সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন

রিপা নূর এর ১০ কবিতা

রিপা নূর এর ১০ কবিতা

১. অপরিচিত মানুষ

কে আসবে না, ভীষণ অসম্ভবে,ভীষণ অসুখে শুয়ে থাকা বেডে
সুর ছাড়া তাল সেই অপরিচিত মানুষ ,
কে আসবে না,ভীষণ আনন্দে,সুখের দিনে, খুশির ঢলে তাক ধিন
মানুষের মতো দেখতে, তাকে বলে ফানুস ।
কে আসবে না,হুড়মুড় ছুটে ছুটে,ঘুটঘুটে অন্ধকারে,বেকারজীবনে
সুর ছাড়া তাল সেই অপরিচিত মানুষ,
কে আসবে না,কবিতার কাছে কবিরকাছে,জীবনের মায়ার কাছে
সুর ছাড়া তাল সেই অপরিচিত ফানুস ।

২. দুই জন মিলে

যদি দুই জনের চাওয়াই দুই জনের কাছে যাওয়া
তবে পথ আঁকা বাঁকা হবে না,
যদি দুই জনের বাড়িয়ে দাওয়া হাত এক হাতে পাওয়া
তবে শক্ত যেনো দুইহাত,
যদি দুই জনের বিশ্বাস থাকে দুইজনাতে তবেই পাওয়া
উপরে উঠার স্বপ্ন মই,
যদি দুই জনের হৃদয়ে ,একটা টান হয় দুই জনের জন্যে
তবেই হৃদয়ে নামবে সিঁড়ি
তারপর
সিঁড়ি বেয়ে নামবে দুইজন মেঘের বাড়ি চাঁদের দেশ
তারপর
দুইজন মিলেই বৃষ্টি নামাবে কচুর পাতায়, পদ্ম পাতায়।

৩. স্বভাব

ময়ুরের পাখা মেলে ধরে ময়ুর, ডানা নেই,তাই ডানা কেটে ফেলার কষ্ট, মযুরের থাকে না ,
ফুল ফোটে,সৌন্দর্য ও গন্ধ বিলাবার জন্যে,কেউ তাকিয়ে বাজে
মন্তব্য করলে, তাতে সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলে না,
প্রেম টানে প্রেমের দিকে,ভুল বললেও ক্ষমা হয়ে যায় কাছে এসে, হাত ধরে পাশাপাশি ভালোবেসে ,কেউ চাইলেও ভেঙে যাবে না,
মনের ধিক ধিক শব্দ , ঠিক রাস্তা করে নেবে ধিক ধিকের ,
ভালোবাসায় ভালোবেসে,বাজে মন্তব্যে ভালোবাসাকে ছেড়ে যাবে না।

৪. এক জীবন তোমার আমার

কেমন করে বোঝো বলো,নির্জনতায়ও নিজের মাঝেতুমি থাকো,
আমার মাঝে বসে থেকে নিজে বাঁচো আর আমাকেও আজ
বাঁচিয়ে রাখো
এখনও আমার নির্জনতায় নিজের মাঝে সেই শরতের ছোঁয়াই থাকে,
তাইতো আমার ভালো লাগে শরৎ আকাশ,আর ভুতের মতো রাজবাড়ীটা,
ভালো লাগে শরৎ আলো,খোলা মাঠ, খোলা দুযার মুক্ত আকাশ,
ভাল লাগে তোমার দেয়া সেই আলো আর আমাদের সেই নাকফুল
তোমার ছোঁয়া ছিলো বলে , নির্জনতায়ও যাইনি ভুলে
অবসরে তোমার চাওয়ায় মিলিয়ে নিলাম গ্রহণ করে
একটি জীবন, তোমার আমার, ভাসিয়ে নিলাম ,পদ্ম পাতার জলে
কেমন করে বোঝো বলো ,নির্জনতায় ও নিজের মাঝে তুমি থাক
এখন আমার সব সকালে চাবির গোছায় আঁচল উড়ে
সকল প্রকার কষ্ট গুলো চাবির গোছায় সাহস হলো
এখন আমার আঁচল মানে চাবির গোছায় তোমার অহংকার ।
আলো ও শঙ্খের এক শারদীয় এক জীবনে একটি জীবন
তোমার আমার ।

৫. তোমার কোলেই বাংলার বসন্ত নেমেছে

এখানে এখন হাসবে না রঙিন ফুল, কৃষ্ণচূড়া ডালে শালিখ বসবে না
এখানেও ভোর হয় , পাখি ডাকে পাখি উড়ে ডেফোডিল ভাগ করে নেয় প্রজাপতি ,
আজ এখানে এখনও ডাকেনি কোকিল , হাজারো মেয়েরা পড়বে না লাল
নীল হলুদ টিপ,
শীতের ঠান্ডা সাদা বরফেও
বাংলার ঋতুতে ঋতুরাজ এসেছে,এসেছে আমাদের মনেও
ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত ।
আর আজ, এখানে এখন, সাদা বরফ মাটিকে ঢেকে, মাটির উপরে
বানিয়ে রেখেছে কাঁচ ।
তবুও বসন্ত আজ , রমনার বটমূলে বসন্ত উৎসব ।
এই সাদা বরফের কাঁচের উপরে বাঙালির মনেও বাজে বসন্তের বাংলা গানে,
কাজের ফাঁকে নিজেকেও সাজিয়ে তোলে বাসন্তী বানিয়ে।
তারপরও সাদা বরফে কাঁচের উপরেই আমরা দুজনে সেজে উঠি
বসন্তের আগুনের ফুল হয়ে।
সেজে উঠি বাংলার ঋতু রাজ বসন্তের জন্যে ।

৬. আমাদের সময়

তিরিশ বছর আগে, বসে ছিলাম ঘাসে, আর আজ মুখোমুখি চলারপথে,
সেই দিনের বাতাসে,সুর বেজেছিলো কানে,আর আজ কবিতায়
কাছে আসার গল্পে ,দূরে ছিলে অল্প,করেছিলে পূর্ন মনের ভান্ডারে
ঝড় বাতাস উড়ে, কানে পেতেছিলে বলে, বুঝেছিলে গল্পের মানে।
তোমার প্রথমত বাড়ি ফেরা হায়নি ছুটে যাওয়া প্রথম ট্রেনে
থেমে ছিলে সেই ঝড়ের রাতে হয়ে ছিলে যাত্রী এক পরের ট্রেনে।
তিরিশ বছর আগে কিছু হেঁটে কিছু রিক্সায় আর আজ গাড়িতে
পাশে রেখে পাশাপাশি ছিলে নদীর উপর ভেসে থাকা নৌকো
আর আজ ছুটে চলা যন্ত্র অভিজ্ঞতায় ভরপুর বেচেঁ থাকাবাস্তব

৭. একটা মানুষ ও একটা জীবন

অনেক কষ্টে
হাতরিয়ে হাতরিয়ে
তোমার হাত দুটোই খুঁজতে চাই।
হাসপাতালের
বিছানায় শুয়ে থাকা কষ্টে
হু হু করে কাঁদতে চাই ।
ভালোবাসার হাসিতে
কার্পাস তুলোর মত ফাটিয়ে
হা হা করে হাসতে চাই ।
হাতে হাত রেখে
সময়ের টানে একসাথে
চেনা রাস্তায় হাঁটতে চাই ।
অনুরাগ অভিমানেই
ছুঁয়ে দিতে চাই নুরকে
ছুটে যেতে চাই ফিরে ফিরে।
এক জীবনে
একটি সুন্দর আকাশ বানাবো
সেখানে মেঘ,বৃষ্টি,রোদ,জ্যোৎস্না রেখেই
তোমার হাতদুটোই খুঁজতে চাই ।
অনেক ভালবেসেই ভাসাতে চাই
একটা মানুষ
একটা জীবন ।

৮. সুন্দরী সোনামুখি

চোখে চোখে দুই চোখ
মেলে ধরে এক পলক।
সেই হাত সেই থেকে
এই হাতে এক সাথে ।
সেই কথা সেই থেকে
এক সাথে পাশে পাশে ।
সেই হাসি সেই সাথে
হেসে হেসে নাকে মুখে।
লেগে আছে দুই মুখে
মুখো মুখি হয়ে যাই।
সোনামুখী মিহি মিহি
মিহি মিহি সোনা মুখি
সোনা মুখী সুন্দরী
সুন্দর সোনামুখি
সুন্দরী সোনামুখি
সেই হাত পাশাপাশি।
চোখে চোখ দুই চোখ
মেলে ধরে এক পলক ।

৯. আমাদের মোড়ল

আমাদের মোড়ল ছুঁড়ে ফেলে দুর্গন্ধ নোংরা টাকে
আমাদের মোড়ল তুলে নেয় মাটির সুর ঢোলের তাল
আমাদের মোড়ল সোজা হাঁটে সোজা পথে পথের সাথে
বয়সের সাথে খুঁজে নেয় ঢেউ তুলে আনে রোদ্দুর সূর্য থেকে।

১০. নিম ফুলের মতো ভালোবাসা

নিম ফুলের নীল সাদায় ভেসে উঠবো ভালোবেসে,
কচুর পাতায় বৃষ্টি হবো জোড়া শালিক দেখে।
ওই তা কপাল গুনে, নিম ফুলের সাদা ও নিলে
ভালোবাসবো আর ভাসবো দুজন মিলে,
ওই তা কপাল গুনে, ওই সাদা ও নীল আকাশের গায়ে
ভাসবো দুজন মিলে ঝুলে থাকা চাঁদের জ্যোৎস্নায়,
দুজন মিলেই নিম ফুলের নীল ও সাদায় ভাসবো আর
ভালোবাসবো ।

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge