মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন

শিশুতোষগল্প # ভুতনানের বন্ধু-তাজনিন মেরিন লোপা

শিশুতোষগল্প # ভুতনানের বন্ধু-তাজনিন মেরিন লোপা

ভুতনান এর জন্যে বেশি মন খারাপ বাবানের। আর নতুন স্কুলটাকে মন যেন; ‘রুড‘, সব টিচাররা কেমন ‘এ্যাঁই এ্যাঁই‘ করতেই থাকে। বাবান একটু বেশিই ভদ্র; তাই আরও ভয়ে ভয়ে থাকে। কেউ একটু বকা দিলেই খুব কষ্ট হয়, ‘গিল্ট‘ ফিলিং হয়। সব বন্ধুদের ফেলে এসেছে আরেক দেশে। ওখানকার টিচারদেরও অনেক মিস করে। স্বপ্নছিল, ইয়ার থ্রিতে পড়বে ওখানে, সেটাও হলো না। আর এর মধ্যে ভুতনান ওকে প্রমিজ করেছিল, সে তার সাথে থাকবে। ভুতের রাজ্যে ওরা জন্মের ছয়মাস পরেই একা থাকতে পারে। মাঝে মাঝে সবার সাথে দেখা করে; গেটটুগেডার করে। কি সুন্দর সব একা একাই করে। তাই সেদেশে ফেরার সময় বাবানের সাথে আসতে চেয়েছে। ওর কি একটা কাজ ছিল তাই বলল, পরের ফ্লাইটে আসবে। এতো দূরের রাস্তা, তাই আর উড়ে আসতে চায়নি। কিন্তু বাবানের তো ভালো লাগছে না। মাঝে মাঝে মনে হয় ভুত হলেই ভালো হতো; কষ্ট কম হতো!

আজকে ক্লাসে নতুন একটা ছেলে এসেছে। এরমধ্যে অবশ্য ক্লাসে চারটা বন্ধু হয়েছে বাবানের। স্কুলের তৃতীয় দিন করিডোরে খেলার সময় কয়েকটা বড় ছেলে তাকে ঘিরে ধরলো। তারপর বলল, নাচের মতো হাত-পা নাড়তে। ও নাড়ছিল; ভালো না লগলেও ভদ্রবাচ্চার মতো যা বলছিল, করছিল, না করলে যদি আবার বকাদেয়! এই ভয়ে। ঐ সময় ওদের ক্লাসের একটা ছেলে এসে ওকে নিয়ে গেল। এরপর বুঝেছে, বড় ছেলেগুলি নতুন কাউকে পেয়ে মজা নিচ্ছিল। যেটাকে “বুলিং“ বলা যায়। এই ছেলেটার সাথে বাবানের বন্ধুত্ব হয়ে যায়। এরপর শাফকাতের আরও তিনটা বন্ধু বাবানের বন্ধু হয়ে যায়। এরা সবাই একটু বড় ওর। তাই ওরা ওকে একটু সবকিছু থেকে প্রোট্রেক্ট করেরাখে। খুবকেয়ারিংসবাই। আজকেরক্লাসেরনতুনছেলেটাকেদেখেবাবানেরপ্রথমদিনেরদুরুদুরুবুকেকাটানোসময়েরকথামনেপড়েগেল। ব্রেক টাইমে সে দেখে নতুন ছেলেটাকে একটা মেয়ে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে পথ আটকে আছে। ছেলেটা কি করবে ঠিক বুঝতে পারছে না। বাবান দেখেই বুঝেছে, এই সেই দুষ্টু মেয়েটা, তাদের সাথেই ক্লাস ওয়ানে পড়ে, বয়সে বড়, আবার লম্বাও। বাবানকে গালটিপে দিয়েছিল স্কুলের চতুর্থ দিনেই। খুব খারাপ লাগা আর রাগ হচ্ছিল, কিন্তু কিছু বলতে পারেনি। বন্ধুরাও কাছে ছিল না, তাই এই সুযোগে এমন করেছে। এই নতুন ছেলেটাকেতো এর হাত থেকে বাঁচাতেই হবে। বাবান একটু কাঁপতে কাঁপতেই এগিয়ে যায়, পাশকাটিয়ে ছেলেটার হাত ধরে নিয়েই ক্লাসে ঢুকে পড়ে। যাক, সমস্যা হয়নি। নতুন ছেলেটা খুব খুশি হয়। ওকে হাগ করে। বাবানের ভালো লাগে।

অবশ্য এখন আর এই স্কুল তার নতুন লাগে না। টিচারদেরও এতো ‘রুড‘ লাগে না। আর পড়াতো সে সব পারেই। একাও লাগে না, বন্ধুরা আছেতো। সে নতুন ছেলেটাকে দেখে কেন তাকে খুব চেনা লাগে। কেন মনে হয় তার হাঁটা, কথা বলা, হাসি কোন কিছুই নতুন না। কতো আগে থেকে তার সাথে খেলে, ঘুরে বেড়ায়। সে নাম জিজ্ঞেস করবে তখনই ক্লাসের ঘন্টা পড়ে যায়।

পরদিন সকালে বাবান ভারী ব্যাগ নিয়ে খুব কষ্টে সিঁড়ি উঠছিল। কাউকে বললেই ব্যাগ উঠিয়ে দেবে, কিন্তু এটা সে করতে চায় না। শুধু শুধু হেল্প নিতে ভালো না তার। এর মধ্যে হঠাত কেউ তার ব্যাগ নিয়েই ছুটে গেল। চিতকার দেবে নাকি কান্না করবে ভাবতে ভাবতেই উপরে উঠে দেখে নতুন ছেলেটা। দেখেই হেসে দিলো। কিন্তু স্পিড কিভাবে সম্ভব মানুষের, তা ও ক্লাস ওয়ানের বাচ্চা কিভাবে পারবে! খুব অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ছেলেটার দিকে, নামটাও জানা হয়নি নতুন বন্ধুর। বাবান ভ্রু কুঁচকিয়ে ভাবছে আর ছেলেটা হাসি মুখে। এরমধ্যে বাবান খেয়াল করলো সে ফ্লোর থেকে একটু উপরে উঠে গেছে, অবাক হয়ে তাকিয়ে বাবান ভীষণ আনন্দের এক চিতকার দিল, ভুতনান! কইছিলে এতাদিন!

ভুতনান এতোদিন বাবানের সাথে সাথেই ছিল। দেখা দেয়নি। সে বাবানের কাছে প্রথম থেকেই থাকলে এই বন্ধুত্ব কিভাবে হতো? আর বাবান তার বন্ধুদের সাথে এতোএতো গল্প করেছে ভুতনানের যে তাকে না দেখেই সবাই ওর বন্ধু হয়ে গেছে। এতো এতো সব ভালোবন্ধু পাওয়াতো সত্যিই ভালো লাগা আর গর্ব করার মতো!

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge