মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন

রাজনীতি # ছাত্র রাজনীতির ইতিহাস বনাম বর্তমান-আহসান হাবিব মারুফ

রাজনীতি # ছাত্র রাজনীতির ইতিহাস বনাম বর্তমান-আহসান হাবিব মারুফ

রাজনীতি নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার।

আর ছাত্র রাজনীতি একটি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি সচেতন প্রজন্ম তৈরি করতে অতি জরুরী একটি বিষয়। বিশ্বের ইতিহাসে বিভিন্ন সময় ছাত্র রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। উপমহাদেশের ইতিহাসেও ছাত্র রাজনীতির সুস্পষ্ট ছাপ লক্ষনীয়। আর বাংলাদেশের ইতিহাসের মুক্তিযুদ্ধ পুর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভূমিকা রেখেছে ছাত্র রাজনীতি।

তবে বর্তমানে ছাত্র রাজনীতি হারিয়ে ফেলেছে তার সঠিক রাস্তা। মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে ধুঁকতে থাকা ছাত্র রাজনীতি এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের পর থেকে নিয়েছে ভিন্ন মোড়। মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্র রাজনীতি কে হাতিয়ার হিসেবে রূপান্তরিত করেছে বলা চলে। যেই ছাত্র রাজনীতি দেশের প্রয়োজনে যেকোনো ইস্যুতে প্রতিবাদ করতো সেই ছাত্র রাজনীতি এখন রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীতে পরিণত হয়েছে।

ইতিহাস থেকে দেখা যায় ছাত্র সংগঠনগুলো রাজনৈতিক দলের সহযোগী হওয়া সত্বেও তাদের মধ্যে এক ধরণে স্বাতন্ত্র্য লক্ষনীয় ছিল। যা ধীরে ধীরে লোপ পেয়ে নিশ্বেষ হয়েছে। ক্ষমতা পাওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্নভাবে ব্যবহার করেছে এসব ছাত্র সংগঠনকে। ফলে যে দলই ক্ষমতায় এসেছে প্রতিদান হিসেবে ছাড় দিয়ে চলতে হয়েছে এই ছাত্র সংগঠনগুলোকে, দিতে হয়েছে সুযোগ সুবিধা। যার ফলে নিজেদের অস্তিত্বকে জানান দিয়ে সুবিধা পেতে এই ছাত্র সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময় অরাজকতা সৃষ্টি করেছে।

সে সময়ের বুয়েট ছাত্রী সনি থেকে এখনকার বুয়েট ছাত্র আবরার বলি হয়েছে এই রাস্তা হারিয়ে ফেলা ছাত্র রাজনীতির।

 

যেহেতু ক্ষমতায় আওয়ামিলীগ তাই স্বভাবতই আলোচনায় আওয়ামিলীগের ভাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। বঙ্গবন্ধু সব সময় বলেতেন ছাত্রলীগের ইতিহাস, বাংলাদেশের ইতিহাস। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বাণী উদ্ধৃত করা আছে। শেখ হাসিনা বলছেন: ‘উচ্চ আদর্শ এবং সাদামাটা জীবন- এই হোক তোমাদের জীবনাদর্শ’। বর্তমানে ছাত্রলীগের খুব কম নেতা কর্মীদের মাঝে এই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, যার প্রমাণ পত্রিকা খুললেই কিংবা চোখ কান খোলা রাখলেই দেখা যায়।

 

আবরার হত্যাকে কেন্দ্র করে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি ফেরানোর পক্ষের কর্মসূচিতে বলেছেন মাথা ব্যথা করলে মাথা কেটে ফেলতে হয় না। নি:সন্দেহে সঠিক কথাই বলেছেন।

তার কথার সূত্র ধরে একটি কথা আসে। মাথা ব্যাথার শুধু একটি কারণ থাকে না, কারো সাধারণ ব্যাথা, কারো ক্ষেত্রে মাইগ্রেন এর ব্যাথা আবার কারো ক্ষেত্রে প্রাণঘাতি ব্রেইন টিউমারেরও ব্যাথা হতে পারে। বুয়েটে ছাত্র রাজনীতির ব্যাথাটা আমার মনে হয় সেই প্রাণঘাতি ব্রেইন টিউমারের ব্যাথা।

বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি ফেরানো অবশ্যই জরুরী। কিন্তু তার আগে জরুরী মাথা ব্যাথার চিকিৎসা করানো, ব্রেইন টিউমার হলে অপারেশন করে টিউমার কে অপসারণ করা। একটি সুস্থ সুন্দর ছাত্র রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে তারপর বুয়েটে ছাত্র রাজনীতির প্রবেশ ঘটানো জরুরী। তা নাহলে মাথা ব্যাথা চিরস্থায়ী হবে আর সেই মাথা ব্যাথায় আমরা আবার হারাবো সনি কিংবা আবরার কে।

 

বুয়েটে রাজনীতি নিষিদ্ধ, যতদূর জানি সামাজিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ নয়। তাই সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে স্বাধীনতার স্বপক্ষের চিন্তা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া উচিৎ। বিপথগামী গোষ্ঠী যেভাবে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে তা রুখতে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে শুভ্র চিন্তা ভাবনার বিস্তার করা জরুরী। সেই সাথে বুয়েট প্রশাসনের উচিত সন্ত্রাসবাদী চিন্তার যারা প্রচার করছে তাদের নির্মুল করতে কাজ করা৷

 

ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি রেখে ইতিহাসের দেখানো পথে চলুক ছাত্রলীগ। স্বাধীনতার স্বপক্ষে দেশের খারাপ সময়ের কান্ডারি হয়ে উঠুক ছাত্র রাজনীতি। আবারো ফিরে আসুক ছাত্র রাজনীতির সোনালী অতীত। ছাত্র রাজনীতি হয়ে উঠুক গঠনমূলক সমালোচনা ও প্রতিবাদের কন্ঠস্বর।

সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও বিকৃত চিন্তা মুক্ত ছাত্র রাজনীতি চাই।

জয় বাংলা।

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge