মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন

বিলীন পথে- গ্রাম ও উপভাষা : আদিল ফকির

বিলীন পথে- গ্রাম ও উপভাষা : আদিল ফকির

বিলীন পথে- গ্রাম ও উপভাষা
আদিল ফকির

হারে গেতিচে হামার গেরামের দিনগুল্যা। হামার গ্রামের দিনগুল্যা – হারে যাওয়া মানে এই দেশোত গেরাম নিপ্যাত হয় য়্যা যাইবে। আরে হামরা যখন ছাওয়া- হামার এনায়েত পুর গেরাম থাকি নানার বাড়িত গেচনো- গরুর গাড়িত করি- সেই পীরগাছা তালুক ইসাদ গেরামে।আস্তার মাজোত ফির ঘাগোট নোদি পার হওয়া নাগচিল। এখন তো গরুর গাড়ি দুরের কতা- নদী বিলিন হতিচে। ইস! কি এক নাল দিনগুল্যা আচিলো- ভাইবোইনেরা আর মা সুদদ্যায় যখন গরুর গাড়িত ওঠনো- গাড়িত একখ্যান টাববোর। ফির টাববোর ঘিরি কাপড় প্যাচে দেচনো- যাতে আস্তার নোকজন না দ্যাখে। নানার বাড়িত থাকি ফির ফেরার সময় দুইট্যা পাকা কাটোল নেচনো। বাপরে বাপ- আস্তার নোকজন কাবরে কাবরে কইচিলো- বাহে কাটালটার সাদ আচে। মুই ফির চিলল্যায় কচনু- আইসেন বাহে খাবার। কতই ন্যা কতা মনোত পরে – গরমের দিন। আচিলো-ন্যা কারেন। আস্তার গাচের নিচোত সুতি – বাতাসের অপেককায় আচনো। হামার পারা পতিবেশি সবাই মিলি- কেউ পাটিত সুতি, কেউ আস্তার দুগল্যা ঘাসের ওপোর। আর গল্প কেচ্চা চলছে। আইত হইলে চাননি রাইতোত আলোমোক ডাক দেচনো। আলোম দোতরা বাজায় ছিলো- আর মিল দিয়্যা দিয়্যা কতো কতা কইছিলো- কতা গুল্যা একেবারে সাদামাটা। হামরা কি হাসাহাসি। এদিকে ফির কাওয়ালি শুনি অনেকে চোখের পানি ফ্যালাইছিলো। কারো মরি যাওয়া ভাতারের কতা মনে পরছিলো, হায়রে সেই কাহিনি- ইলিজ্যার বাপ ফির এমন মনোযোগ দিয়্যা কাওয়ালি শুনছিলো- বিড়ি টানতে টানতে মোচোত নাগিল আগুন- ওই আসোরোত চিল্লায় উঠচিলো। আইজক্যা দিন গুল্যা আর নাই। মাইস্যা এমন ব্যাস্ত হইছে- গেরামের সেই গাচগাচালি জংগল কিচু নাই। আরে সাগাই বাড়িত আসলে- হামরা সবাই মিলি ডেকি মুরগি দাবরে ধোরচে নো। মা এদিক পিয়্যাজ মরিচ কাটি নিচিল- হামরা গেরামের চেংরা মিলি ঢেকি মুরগি দাবারা-। মুরগি নাই ধরতে সাগাই সাইক্যালোত ক্রিং ক্রিং- হামরাও চায়য়্যা- সাতে একটা সাদা পলিথ্যানে গ্লুকোজ বিস্কুট। আজ এই বিস্কুট পানিত ভিজি ভিজি খাচনো – কি শান্তি। এখোন হামার গেরামো শোক কিচু হারি যাইয়্যা শহরের মতো হইচে। গেরামোত যায়য়্যা আগের মতো আর তিপ্তি পাওয়া যায় না। আরে যখন মুই ছোটো- পাটা বারিত টু টু খ্যালচো নো। এদিকে অন্যদল খ্যালা শ্যাস করি চলি গেইচে- হামরা আচি পাটবারিত নুকি। আজোব ব্যাপার- সোইদ্যার সময় বাড়িত আসি- ঘরের কানচি দিয়া ঢুকি- যাতে মা টের না পায়। বারিত আসি- কোনোমোতে হাত মুখ ধুইয়্যা – সপোত বসি – পড়া শুরু- বাইরোত বসলে কুপ্যার আলোত
পড়ব্যার বসচে নো। সোইনদ্যার পর পরেই ঘুমোত টুপি টুপি পরি গ্যাচনো। পিচোন থাকি মা আসি সেই পিটোন। একোন নাকি সোইলপোলোক পিট্যা যাবো-নায়। একোন হামার গেরামোত যাইয়্যা দ্যাখো – থ্রি জি, ফোর জি নিয়্যা ব্যস্ত। একোন কার গেরাম গোনজোত থ্রিজির পিরিত চলে। আগে হামার পেরেম পিরিতির এমন টান আচিল- বাপরে বাপরে খেরি ঘরের মোকার থুরি খুলি – ঢুকচিলো। থাক নিয়্যা ফির পরের দিন বিচ্যার শাল্লিস। বাপরে বাপ- সেই বিচ্যার শাল্ললিসের কিততি দেখলে- সুনলে- এলাও মোর হাসি পায়। আহারে – সেই রাকোয়ালের পেরেম- আইল দিয়্যা গরুক ঘাস খাওইছিলো- আর এদিকে গেরামের চেংরি – আস্তা হাটছিলো। আখাল হালুয়্যা পেন্টি দিয়্যা – সংকেত দিচিল্প- চিঠিক্যান হটে আঠিয়্যা কলা গাচের থোপোত থুইস ( সংক্ষিপ্ত)

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge