বুধবার, ১৭ Jul ২০২৪, ০৯:৫১ অপরাহ্ন

মহীতোষ গায়েন এর ৪টি কবিতা

মহীতোষ গায়েন এর ৪টি কবিতা

১. কবিতার বাড়ি (১)

শাখা প্রশাখায় যদি পাতা ঝরে যায় ,বাঁচবে কীভাবে?
ঈশ্বর শক্তি দিয়েছেন,তাকে কাজে লাগিয়ে,
এসো সেই শক্তি দিয়ে ডালে ডালে পাতা ভরিয়ে দিই,
নবজাতকের কাছে রেখে যাই সে স্মারক ।

এক বিপন্ন অস্থিরতা থেকে মানুষকে মুক্ত করে বানাই কবিতার বাড়ি,
যেখানে থাকবে শান্তি, মৈত্রী,
সূর্যের আলো এসে অন্ধকার মুছে দিয়ে সব গ্লানি মুক্ত করবে,
চাঁদের আলো এসে পড়বে বিছানায়।

কবিতার বাড়ি বানিয়েছি,পাখিরা আসে,গান করে
সেই গানে হিংসা মুক্ত মদিরা,সুরে সুরে ভাসে চরাচরে,
কবিতার বাড়িতে বাঁচার রসদ আছে,বিপন্ন মানুষের
জন্য বিভেদ ভুলে এসো রুটি ও শান্তির শপথ নিই।

২. কবিতার বাড়ি -(২)

এখন থেকে নতুন আস্তানায় চলে এসেছি
এখানে সবুজে ঘেরা, বাহারি পাখিরা সকালে
বিকেলে এসে দেখা করে করে,মনের কথা বলে
গভীর রাতে জোৎসনাআলোয় ভাসে কীর্তনের সুর।

নতুন বাড়িটার নাম রেখেছি কবিতার বাড়ি,
সন্ধ্যার বাতাসে ছডায় বকুল ফুলের গন্ধ…
নীল পাখি,লাল পাখি,সবুজ পাখি,হলুদ পাখিরা
বসে বকুল গাছে,ছাতিম গাছে,নারকেল গাছে।

মিটিং হয়,তাদের মধ্যে কেউ নেতা,কেউ কর্মী
যে যার নিজের কথা বলে, মতামত দেয়,ভবিষ্যৎ ছকে,
আমাদের তাতে অসুবিধা হয় না, বিব্রত হই না, কারণ
তারা মুক্তির কথা, প্রেমের কথা, সুখ, শান্তির কথা বলে।

কবিতার বাড়িতে জীবন আছে,তাকে তাকে সজ্জিত
সব সাহিত্য, সংস্কৃতি, সঙ্গীত,ইতিহাস,ভূগোল,দর্শন,
সবই এক একটি কবিতার বই; সমাজ, সভ্যতা,জীবনের,
এসো,কবিতার বাড়িতে,নন্দনতত্বের আলোচনায় বসা।

৩. শীতকালের চিঠি

সন্ধ্যা নেমে এলো চরাচরে…
শীতের কুয়াশায় আবদ্ধ দিগন্ত
শরীর মন তীব্র ভারাক্রান্ত…
শীতকাল এলে আমার
অবসাদ জমে পাথর হয়।

রাতের নিস্তব্ধতায় শিয়ালের ডাক,
দু’দুটো পুজো এসে গেল,
বাতাসে বারুদের গন্ধ;
তুমি আসবে বলেও এলে না,
ফুলের বাগানে আজও
রক্ত-গাঁদা ফোটে নি‌।

আমার ক্লান্ত শরীর,খুসখুসে কাশি,
ঘুষঘুষে জ্বর,সবই এই শীতকালে বাড়ে;
এবার এলে ডাক্তার দেখাতে যাব,
অথচ ওষুধ খেতে আমার ভাল্লাগেনা।

মনে আছে,এক শীতের রাতে তোমার
বুকে মুখ লুকিয়ে টুসুর গান শুনেছিলাম…
মা নেই,বাবা নেই…,কে আছে আমার?
তুমি তো আমার বাবা,মা,তুমি বোঝ না!

শীতের ভোরে সূর্য উঁকি মারে রক্তিম,
খেজুর গাছে গাছে ঘোরে শিউলিরা…
শীতের পাটালি খেতে খুব ভালো,মা কে
বোলো,এবার পার্বণে যাবো পিঠে খেতে।

দুপুরে যখন কাজে যাওয়ার জন‍্য তৈরী হই
সেই সময় এক দুষ্টু পাখি পলাশ গাছে বসে
শিস্ দেয়,মনটা খুব উদাস হয়ে যায়,
একলা লাগে ভীষণ…,
বাতাস যেন বলে:নেই,নেই,তোর কেউ নেই,
তবু শীতকাল প্রেমময়।

৪. প্রজাতন্ত্র নয় জনগণতান্ত্রিক জেহাদ

‘রাজা’ ও ‘প্রজা’ শব্দ দু’টি এখন অচল পয়সার মত,
প্রভূ-ভৃত্যের সম্পর্কের মতন প্রাগৈতিহাসিক,
বড্ড সেকেলে এই শব্দ দু’টি এবার বর্জিত হয়ে
‘সুশাসক’ ও ‘জনগণতন্ত্র’ শব্দের প্রচলন হোক।

আমাদের পূর্বপুরুষের আত্মারা অস্থির যন্ত্রণায় কাতর,
তারা বেশ বুঝতে পারছে বাহাদুর সমাজ একসময় কারসাজি করে
স্বৈরশাসনের মোড়কে প্রজা শাসনের
রঙ্গমঞ্চে অস্থির দাপাদাপি করতো।

সাম‍্য,স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জয়যাত্রা ঘোষিত
হোক সমূহ সমাজে,জনগণতন্ত্রে সাধারণ মানুষ
হয়ে ওঠুক প্রকৃত নিয়ন্ত্রক, বিশ্বপ্রেম ও মৈত্রীর অমোঘ বার্তা
পৌঁছে যাক শহর ও গ্রামের হৃদয়ে অবলীলায়।

এবার সব রাজারা নিজস্ব আবর্ত থেকে
বেরিয়ে মিশে যাক জনদরবারে,অসহায়,নির্যাতিত,
বঞ্চিত মানুষের মিছিলে উঠুক রুটি রুজি আর শান্তির স্লোগান,
আগুনে পরিশুদ্ধ হোক বর্বরতার সম্পর্ক।

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge