সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩২ অপরাহ্ন

শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৪ ।। থাকছে রংপুর বিভাগের ৩টি স্টল

শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৪ ।। থাকছে রংপুর বিভাগের ৩টি স্টল

পাতাপ্রকাশ প্রতিবেদক >>
মহান ভাষা আন্দোলনের অমর শহিদের স্মৃতিতে আজ শুরু হচ্ছে বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে বইমেলা ২০২৪। এবারের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য- পড়ো বই গড়ো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। মেলায় রংপুর বিভাগের ৩টিসহ মোট ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠানের স্টল থাকছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বইমেলা উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেন।
অমর একুশে বইমেলা ২০২৪-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বেশ কয়েকটি নতুন বইয়ের গ্রন্থ-উন্মোচন করবেন এবং বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৩ প্রদান করবেন।
অমর একুশে বইমেলা ২০২৩-এর সদস্য সচিব রংপুরের কৃতি সন্তান ডা. কে এম মুজাহিদুল ইসলাম লাবীন জানান, এবার বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে ১১ লাখ বর্গফুট জায়গায়। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৩টি এবং সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৬৪টি ইউনিট অর্থাৎ মোট ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৯৩৭টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় ৩৭টি (একাডেমি প্রাঙ্গণে ১টি ও সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬টি) প্যাভিলিয়ন থাকবে।
এবার বইমেলার বিন্যাস গতবারের মতো অক্ষুণ রাখা হয়েছে তবে কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে মেট্রোরেল স্টেশন-এর অবস্থানগত কারণে গতবারের মেলার বাহির-পথ এবার একটু সরিয়ে মন্দির-গেটের কাছাকাছি স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউশন অংশে মোট ৮টি প্রবেশ ও বাহির-পথ থাকবে।
খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিটিউশনের সীমানা-ঘেঁষে বিন্যস্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, খাবারের স্টলগুলোকে এবার এমনভাবে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে যেন এলোমেলোভাবে খাবারের স্টল বইমেলায় আগত পাঠকের মনোযোগ বিঘিœত না করে। নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ অন্যান্য পরিষেবা অব্যাহত থাকবে।
গতবছরের ন্যায় শিশুচত্বর মন্দির-গেটে প্রবেশের ঠিক ডান দিকে বড় পরিসরে রাখা হয়েছে, যেন শিশুরা অবাধে বিচরণ করতে পারে এবং তাদের কাক্সিক্ষত বই সহজে সংগ্রহ করতে পারে।
এবার লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়েছে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায়। সেখানে প্রায় ১৭০টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫% কমিশনে বই বিক্রি করবে।
প্রতিদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে সেমিনার এবং সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বাংলা একাডেমির ৩টি প্যাভিলিয়ন এবং শিশুকিশোর উপযোগী প্রকাশনার বিপণনের জন্য ১টি স্টল থাকবে। প্রতি শুক্র ও শনিবার মেলায় সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে। অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি এবং সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকছে। সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে।
বইমেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। নিñিদ্র নিরাপত্তার জন্য মেলায় এলাকাজুড়ে তিন শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বইমেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে। মেলাপ্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় (সমগ্র মেলাপ্রাঙ্গণ ও দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি হয়ে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত এবং দোয়েল চত্বর থেকে শহিদ মিনার হয়ে টিএসসি, দোয়েল চত্বর থেকে চাঁনখারপুল, টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত) নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে। মেলার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মিত ধূলা নিবারণের জন্য পানি ছিটানো এবং প্রতিদিন মশক নিধনের সার্বিক ব্যবস্থা থাকবে।
অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০২৩ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশককে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ এবং ২০২৩ সালের বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের মধ্য থেকে শৈল্পিক বিচারে সেরা বই প্রকাশের জন্য ৩টি প্রতিষ্ঠানকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। এছাড়া ২০২৩ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থের জন্য ১টি প্রতিষ্ঠানকে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং এ-বছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হবে।
এবারের গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি প্রকাশ করছে নতুন ও পুনর্মুদ্রিত ১০০টি বই।
বইমেলার সময়সূচি
এবারের বইমেলা অধিবর্ষের বইমেলা। ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রাত ৮:৩০টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না।
ছুটির দিন বইমেলা চলবে সকাল ১১:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।
২১শে ফেব্রুয়ারি মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মেলা শুরু হবে সকাল ৮:০০টা এবং চলবে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।
উল্লেখ্য, রংপুর বিভাগ থেকে প্রথম ২০০৯ সালে লালমনিরহাটের পূর্বা প্রকাশনী (স্টল নং ২১৬) প্রথম অমর একুশে বইমেলায় প্রতিনিধিত্ব করে। বিভাগীয় শহর রংপুর থেকে আইডিয়া প্রকাশন (স্টল নং ৫৭৯) অ্যাড আইডিয়া নামে ২০১৭ সালে প্রথম প্রতিনিধিত্ব করে এবং তারা সৃজনশীল নানা প্রকাশনা পাঠকদের উপহার দিয়ে চলেছে। একই বছরে রংপুরের আরও একটি সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পাতাপ্রকাশ রংপুর (স্টল নং ২০৫) লিটলম্যাগ চত্বরে প্রতিনিধিত্ব করলেও গতবছর থেকে মূল স্টল নিয়ে অমর একুশে বইমেলা ২০২৪-এ অংশগ্রহণ করেছে।
সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পাতাপ্রকাশ এর প্রকাশক শাকিলা পারভীন জানান, রংপুরের সাহিত্যাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করতে এ অঞ্চলে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে। এ জগতকে সমৃদ্ধ করতে প্রতিনিয়ত কাজ করছি আমরা। প্রকাশনা জগতে রংপুর এখন অনেক সমৃদ্ধ। অনেক কোয়ালিটি কাজ আমরা করছি। এর ফলে রংপুরের বাইরের এমনকি ঢাকার লেখকদের বইও এখন রংপুরে ছাপা হচ্ছে। এবছর বইমেলাকে ঘিরে বই প্রকাশের চাপ অনেক বেড়েছে।

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge