বুধবার, ১৭ Jul ২০২৪, ১০:৪১ অপরাহ্ন

প্রফেসর মোহাম্মদ শাহ আলম ৬৯ তম জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন

প্রফেসর মোহাম্মদ শাহ আলম ৬৯ তম জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন

প্রফেসর মোহাম্মদ শাহ আলম এর বর্ণাঢ্য জীবন

মো: শাহ আলম। লেখক নাম: মোহাম্মদ শাহ আলম/প্রফেসর মোহাম্মদ শাহ আলম।পিতা মো: আছিম উদ্দিন, মাতা খছিমন নেছা। জন্ম ৬ই জুলাই, ১৯৫৫খ্রিস্টব্দ। জন্ম রংপুরের পীরগাছা থানার অন্নদানগর ইউনিয়নের বামনসর্দার গ্রামে। পঞ্চানন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি, অন্নদানগর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি (রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড), বিএ সম্মান (বাংলা) কারমাইকেল কলেজ রংপুর (রাবি), এমএ (বাংলা) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
সাহিত্য কর্ম: লেখালেখি সূচনা: স্কুল জীবনে। কবিতা, প্রবন্ধ, ছড়া, নিবন্ধ,গল্প, ফিচার প্রকাশ স্থানীয় ও জাতীয় পত্র-পত্রিকায়। বিভিন্ন পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা, উপদেশক। প্রকাশনা: ভাওয়াইয়া (যৌথ গবেষণা); ধবল আলোর মায়াবী ডাক(কাব্যগ্রন্থ); সাহসী নিসর্গ (যৌথ কাব্য); বৈরী বাতাসে স্বপ্নেরা (গল্পগ্রন্থ); ছড়ায় স্বদেশ ছড়ায় জীবন(যৌথ ছড়াগ্রন্থ),গবেষণা গ্রন্থ- ভাওয়াইয়ায় প্রেম ও অন্যান্য প্রসঙ্গ, স্বাধীনতা পরবর্তী রংপুরের নাট্য চর্চা। প্রকাশিতব্য গ্রন্থ ‘রংপুরের ভাষা আন্দোলন; নীতিকবিতা: বিশ্লেষণের আলো; কবিতার বই ‘বিদ্রোহী আঁচলে বসন্ত, ‘লিমেরিক’, ‘আমার যত গান।’ সাহিত্য পত্রিকাসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে, এখনও হচ্ছে।
সম্পাদনা: রংপুর সাহিত্য পত্র, অভিযাত্রিক সাহিত্য পত্রিকা, মুহম্মদ আলীম উদ্দীন এর ৭৫ বছর পূর্তি স্মারক – প্রজ্ঞার পাললিক ঘ্রাণ; নায়েম এর প্রশিক্ষণ পত্রিকা, বিভিন্ন দেয়াল পত্রিকা, কলেজ ম্যাগাজিন।
প্রফেসর শাহ আলম দক্ষ সংগঠক, গীতিকার,নাট্যকার ও আবৃত্তিকার বাংলাদেশ বেতার; বেতার অনুষ্ঠান উপস্থাপক, কথিকা পাঠক, পাণ্ডুলিপি সরবরাহক, বিভিন্ন সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ, আলোচক হিসেবে যোগদান, আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা, বিতর্কের বিচারক, সভাপতি, স্পিকারের দায়িত্ব পালন, আবৃত্তিতে অংশগ্রহণ। আবৃত্তি ও বিতর্ক ক্ষেত্রে রেখে চলেছেন অনবদ্য অবদান। করোনা সময়ে ফোনে অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন।
বিতর্ক: ১৯৭৭ এ বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন কারমাইকেল কলেজ দলের পক্ষে। দলনেতা ছিলেন রকিবুল হাসান বুলবুল, সদস্য আনওয়ারুল ইসলাম রাজু। বিজয়ী হয় তার দল। কারমাইকেল কলেজে ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে যোগ দেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে। ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন কারমাইকেল কলেজ বিতর্ক পরিষদ। বিতর্ক চর্চা বেগবান করতে বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন, কর্মশালায় প্রবন্ধপাঠ, বক্তব্য রাখেন, বিতর্ক ও উচ্চারণ বিষয়ে প্রশিক্ষন দেন। এখনও বিতর্ক আয়োজনে সভাপতি, মডারেটর, স্পিকার, বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন সুনামের সাথে। তার হাত ধরেই বিতর্ক আন্দেলন বেগবান হয়েছে, তৈরি হয়েছে অনেক তার্কিক। অব্যাহত আছে সে ধারা।
আবৃত্তি: ছাত্রীবন থেকেই সম্পৃক্ততা আবৃত্তির সাথে। স্কুলে আবৃত্তি প্রেিযাগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও আবৃত্তি করে সুনাম অর্জন করেছেন। আবৃত্তিতে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনে। রংপুরে অভিযাত্রিক সংসদে আবৃত্তি বিভাগ খুলে আবৃত্তি প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করেন । প্রস্তুত করেন আবৃত্তি বিষয়ক পাঠক্রম। এরপর ২০০২ এ প্রতিষ্ঠা করেন ‘স্বরশৈলী আবৃত্তি চর্চ কেন্দ্র।’ গত ১৮ বছর ধরে প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন, আবৃত্তি, উপস্থাপন, শুদ্ধ উচ্চারণ, বাকভঙ্গির নানা বিষেয়ে। বহু আবৃত্তি অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন, করছেন। তাঁর প্রশিক্ষত শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে সুনামের সাথে আবৃত্তি, সংবাদপাঠ, উপস্থাপন, সাহিত্য বিষয়ক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আসছে। অসংখ্য শিক্ষার্থী তার কাছে শিখেছেন আবৃত্তি, উপস্থাপন, বিতর্ক, সুন্দর বাচনভঙ্গি, এখনও শিখছেন অনেকেই।
উপস্থাপন: প্রফেসর মোহাম্মদ শাহ আলম একজন দক্ষ উপস্থাপক। অনেক অনুষ্ঠান উপস্থাপন করেছেন। দেবীগঞ্জ চীন-মৈত্রী সেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মোহাম্মদ শাহ আলম সে অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন এবং প্রশংসা অর্জন করেন। কারমাইকেল কলেজে একটি অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট পরমানু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া প্রধান অতিথি ছিলেন সে অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন প্রফেসর শাহ আলম। ২০০৭ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার মিঠাপকুর এবং গঙ্গাচড়ায় দুটি অনুষ্ঠান উপস্থাপন করেন। এছড়াও বহু সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক ও বিজ্ঞজনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান উপস্থাপন, সেমিনার পরিচালনা করেন তিনি। করোনা কালেও রংপুর সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের অনলাইল সাহিত্য বৈঠক সঞ্চালনা এবং তবুও কাছাকাছি নামের একটি জীবন, তথ্য ও বিনোদনধর্মী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করছেন। করোনা সংকট উত্তরণে সচেতনতা সৃষ্টিতে বেসরকারি সংস্থা ‘বাংলা-জার্মান সম্প্রীতি’র উদ্যোগে বিশেষ অনলাইন আলোচনাভিত্থিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। স্বরশৈলী আবৃত্তি, উপস্থাপন ও বিতর্ক চর্চা কেন্দ্রের আয়োজনে বাংলা নববর্ষ বরণ-১৪২৮ অনুষ্ঠান, রবীন্দ্র জয়ন্তী-১৪২৮, নজরুল জয়ন্তী-১৪২৮ অনলাইনে সঞ্চালক ছিলেন তিনি। এছাড়াও দেশে বিদেদেশে অনলাইনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। করোনা সময়ে অনলাইনে স্বরশৈলী আবৃত্তি, উপস্থাপন ও বিতর্ক চর্চা কেন্দ্রে প্রতিসপ্তাহে শুক্রবার করে ক্লাস নেন তিনি। প্রশিক্ষণ দেন আবৃত্তি, উপস্থাপন, শুদ্ধ উচ্চারণ,রস, বিতর্ক বিষয়ে।
অধ্যাপনা, প্রভাষক,বাংলা চিলাহাটি সরকারি কলেজ, নীলফামারী; ভূতপূর্ব অধ্যাপক, বাংলা, কারমাইকেল কলেজ, রংপুর; সাবেক উপাধ্যক্ষ-উলিপুর সরকারি কলেজ, কুড়িগ্রাম, সাবেক বিভাগীয় প্রধান, বাংলা বিভাগ, সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ, রংপুর।
সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টতা: জীবন সদস্য বাংলা একাডেমি; সম্মানিত সদস্য ড. এম.এ. ওয়াজেদ মিয়া মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন, ঢকা, পরিচালক স্বরশৈলী আবৃত্তির্ চর্চা কেন্দ্র; রংপুর; সাবেক সম্পাদক ও সভাপতি রংপুর সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ; উপদেষ্টা রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষৎ, উপদেষ্টা রংপুর বিভাগীয় লেখক পরিষদ, উপদেষ্টা ত্রৈমাসিক নতুন সাহিত্য; উপদেষ্টা শিল্পধারা, রংপুর, উপদেষ্টা, ফিরে দেখা (সাহিত্যের কাগজ)রংপুর; সভাপতি মাহিগঞ্জ কলেজ রংপুর, প্রধান উপদেষ্টা শহিদ শংকু বিদ্যানিকেতন, রংপুর, উপদেষ্টা ইন্টারন্যাশনাল গ্রামার স্কুল (আইজি এস), রংপুর উপদেষ্টা প্রথম আলো বন্ধুসভা রংপুর, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, রংপুর, সদস্য, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) টিআইবি, রংপুর; সদস্য, সুজন, রংপুর, সাবেক অধ্যক্ষ, রংপুর অটিস্টিক ওয়েলফেয়ার সেন্টার, সাবেক সেমিনার সম্পাদক, বাংলা সেমিনার কারমাইকেল কলেজ,রংপুর, সাবেক সদস্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, রংপুর; প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা কারমাইকেল নাট্য-সাহিত্য সংসদ; প্রতিষ্ঠাতা তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষক বিতর্ক পরিষদ, কারমাইকেল কলেজ; আজীবন সদস্য বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি, রংপুর; উপদেষ্টা স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধন, কারমাইকেল কলেজ ইউনিট,রংপুর; উপদেষ্টা সোনার তরী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদ, অন্নদানগর; উপদেষ্টা স্পন্দন নাট্য গোষ্ঠী, কারমাইকেল কলেজ; উপদেষ্টা, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও ক্রীড়া সংগঠন বাংলার চোখ, সাবেক সদস্য রংপুর প্রেসক্লাব; সাবেক সহকারি সম্পাদক (সাহিত্য) দৈনিক দাবানল, রংপুর; সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ বন্ধু সভা ইউনিট, সহ-সভাপতি বেগম রোকেয়া ফোরাম,(আরডি আর এস) রংপুর; উপদেষ্টা, পেশাজীবী ফোরাম, আরডিআরএস, রংপুর; উপদেষ্টা নলেজ কেয়ার একাডেমি, রংপুর, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক অভিযাত্রিক, আজীবন সদস্য রংপুর পাবলিক লাইবে্িরর, সহ-সভাপতি রংপুর মেট্টপলিটন কমিউনিটি পুলিশিং; যৌথ প্রতিষ্ঠাতা হাজী রহমতুল্লাহ্ পাঠাগার, বামনসর্দার, পীরগাছা,রংপুর।
সম্মাননা: শিক্ষকতায় বিশেষ অবদানের জন্য ড. এম.এ. ওয়াজেদ মিয়া মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন জাতীয় পদক, রংপুর নাগরিক পদক(১৯৯৫),নগরিক নাট্যগোষ্ঠী, রংপুর, সাহিত্য পদক(১৪০৮ বঙ্গাব্দ) বাংলাদেশ কবিতা সংসদ, পাবনা; সোনার তরী সাহিত্য সংসদ পদক, অরুণিমা সাহিত্য পদক (কাব্য) ,পাবনা(২০১৪), আইডিয়া পাবলিকেশন্স শ্রেষ্ঠ পাণ্ডুলিপিকার পদক(২০০১৭, ২০১৮), সম্মিলিত লেখক সমাজ আয়োজিত বইমেলা-২০১৮-বিশেষ সম্মাননা স্মারক, সাংগঠনিক অবদান ও সাহিত্য-সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য রংপুর সাহিত্য-সংস্কৃতি পদক, সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অনন্য অবদানের জন্য কারমাইকেল কাইজেলিয়া শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংসদের (কাকাশিশ) সম্মাননা পদক (২০১৮), সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য কারমাইকেল নাট্য-সাহিত্য সংসদের(কানাসাস) সম্মাননা পদক (২০১৮), আবৃত্তিতে অবদানের জন্য জয়পুরহাট আবৃত্তি সংসদের সম্মাননা পদক (২০১৮), বিতর্কে অবদানের জন্য ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন (এন ডি এফ)২০১৮সম্মাননা স্মারক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট ফেডারেশন(ব্রুডা) এর ২০১৯ এ ‘বিতর্ক গুরু’ উপাধি পদক, মুজিব শতবর্ষে বাংলাাদেশ কাব্য চন্দ্রিকা সাহিত্য একাডেমি ‘আজীবন সম্মাননা পদক-২০২০; ডিমলা সরকারি মহিলা কলেজ সম্মাননা পদক; রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ বিশষ সম্মাননা পদক(সাহিত্য-২০১৯); রংপুর মেট্রোপলিটন কমিউনিটি পুলিশিং এর বিশেষ সম্মাননা স্মারক(২০২০); বিভগীয় লেখক পরিষদ পদক-২০২০(সাহিত্য), শিক্ষা-সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান রাখায় ‘মানবতার কল্যাণ ফাউণ্ডেশন পদক; রোকেয় দিবস ২০১৯ এ জেলা প্রশাসন রংপুরের সম্মাননা স্মারকসহ বিভিন্ন পদক ও সম্মাননা লাভ।
সহধর্মিনী হালিমা খাতুন কারমাইকেল কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভোগের শিক্ষক ছিলেন, দুকন্যা- আফিফা ইশরত চেতনা, ডা. আছিফা ইশরত তনিমা।

স্বজন, প্রিয়জন মোহাম্মদ শাহ আলম : জন্মদিনে অনেক শুভেচ্ছা
ডা. মফিজুল ইসলাম মান্টু

প্রিয়জন,স্বজন প্রফেসর মোহাম্মদ শাহ আলম। ওর সাথে কোথায় দেখা হয়েছিল এখন তা মনে করতে পারি না। মনে হয় কতদিনের চেনা, যেনো গত চার দশক নাকি পাঁচ দশক? সে যতদিনই হোক মনে হয় আমরা একই পরিবারের সন্তান। কেনো নয়? শাহ আলমের জন্মদাতা মা-বাবা, ওর জীবনসঙ্গী হালিমা খাতুন, ফুটফুটে দুকন্যা চেতনা ও ডা. তনিমা সবার কাছে আজন্মকাল বুঝি আমরা পরম আত্মীয়। প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশের জাতীয় দিবসসমূহে, দেশের এ অঞ্চলের নানা উপলক্ষ্যে, নানা আয়োজন, অনুষ্ঠান, মেলা, পার্বণ, প্রাঞ্জল সামাজি-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অনেকের সাথে আমরা দুজন এখনও সরব। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আয়োজকের মূলভূমিকায় বা সাথে থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, দায়িত্ব, কাজ সামলিয়েছি, করেছি, করছি। সে সবের ফিরিস্তি এক দীর্ঘ প্রসঙ্গ।
গত কয়েক দশকে নানাসময়ে পত্র-পত্রিকা, স্মরণিকা, গবেষণাধর্মী গ্রন্থ, অন্যান্য গ্রন্থের প্রকাশনার কাজে কত দিনরাত্রি একসাথে কাজে, পরিশ্রম কষ্ট শেষে প্রাপ্তির আনন্দযাপন করেছি তা মনে হলে খুব ভালো লাগে। এর মাঝে সাফল্য-ব্যর্থতা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির সুখ-দুঃখ একসাথে ভাগ করে নিয়েছি। নানা কাজে নিজের শহর রংপুর ছাড়াও, রাজধানী ঢাকা ছাড়াও অন্য জেলা, উপজেলা, প্রাতিষ্ঠানে অনুষ্ঠান, সেমিনার, সাহিত্য উৎসব, সম্মেলন করে বিভিন্নভাবে নিজেরাই অনেক সমৃদ্ধ হয়েছি, আরও কাছাকাছি এসেছি, সাথে কত গুণি কৃতি মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি। সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কত আড্ডা, কত গল্পে এই যে আস্বাদন প্রাপ্তি তা আমাদের জীবনে নিশ্চই এক মহৎ অর্জন।
আমার সহযাত্রী প্রফেসর শাহ আলম-এর শিক্ষক জীবন আর আমার চিকিৎসক জীবন আর আমার চিকিৎসা পেশার সাথে সংযুক্ত শিক্ষক জীবন নিয়ে আমাদের পথচলা অব্যাহত আছে। সে সব প্রাঙ্গণে কাছের মানুষ প্রতিভাদীপ্ত প্রফেসর মোহাম্মদ শাহ আলম আমার, আমাদের যাত্রাপথে এক বড় সাথী, অবলম্বন, উপলক্ষ্য যাই বলি না কেন তা বুঝি বর্ণনার পরিসবে অনেক কম বলা হবে। প্রিয় স্বজন শাহ আলম, স্নেহভাজন শাহ আলম, তুমি ভালো থেকো, দীর্ঘায়ু হও। আনন্দযাপনে কাটুক তোমার প্রতিদিন। শুভ জন্মদিনে অনেক শুভাশিস।

বন্ধুবর প্রফেসর মোহাম্মদ শাহ আলমের জন্মদিনে শুভেচ্ছা
আনওয়ারুল ইসলাম রাজু

সুপ্রিয় বন্ধু শাহ আলম জীবনের পথপরিক্রমায় অত্যন্ত সাফল্য ও সুনামের সাথে তা শিক্ষকতার মহান পেশাগত জীবন এবং সাহিত্য-সাংস্কৃতিক জগত, পারিবারিক, সামাজিক এমনকি জাতীয়জীবনের নানা ক্ষেত্রেও সাফল্যের সুবর্ণ সাক্ষর রেখে ৭০ তম শুভ জন্মতিথিতে পা দিতে যাচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ। এটা তার মতো আমাদেরও অত্যন্ত গর্বের,গৌরবের ও আনন্দের বিষয়। ৭০ তম জন্মতিথিতে বন্ধুকে জানাই অফুরন্ত শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন।
শাহ আলমের সাথে আমার বন্ধুত্ব ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সহযাত্রা প্রায় অর্ধ শতাব্দীর। আসলে মেঘে মেঘে বেলাতো আর কম হলোনা! মাসেরই ১৯ তারিখে আল্লাহ চাহেতো আমিও ৭০ বছর পূর্ণ করে ৭১ তম জন্মদিনে পা রাখবো।
এই দীর্ঘ জীবনে বিভন্ন অঙ্গনে অনেক বন্ধু-বান্ধবীর হিরন্ময় সান্নিধ্য লাভের সৌভাগ্য হয়েছে । এদের মধ্যে শাহ আলম অন্যতম। পড়াশুনা, লেখালেখিসহ কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, টিভি,বেতার, সংগঠন, বিতর্ক, আবৃত্তিসহ নানামুখি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আমরা মানিকজোড়। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত একই রকম। আমাদের সেইসব পাগলামির ফিরিস্তি তুলে ধরতে গেলে এক বিশাল মহাকাব্য লিখতে হবে।
কিন্তু বয়সের ভার পারিবারিক নানা বিপর্যয় এবং সর্বোপরি সম্প্রতি বৈশ্বিক বিপর্যয়ের শিকার হয়ে শারিরীক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত হয়ে পরায় বন্ধুকে নিয়ে ইচ্ছে থাকলেও পারছিনা। আশাকরি বন্ধুসহ সবাই ক্ষমাসুুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
আর তাছাড়া সুপ্রিয় ডা. মফিজুল ইসলাম মান্টু ভাইয়ের কবিতার ভাষায়- “বন্ধু তো বন্ধুই”। সেখানে সকল শর্ত অচল। শর্তহীন ভাবে গড়ে ওঠা আমাদের বন্ধ্ত্বু শুধু আমরণ অটূট থাকবেনা; মৃত্যুর পরেও আমাদের সন্তান-সন্ততির মাধ্যমে পারিবারিক পর্যায়েও তা প্রবহমান থাকবে ইনশাল্লাহ।
বন্ধু তো বন্ধুই। তার সাথে সকল আনন্দ- উল্লাস, সুখ-দুঃখ-ব্যাথা ইত্যাদির অনুভূতি নিঃশর্ত ভাবে ভাগ করে নেয়া যায়। তাইতো আমার একটি প্রিয় কবিতার কথামালায় বন্ধুকে প্রণতি জানাতে চাই-
‘বেয়াড়া মনটাকে কংক্রিটের দেয়াল দিয়ে আটকাতে চাই/
বন্ধু, আমাকে কিছু ইট, বালি আর সিমেন্ট পাঠাতে পারো?
রডের কাজটা না হয় বুকের পাঁজর দিয়েই চালাবো!’
সেই সাহসী বুকের পাঁজরে আজ হানা দিতে চায় অজানা আতংক। আসুন এই বৈশ্বিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে সবাই সবার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানাই। আবার আসুক দিন সেই পুষ্পিত সূর্যের । আমিন।

ছেলেমানুষ বাবা
চেতনা ও তনিমা

অন্য ভাইবোনের চেয়ে মাকে অনেকখানিই বেশি কাছে পেয়েছেন। সেই ১৯৫৫ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মা ছেলের ঠিকানা সব সময় একসাথেই ছিল। দেশের নাম পাল্টেছে ( ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানকে পরাজিত করে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে), পাল্টেছে কত ইাতহাস, মা-ছেলের জীবনেও গেছে অনেক চড়াই-উুড়াই কিন্তু তাদের ঠিকানা ছিল একসাথেই তা যেখানেই হোক। কখনো বামন সর্দার, কখনো চশবাজার আবার কখনো কামার পাড়া। বলছিলাম আমাদের বাবা প্রফেসর মো. শাহ আলম এবং তার মা ফসিমননেসার কথা। আমরা জন্ম থেকেই তাদের একসাথে দেখেছি এবং শুনেছি সারাজীবনই তারা একসাথেই ছিল। মায়ের সান্নিধ্য বেশি পেয়েছে বলেই কিনা জানিনা বাবা বাবা হয়েও খানিকটা ছেলেমানুষ থেকে গেছে। বেশ অভিমানী। একটুতেই মুখ ভার, মন খারাপ। মায়ের আদরের ছেলে বলে কথা। আমরা দাদির কাছে অভিযোগ করতাম, তোমার ছেলে কিচ্ছু পারেনা, কিচ্ছু বোঝেনা, কান্ড দেখলে মনে হয় এখনো ছোটই আছে। দাদি কিছু বলতো না, শুধু হাসতো। সংসার-সন্তানে বাবার তেমন মনযোগ না থাকলেও মায়ের ব্যাপারে ছিল শতভাগ প্রচেষ্টা। সারাজীবনের সঙ্গী মা চির বিদায় নিয়েছেন ছেলের বাড়ি থেকেই। এবং এই প্রথম আলাদা হয়েছে মা-ছেলের ঠিকানা। মা শায়িত আছেন তাদের আদি ঠিকানা বামন সর্দারে। এর ঠিক পাঁচ মাস আগেই হারিয়েছেন বাবাকে। অল্প সময়ের ব্যবধানে শোক এবং শূণ্যতায় ভরে গেছে পৃথিবী। মা-ববাকে হারিয়ে আমাদের ছেলেমানুষ অভিমানী বাবাটি যেন আরো ছেলেমানুষ হয়ে গেছে। বাবা-মা হারানোর কষ্ট অন্যকিছুতেই পূরণীয় নয় জানি। তাই সে চেষ্টাও করিনা। বাবার জন্মদিনে সৃষ্টিকর্তার কাছে শুধু এটুকু প্রার্থনা সব শোক ভুলে ছেলেমানুষ হয়েই যুগযুগ বেঁচে থাকুক বাবা, তার কর্ম ছড়িয়ে পড়–ক পৃথিবীব্যাপী। সকল শুভানুধ্যায়ীর কাছে প্রত্যাশা অতীতের মত সামনের দিনগুলোতেও আপনাদের ভালোবাসা ও আন্তরিকতায় ভরিয়ে রাখবেন আমাদের বাবার জীবন। শুভ কামনা সবার জন্য।
শুভ জন্মদিন, বাবা।

রবিরশ্মি
সুনীল সরকার

উত্তরের আকাশে রবিরশ্মি ছড়িয়ে দেয়
তোমার সৃষ্টির পর্বত মালা।
সাহিত্যের শুদ্ধতায় বিকশিত হয় নবীন তরুণ
জ্ঞান পিপাসুদের সবুজ আত্মা।
তুমি চলো দ্বিধাহীন পথে প্রান্তরে
যেখানে মিশে আছে তোমার স্নেহধন্য
ভালোবাসার মানুষ গুলোর আপন ঠিকানা।
তোমার ছায়া তলে প্রতিদিন শাণিত হয়
কবিতা প্রেমি আর বাচিক শিল্পীর একগুচ্ছ হৃদয়।
এভাবে যুগে যুগে রবির কিরণ ছড়িয়ে দাও
হে আমার মানবতার জ্ঞানতাপস কবি।
তোমার জন্মদিন হোক প্রভাতের প্রথম আলো।
সে আলোয় মিশে যাক আঁধারের যত কণিকা।
তুমি আলোকবর্তিকা ছড়াও উত্তর থেকে দক্ষিণ
জ্বলে উঠুক নিভে যাওয়া যত মাটির প্রদীপ।

ওখানেই সম্রাজ্য তোমার
মাজহারুল মোর্শেদ

তুমি হাঁটছো-
অবিরাম ক্লান্তিহীন আলোর পথে,
তুমি ঘুরছো-
নক্ষত্রের বেগে ঘূর্ণায়মাণ কক্ষপথে-
ধাবমান সময়ের হাত ধরে।
আমি অবাক হয়ে দেখি-
তোমার গন্তব্যের পথে-
সৌভাগ্যের প্রজাপতিরা নৃত্য করে।
তোমার স্বপ্নছোঁয়া কল্পিত বাতিঘরে-
অস্থির শব্দরা এসে খেলা করে।
তোমার তৃষিতমনে ভাবনারা এসে কড়া নাড়ে।
কেমনে পার তুমি?
নিয়োমানুবর্তি আদর্শের মন্ত্রে দীক্ষিত করে-
গভীর প্রণয়ের আবেগে ভাসাও।
বৃষ্টিধোয়া সাদাপদ্মের শুভ্রতায়-
সাম্যবাদী চেতনায় অহিংস বাণী শেখাও।
অমাবস্যার ঘোর অন্ধকারে-
আলোকবর্তিকা হয়ে পথ দেখাও।
তুমি হেঁটেই চলছো-
দৃষ্টি সীমার বাহিরে-মহাশূন্যের শেষ প্রান্তের দিকে-
যেখানে জ্ঞানের নদীতে- ভাসমান পাতার ভাঁজে-
অজানা এক মণি-মুক্তোর রাজ্য আছে-
এখন, ওটাই তোমার সম্রাজ্য
ওখানে থাকবে তুমি জন্মাবধি।

মন ও মনন
আফজাল হোসেন

বড় ব্যস্ত মাঝি,
পলকে ভিড়ায় নাও
অসীম সমুদ্র থেকে কর্ষিত মাটির বুকে।
আলোকবর্ষ দূরে সূর্যের পাহাড় হতে
সবিনয়ে নিয়ে আসে আলো
অবারিত সুন্দরের, কল্যাণের, শৃঙ্খলার
অতঃপর স্নেহের পরশ ছড়াতে ছড়াতে
এক দুরন্ত সওদাগর পৌঁছে যায় মানবিক ঘাটে
মন ও মননে তাঁর সত্যের স্ফুরণ।
সারিবদ্ধ বৃক্ষের মত দাঁড়িয়ে
মাটি ও মানুষের পতাকা হাতে
গেয়ে যায় মধ্যবিত্ত গান,
এবার ভেড়ালে তরী
দেখে নিও জন্মদিনে প্রাতঃস্মরণীয় মনুষ্য মন।

লিচুতলার জ্ঞানবৃক্ষ
মেহেদী মাসুদ

প্রিয় শিক্ষাঙ্গনের সেই লিচুতলার কথা আজ খুব মনে পড়ে।
মনে পড়ে-
কেমন করে বিশাল লিচুবৃক্ষের ছায়ায় দাঁড়িয়ে
এক জ্ঞানবৃক্ষ জীবনের আলো ছড়াচ্ছেন।
আর গুটিকয়েক জ্ঞানপিপাসু চোখ সেই আলোকছটায়
উজ্জ্বল হতে উজ্জ্বলতর হয়ে উঠছে।
সেই গুটিকয়েক চোখ থেকে
একজোড়া জলন্ত চোখ নিয়ে ঘরে ফিরলাম আমি।
এ আমার প্রথম নক্ষত্র দর্শন বটে।

অতঃপর শরতের পরিচ্ছন্ন আকাশের মতো
আমার শুভ্র হৃদয় দিগন্তে শুরু হলো জীবন-আলোর খেলা।
সৃষ্টির যে পথ দেখালেন তিনি,
সত্যের যে পথ দেখালেন ;
সেই ধ্বজা ধরে এখনও খুঁজে ফিরছি
জীবনের নৈসর্গিক সৌন্দর্য।

লিচুতলার শিশিরস্নাত দুর্বাঘাসের বুকে দাঁড়িয়ে
প্রিয় অনুসারীদের যুক্তিবাদী মানুষ বানানোর প্রত্যয়ী লোকটি
আজ হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো
আলোর মশাল হাতে ছুটে চলছেন
শিক্ষাঙ্গন থেকে সংস্কৃতি-অঙ্গন পর্যন্ত
সমস্ত শহর জুড়ে,
সমস্ত সমাজ জুড়ে।

বটবৃক্ষ
ডাঃ দেবাশীষ দাশগুপ্ত

বটবৃক্ষ হলো আশ্রয়স্থল,বাঁচার অবলম্বন, ছাতা,
স্নেহময় তরু যেথা শ্রদ্ধায় হয় নত মাথা।
সে বৃক্ষ দেয় ছায়া,দেয় বাঁচার অক্সিজেন
গ্রীনহাউজ ইফেক্ট থেকে করে রক্ষা, যেথা লোকে করে ধ্যান।
আমাদের বৃক্ষের নাড়িপোতা ভূমি স্বরশৈলী
যেথা জ্ঞানের আধার থেকে জ্ঞানের কাঠামো হয় তৈরি।
জ্ঞান- বিজ্ঞান, সুর, লয়, তাল সবি হয় বিতরণ
আমরা যারা আকন্ঠ করি পান তিনি তাদের আভরণ।
আমাদের বৃক্ষ প্রচার বিমুখ জন,গুরু সবার
সকলের হৃদয়ে আঁকা শাহ আলম নাম তাঁর।

জ্ঞান প্রদীপের ছোঁয়া
মীরা রায়

সার্থক জন্ম আমার
পেয়েছি জ্ঞান প্রদীপের ছোঁয়া,
বট বৃক্ষের শীতল ছায়ায়
হয়েছি ধুপের ধোয়া।

ভুলে ভরা জীবন ছিলো
বুঝিনিতো আগে,
তাঁর ডাকে উঠলাম যেন
ঘুম থেকে জেগে।

হঠাৎ করে পেলাম আমরা
জ্ঞান রত্নের দেখা,
শাহআলম স্যারের গুণের কথা
হৃদয়ে হবে লেখা।

দেশের বুকে শাহআলম
একটি উজ্জ্বল নাম,
নিজ গুণে শুদ্ধাচারে
ছড়িয়েছে সুনাম।

সবারই স্যার
ময়না মনি

মানুষ এখন মানুষের শত্রু
মানুষই এখন ভক্ষক,
সুশিক্ষা দিয়ে মানুষ গড়েন
মহান পেশার শিক্ষক।

সেই পেশার গুরু সবারই
প্রিয় শাহ আলম স্যার,
প্রকৃত মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেন
তিনি যে মহান কারিগর।

সততা ও বন্ধুসুলভ আচরণে
থাকেন সকল সময়,
পাছে লোকে কিছু বলেন
তবুও রাখেন বিনয়।

অ…নে…ক কথা বলার ছিল
মহান গুরুর তরে,
হাজার যুগের ভোরের আলো
দেখুক হৃদয় ভরে।

ভক্ত জনের প্রার্থনা
পূর্ণিমা রাজ

সাহিত্য জগতে তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র
আপন কর্মগুণে তাঁর সুনাম ছড়িয়েছে সর্বত্র।
সাহিত্যের অনেক শাখায় তার নিয়ত বিচরণ
তাঁর জন্য গর্বিত আমি আমরা সর্বক্ষণ।
সরল সুশ্রাব্য কাব্যময় ভাষায় তাঁর যত কথা যত গান
অযুত শিক্ষার্থীর হৃদয় গহীনে রয়ে যায় শ্রদ্ধার বান।
শুদ্ধাচারে মানুষ গড়ায় সবার অন্তরে জীবন্ত তুমি
এ জগতে জন্ম নিয়ে জানিয়েছো সুন্দর স্বদেশ ভূমি।
সাহিত্য সংস্কৃতির আঙিনায় পরিচিত এক নাম
বটবৃক্ষের ছায়া ছড়িয়ে কুড়িয়েছো সৃজনের সুনাম।
তোমার কৃতিত্বে সব খানে ধ্বনিত হয় জয়গান
তোমার গর্বে গর্বিত আমরা, চাই আরও সম্মান।
কত শব্দ খুঁজে করে যাও সাহিত্যের কারুকাজ
“শাহআলম” নামটি তাই অনেক অনেক প্রিয় আজ।
তোমার জন্যই কলি গুলো সব ফুটে হচ্ছে ফুল
তোমার জ্ঞানের ছোঁয়ায় দূর হচ্ছে উচ্চারণের ভূল।
তোমার আন্তরিকতা ও ভালোবাসায় মুগ্ধ সকলে
শাহআলম স্যার ভালো মানুষ সবাই তা বলে।
শতকোটি অন্তরে থাকুক বেঁচে এই আমাদের ইচ্ছা
জন্মদিনে শাহআলম স্যার কে জানাই শুভেচ্ছা।
ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন করি কামনা
তাঁর সৃষ্টি স্বর্নালী হোক, ভক্তজনের এই প্রার্থনা।

সশ্রদ্ধ ভালবাসা
মাসুম মোরশেদ

বাবা-মা কিংবা নিকটাত্মীয় কতটা মধু তাঁর
মুখে পুরেছিল জন্মের কালে?
তাঁর মুখ আলোর কথা বলে।
মাথা তাঁর ছাপ রেখে যায় সোঁদা মাটি আর
কংক্রিটের পরতে পরতে।
সে ছাপের ছায়ায়-মায়ায় আমরা কেউ কেউ
মানুষের মতো হচ্ছি।
তিনি নাম ধরে ডাকলে আমি মাসুম হয়ে যাই।
সব পাপ সব ভুল ধুয়ে যায় তাঁর ছোঁয়ায়;
পরশ পাথর যেমন।

তিনি বেশ আলতো পায়ে হাঁটেন
ডায়াসের সামনে, পোডিয়ামে দাঁড়ান যখন
তাঁর ছায়াও একটা জীবন্ত মানুষ যেন।
অপার ভাল্লাগা নিয়ে তাঁকে শুনি
আর বিশাল মুগ্ধতা নিয়ে তাঁকে দেখি
মগজে মননে মানুষ হবার প্রাণান্তকর চেষ্টা
আমার অবিরত।

আমি তাঁকে চোখে চোখে রাখি
একটা স্বর্গীয় আবেশ, মায়ামোহনীয়
আমেজ আমার বুকে খেলে যায়।
স্যারের সর্বাঙ্গ আমাদের উত্তরের প্রতিনিধিত্ব করেন
আর আমাদেরও গর্বিত করেন প্রতিনিয়ত।
সশ্রদ্ধ সালাম গুরু! প্রণতি আপনার পায়ে।

শুভজন্মদিন প্রফেসর শাহ আলম স্যার
সাজিয়া ইসলাম দিবা

শুভ জন্মদিন স্যার,
আপনার মত ছাত্রবান্ধব ভালো মানুষ দেখিনি আর,
আগলে রেখেছেন আমাদের বটবৃক্ষের মত,
আপনার ছায়ায় শান্তি পাই মোরা শত,
স্বরশৈলী আবৃত্তি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা,
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ছড়িয়েছে আপনার চেষ্টা,
খুব অল্পদিন যুক্ত হয়েছি স্বরশৈলী পরিবারের সাথে,
তবুও সকলকে আমার ভীষণ আপন লাগে,
স্যার আপনি সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন,
সকলকে এভাবেই আগলে রাখুন,
আপনার জন্মদিনে এই আমার ক্ষুদ্র উপহার,
আল্লাহ সকলকে ভালো রাখুন চাই না কিছু আর।

আজ তোমার জন্মদিন
মামুন উর রশিদ

গোলাপ, রজনীগন্ধা, আরো কত ফুলে সাজাবো তোমায়
তোমাকে সাজিয়ে আনন্দে ভাসবো
আনন্দ – আবেগে অশ্রুসিক্ত হবে তুমি
রুমোলে চোখ মুছবে বারবার
কবিরা শব্দ দিয়ে সাজাবে মালা
শিল্পীরা সুর তুলবে সঙ্গীতে
আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে একটাই সুর
আজ তোমার শুভ জন্মদিন।

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge