মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন

মাকাল-প্রদীপ দে

মাকাল-প্রদীপ দে

মাকাল
প্রদীপ দে

শ্রাবন মাস। এবছর খরা। রোদ আছে। কালো কালো মেঘ আকাশে ঘুরতে আসে। এই বুঝি সে এলো। হাতের ছাতা রোদে পুড়ে মরে। তিনি বিদেশিনী! বাইরে ওনার প্লাবন দেখে বুঝি কতো বড় পলিটিশিয়ান উনি। ছবি দেখি ভয়ের, আনন্দের। কতো রকমের। কতো ভাবের। ছবি দেখি , কথা শুনি আর লিখি । কথাগুলোও আমার কাছে ছবির মতোন ওঠে নামে।
দুপুরে রোদের তেজ এড়াতে নির্জন গলি দিয়ে লাইব্রেরি যাচ্ছি।আপন মনে। একাই চলেছি। আশে পাশে কেউ নেই। ওনেক দূরে একটা মোড়ে বিরাট বিরাট প্যান্ডেল করে ঘুড়ি বিক্রি হচ্ছে আমি জানি।
এখনও সেটা অনেকটা দূরে।দেখা যাচ্ছে না।
মাথা নিচু করেই হাঁটছি। হঠাৎ একটা আওয়াজ যেন শুনতে পেলাম। কিছু মাথায় নিতে পারলাম না। আবার আওয়াজ তা শুনতে মাথা তুলে দেখি
আমার সামনে থেকে দশ হাত দূরে দাঁড়িয়ে একটা বছর সাতের ছেলে। তার হাতে একটা ঘুড়ি। মলিন বেশ।সে আমার দিকে এগিয়ে আসছে আর চেঁচ্চাছে আমার উদ্দেশ্যেইঃ
“ও কাকু! ও কাকু ! “
লোভ হলো খেলতে। আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে।
ছেলেটা আমার দিকে আসছে।
“ও কাকু !”
এবার মুখ তুলে তাকালাম।
“কানে শোনো নাই ?”
হাসলাম -” বল”
“তুমি বিড়ি খাও?”
মাথা খুলে গেলো – “খাই”
“দিয়াশলাই রাখো ?”
“রাখি “
ছেলেটার কালো মুখে রোদের আলো – “দিবে ?”
কি বলা যায় ভাবছি। সত্যি বলিনি তাই। বহুকাল আগে চোখ রোগের সময় ডাক্তারের চেষ্টায় সে গুড়ে বালি ঢালতে হয়েছে।
তাও ওকে আটকাতে জানতে চাইলাম – “কি করবি?”
“ফুঁটো করবো”
“কেন?”
“সুতো দিয়ে কল বানবো।”
এর পরে আর আমাকে বিব্রত হতে হলো না। হঠাৎই ছেলেটার হাফপ্যান্ট টা খুলে পড়ে গেলো।আর ছেলেটা ভয়ে বা লজ্জায় হিসি করে দিলো।
বর্ষা র জল পেলাম। চটি ভিজে গেলো।মুখ লুকালাম। মুখ তুলে দেখি ছেলেটা প্যান্টটা তুলে ধরে পাশের গলি দিয়ে চোঁ চোঁ দৌড়!
মনে হলো কালো মেঘের পালিয়ে যাওয়া!

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge