মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন

প্রেমরঙা-প্রদীপ দে

প্রেমরঙা-প্রদীপ দে

প্রেমরঙা
প্রদীপ দে

কেস থেকে বইটা সবে তুলেছি, এক‌টি নরম হাত আমার হাতের উপর এসে পড়লো, জানিনা, প্রাকৃতিক কোন কারণে, আমি শিহরিত হলাম, তাকিয়ে দেখি এক মেয়ের হাত আমাকে ছুঁলো, নিমেষে চোখ ঘুরিয়ে দেখলাম মেয়েটি সম্ভবত বইটিকেই নিতে গেছিল।
অপ্রস্তুত হয়ে মেয়েটি সরে গেল , — সরি ! আপনি কি বইটি নেবেন ?
আমি সম্মতি জানালাম। মেয়েটি সামনে দিয়ে চলে গেল, কারণ এই বইটি একটিমাত্রই ছিল শোকেসে।
আমি বই কিনে যখন স্টল থেকে বের হচ্ছি, তখন দেখি মেয়েটি ক্যাশের লোকটিকে বারবার কিছু অনুরোধ করছে। আমার জানতে ইচ্ছা, তাই কান খাঁড়া করে শুনলাম আমার নেওয়া বইটির অন্য কপি এনে দেওয়ার অনুরোধ করছে।
আমার মনটা কেমন করে উঠলো। চব্বিশ বছরেরে এক সুন্দরী তন্বী, যে আবার জীনসের প্যান্ট আর শার্ট পরিহিতা আধুনিকাও বটে ,তাকে দেখে সমবয়সী এক আধুনিক তরুন কি করে সবকিছু উপেক্ষা করবে ?
দাঁড়িয়ে রইলাম গেটে, মেয়েটি বেড়োতেই, গিয়ে ধরলাম — একটু শুনবেন প্লীজ!
ঘাড় ঘুরিয়ে, ববকাট চুল সরিয়ে সরু আঙুল দিয়ে শার্টটি টেনে প্রশ্ন করলো — কিছু বলবেন?
-হ্যাঁ বলছিলাম এই বইটা যদি আপনার খুব দরকারী হয় তাহলে আপনি এখন এটা আমার থেকে নিতে পারেন —
মৃদু হেসে মেয়েটি জানালো — ধন্যবাদ। না ঠিক আছে আমার দরকার ঠিকই, তবে এখনই নয়।
-না বলছিলাম আমার কিন্তু তেমন কোনো দরকারী নয়, এমনিই কিনলাম।
মেয়েটি আমার হ্যাঙলাপনা ভাবটি বেশ উপভোগ করছে বুঝলাম। চোখ দিয়ে আমায় একবার মেপে নিল। আমিও বেশ হ্যান্ডসাম। দেখতেও বেশ রোমাঞ্চকর, অনেক মেয়ে লুকিয়ে দেখে তাও আমি জানি, জানি মানে বৌদিদের মারফৎ কিছু খবর আসে। আমিও উপেক্ষা করি ওই হেঙলিদের।
কিন্তু এই মেয়েটিকে দেখেই আমার মনটা যেন কেমন নেচে উঠেছে। যেচে আলাপ করতে চাইছি। সুযোগ পারছি না।
মেয়েটি পা চালালো। আমি কি করবো চিন্তা করছি। হঠাৎই মেয়েটি হাত তুলে চলন্ত বাস থামিয়ে উঠে গেল। আমি বোকার মত দাঁড়িয়ে রইলাম।
পরদিন আমি আবার কলেজ স্ট্রীটের সেই বইয়ের দোকানের সামনে হাজির হলাম অপেক্ষায়, সেই হৃদয় দোলানো আধুনিকাটির জন্য। কাজ কর্ম সব চুকেবুকে গেল, দুইঘন্টাতেও সেই রূপসীর দেখা পেলাম না।
আবার পরদিন। এবারে একটা বুদ্ধি কাজে লাগালাম।দোকানে গিয়ে বইটির খোঁজ করলাম। না বই আসেনি। ভগবান যা করেন তাই মঙ্গল।সোওয়া এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর আমার মনের উর্বশী একেবারে হলুদ শাড়ি পরে চলে এল।
মনে হলুদ মাখিয়ে, চোখ বড় হয়ে পড়া মুগ্ধ প্রায় আমি, ওর সামনে অসহায় ভাবে ধরা পরে গেলাম। কি করবো বা বলবো, বোঝার অবকাশ না দিয়েই ও আমাকে প্রায় একপ্রকার অবজ্ঞা করে চকিতে দোকানে ঢুকে গেল। আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় ভ্যাবাচ্যাকা হ্যাঙলা কেষ্ট হয়ে বাঁশিহীন অবস্থায় বাইরে দন্ডায়মান রইলাম।
লাজ করে লাভ কি? বই না পেয়ে মেয়েটি দোকান থেকে বেড়িয়ে এল। আমি সামনে বই হাতে এগিয়ে গেলাম, — বলছিলাম কি –যদি কিছু না মনে করেন —?
কথা শেষ করতে দিল না সুন্দরী, — থাক! থাক আমি শুনতে চাইছি না, মনে করার প্রশ্নই আসে না
হ্যাঁ, একটা কথা বলি মেয়ে দেখে এত হ্যাঙলাপনা করেন কেন আপনারা, ছেলেরা?
আমি ভীষণ লজ্জা পেলাম। নিজে একপাশে সরে গেলাম। অন্য মেয়েদের হ্যাঙলামো দেখে ঘৃণা করতাম আর আজ আমি সেই দোষেই দুষ্ট হলাম।
হঠাৎই মিষ্টি কন্ঠস্বরে ভারাক্রান্ত মনে জল সিঞ্চন হলো, তাকিয়ে দেখি মেয়েটি আমার কাছে, — কই দিন আপনার বইটি?
থতমত খেয়ে বললাম — আমি সত্যিই লজ্জিত।
-থাক, ওসব কথা। আপনার নাম জানতে পারি?
-আমি সৌম্য।
-আর আমি নীলা- আসুন না সামনের কফিহাউসে- একটু বসে কথা-মানে আলাপ করা যাবে- আপত্তি আছে?
-আরে কি যে বলেন? আপত্তি থাকলে এখানে আসি?
-জানি। গতকাল আমি এসেছিলাম। দূর থেকে আপনাকে দেখে মজা করে চলে গেছিলাম,ধৈর্যের পরিমাপ করতে।
আর সময় নষ্ট করার মানে হয় না। ওর চোখের চাউনিতে আমার সব বোঝা হয়ে গেছে। চকিতে আমি ওর নরম হাতটা আমার শক্ত হাত দিয়ে চেপে ধরলাম, ওর চোখে মুখে রামধনুর রঙ খেলে গেল, ঠোঁট মিষ্টি হাসিতে ভরে উঠলো, আমার খুব লোভ হল, বললাম — চলো —
নীলা’ও সাই দিল- চলো-
পথ চলা শুরু হলো-

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge