাসার কথা বলেছে।সখিনা হয় ভালবাসা করেছে অথবা করেনি।কিন্তু তার সেসব খোঁজ-খবর নিয়েই মোফাজ্জল বিয়ে করেছে, নাকি?যেহেতু সখিনা বেগমের বাড়ি পাশের গ্রাম-খুব দূরে নয়।
ঠিক ঠিক।-আবারও অনেকেই বললেন।
হঠাৎ এতদিন পর সে প্রসঙ্গ টেনে বৌকে মারধর করা, সংসার না করতে চাওয়া বোকামো এবং ঘোর অন্যায়, নয় কি?
মেম্বার সাহেবসহ সবাই মাথা ঝাঁকালেন, ফিসফিস কথাও হচ্ছে।
মাস্টার সাহেব মোফাজ্জলকে উদ্দেশ্য করে বললেন, বাবা মোফাজ্জল, তোমাকে বুদ্ধিমান জানি।দিন দিন তোমার দোকানের উন্নতি হচ্ছে ।পানের দোকান বড় করে গালামাল করেছো।সৎ দোকানদার হিসেবে খুব কম বয়সে তোমার সুনাম আছে।খুব ভাল ব্যবহার এবং বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ না হলে এত দ্রুত উন্নতি হত না।তোমার প্রশংসা সবার কাছে।তা তোমাদের সংসার নিয়ে সালিশ বসবে-এটাই আমার কাছে আশ্চর্যের ব্যাপার।তাই নয়কি, কি বলেন সবাই?
মেম্বার সাহেব বললেন, মাস্টার সাইব সৌগে ঠিক কতা কৈছে।হামার মোফার দোকান দিন দিন বড় হবার নাগছে।কাঁচা বাড়ি পাকা করি ফেলাইছে।ঘরের বৌ ভাল না হৈলে ইগলা সম্ভব নোয়ায়।
একজন মুরুব্বি বললেন, তায় কিনা মাইসের কু-কতা শুনি বৌক বাইর করি দেয়।তালাক দিবার চায়।ছাড়ি দিবার চায়।বোকার বোকা দ্যাঁখো।
মাস্টার সাহেব বললেন, তা মোফাজ্জল তোমার মতো বুদ্ধিমান, চালাক, চতুর ভাল মনের মানুষ, অন্যের কানকথা, অকথা, কুকথা শুনে সুন্দর আর কাজে কর্মা বৌকে মারে,
পিটায়,
বের করে দিতে চায়-এটা মানা যায়?এটা কি ঠিক?
অনেকেই সমস্বরে না না বলে।
এর মধ্যে একজন মুরুব্বী রাগ করে বললেন, সব্বায় যে গণ্ডগোল করবার নাগচেন। চোপো সব্বায়।যাহোক, মেম্বার, কতা আর না বাড়ান, দ্যাও, ফয়সালা টানি দ্যাও।
মেম্বার সাহেব খুব খুশি মুখে বললেন, সৌগে শুননো, সৌগে বোঝনো।তোমরা যারা এটে আছেন, তারাও বোঝছেন।নাকি নাই বোঝেন?
ছার, কন কি করমেন, তোরায় কন।মোর তো মনে কয় মোফাও সৌগ বোঝছে।তার ভুল ভাঙছে, নাকি মুরুব্বি?
হ্যা, সোজা সোজা কতা সৌগ, না বুঝার কি আছে?ছেলেপক্ষের একজন মুখ খুললেন।
মেম্বার সাহেব সবাইকে থামালেন।বললেন, শেষের কতাগুলা কন মাস্টার সাইব।
মাস্টার সাহেব সবাইকে সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদ দিলেন, বললেন, সংসার কঠিন কোন বিষয় নয়।আবার খুব সহজও নয়।এখানে আমার আর কোন বলার নাই।সবার মতো আমিও বুঝেছি, আশাকরি মোফাজ্জলও তার ভুল বুঝেছে।
মোফাজ্জল কি ভুল ভাঙছে তোমার?
মোফাজ্জল কাঁচুমাচু হয়ে
ভুল স্বীকার করে করজোরে মাফ চাইল।

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge