সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন

মে দিবসের গান মূল : ল্যাংস্টোন হিউজ ভূমিকা ও ভাষান্তর : রেজাউল ইসলাম হাসু

মে দিবসের গান মূল : ল্যাংস্টোন হিউজ ভূমিকা ও ভাষান্তর : রেজাউল ইসলাম হাসু

মে দিবসের গান
মূল : ল্যাংস্টোন হিউজ
ভূমিকা ও ভাষান্তর : রেজাউল ইসলাম হাসু

ভূমিকা :
জন্মগতভাবেই মানুষ ক্রীতদাস। আমাদের পিতামহ ক্রিতদাস ছিলেন। আমাদের পিতা ক্রিতদাস ছিলেন। আমরা ক্রীতদাসের সন্তান। আমরা ক্রীতদাস। ক্রীতদাসের আরেক নাম শ্রমিক। আমরা শ্রমিক। কেউ কায়িক। কেউ মানসিক। মূলত আমরা শ্রমিক। কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ বলেছেন,
“যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে”
আমরা ক্রীতদাস থাকতে চাই না। শ্রমিক থাকতে চাই না। আমরা মানুষের মতো বাঁচতে চাই। কবিতা আমাদের ভেতর সেই বোধ সৃষ্টি করেছে। গুপ্ত ধমনীর ভেতর সেই রক্তব্যাঞ্জণা দান করেছে। বেড়িহীন আলোকে অবমুক্ততার পথ দেখিয়েছে। বিধায় আমরা কবিতার দ্বারস্থ হই। কবিতাকে তুলে নিই জন্মান্ধ চুম্বনে। যেভাবে নিয়েছিলাম বায়ান্নে, উনসত্তরে, একাত্তরে।
আমাদের কর্মব্যবস্থাপনা দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হোক। ১৩৪ বছর আগে শ্রমিকরা শিকাগো শহরের হে মার্কেটে যে উদ্দেশ্যে জমায়েত হয়েছিলো, পুলিশের গুলিতে আত্মহুতি দিয়েছিলো, তাদের সে মহান আত্মত্যাগে উৎকর্ষিত হোক আধুনিক শ্রম ব্যবস্থাপনা।
মার্কিন কবি, কলাম লেখক, প্রাবন্ধিক ও উন্যাসিক ল্যাংস্টন হিউজের শব্দছুরি ছিলো শ্রম ও শান্তির পক্ষে নিরন্তর ক্ষুরধার আর উজ্জ্বল। তিনি পেহেলা ফেব্রুয়ারি ১৯০২ সালে আমেরিকার জপলিন শহরের মিসৌরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার অনেক গ্রন্থ রয়েছে। দ্য নেগ্রো স্পিকস অব রিভারস হলো তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি। তিনি ২২ মে ১৯৬৭ সালে মারা যান। ১৯৩৮ সালে রচিত তার চ্যান্ট ফর মে ডে কবিতাটি ভাষান্তর করে পৃথিবীর সকল কর্মজীবী মানুষের প্রতি উৎসর্গ করা হলো।

শ্রমিক : পশ্চাৎপদতার জন্য শ্রমিকের মতো পড়তে হবে উদয়ের উত্তাল তরঙ্গমালা এবং গভীর সমুদ্রের গর্জনের মতো পুনরুত্থিত কণ্ঠস্বরসমূহ।
শ্রমিক : পহেলা মে;
যখন ফুলেরা ঝরে ভূপৃষ্ঠে,
যখন প্রাণশক্তি জাগে গাছে গাছে,
যখন পাখিরা ফেরে দক্ষিণা হাওয়ায়,
শ্রমিক : ফুলের মতো হও,
১০ কণ্ঠস্বর : পরাক্রমের মতো জ্বলো তোমার অজানা শক্তিতে,
২০ কণ্ঠস্বর : অসাড় পৃথিবী থেকে বেড়িয়ে এসো,
৪০ কণ্ঠস্বর : শক্ত করো হাতের বন্ধন—
নন্দিত করো এই মওসুম, এই আয়োজন,
এবং এসো হে সমূহ বসন্ত,
৫০ কণ্ঠস্বর : শ্রমিকদের জন্য অনন্তর!
শ্রমিক : শ্রমিকরা!
১০ কণ্ঠস্বর : গাছে গাছে জাগ্রত শক্তির সবুজ হও,
২০ কণ্ঠস্বর : শক্ত করো প্রতিটি শিকড়,
৪০ কণ্ঠস্বর : অবহেলাদের আশ্রয় নেই—
৫০ কণ্ঠস্বর : সমস্ত ভাষার কাছে পৌঁছাও।
শ্রমিক : সকল শ্রমিক,
১০ কণ্ঠস্বর : শ্বেতাঙ্গ শ্রমিক,
২০ কণ্ঠস্বর : কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিক,
৪০ কণ্ঠস্বর : হলুদাভ শ্রমিক,
৫০ কণ্ঠস্বর : সমুদ্রের দ্বীপপুঞ্জের শ্রমিকরা—
শ্রমিক : তোমাদের জন্য জীবন সর্বত্র,
শ্রমিক : যখন তোমার ভেতর শক্তির সবুজ জাগে
৫০ কণ্ঠস্বর : জীবন সর্বত্র।
১০ কণ্ঠস্বর : মে দিবস!
২০ কণ্ঠস্বর : মে দিবস!
৪০ কণ্ঠস্বর : মে দিবস!
৫০ কণ্ঠস্বর : যখন পৃথিবী নতুন হবে।
শ্রমিক : পৃথিবীর সর্বহারারা
২০ কণ্ঠস্বর : জাগো,
৪০ কণ্ঠস্বর : কঠোর হও,
৬০ কণ্ঠস্বর : যুদ্ধ করো,
৮০ কণ্ঠস্বর : যতক্ষণ না পৃথিবী তোমার হয়
১০০ কণ্ঠস্বর : সময়ের গর্ভাশয় থেকে।
উৎস : ফ্রন্টলাইনস অব রেভোলুশনারি স্ট্রাগল ও উইকিপিডিয়া।

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge