সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন

নোয়াখালী কবিতা-অভীককুমার দে

নোয়াখালী কবিতা-অভীককুমার দে

নোয়াখালী কবিতা
অভীককুমার দে

১. বাড়ি
হেদিন কেরুম আছিলো জাইনলেই ত
এই মাডি লাগাইতা কোয়ালে
বুকেঅ ডইলতা,
সইলতা হোড়া গন্দ বাইর অইলে রাইত আর
আন্দারে বাগে মাইনষে লুকাচরি
বাগকাঁডার ভিত্রে দি দুই দেশ দেয়া যাইতো
বুকে কাঁডা গাতি গেলে দেশীঅ বিদেশী
দেশী বিদেশীর ঠেলাঠেলি যেদিন দেশের ভিত্রে
হেদিন মাইনষেরে চিনন কষ্ট আছিল,
বাগের লগে যুদ্দ করি বোন্যা অইচে বাপদাদা,
গাদার মত খাডি বন কাডি বাড়ি কইচ্যে
অন কয় বাড়ির মালিক আরেকজন!
হিয়েনে বাড়ি ইয়েনে বাড়ি আসলে বাড়ি কই?
২. ঘুন্টি উড়ে না আকাশে
আগের মত অন আর ঘুন্টি উড়ে না আকাশে
উড়াইবার মানুষ নাই
মানুষ থাইকলেঅ মাইনষের ভিত্রে মন নাই
খালি কইলজা ধরফরায় বান্দা ঘরে
ঘরের ভিত্রেঅ খালি নাই জাগা
ভাগাভাগি আর কামড়াকামড়ি,
ঘর ভাইঙতে চোকে দেয়া না গেলেঅ
দেয়া যায়, মানুষ ভালা নাই।
আকাশের মত কান্দে
মেগের মত ধরফরায় খালি বুক
সুতায় হেঁচাই বাইরৈতো হারে না কেউ, আগের মত
ঘুন্টি উড়ে না আকাশে।
৩. দিন আইবো
ব্যেকেরে রাইখতাম চাইছি ভালা
লোক জুডাইছিলাম,
সংগ্রাম কইত্যে কইত্যে আজ্ঞাইতে আজ্ঞাইতে
কোনসমে কনে জানে অশ্বর অইগেচে মানুষ!
আঁই আঁই করি কত আঁই বেরাইজ্জার মত ঘুরে
ঘর নাই
বাড়ি নাই
তবুঅ তেলানি বন্ধ নাই!
কোনসমে জানি ছায়াহঁতের মত লাইন
ঘোলা অই গেচে বেগ্গুন তারা,
অন আকাশ আচে,তারা নাই,
আলোঅ নাই,
যেতের লগে আঁইটতাম হেতেঅ চিনে না অন।
তবে এ কতা হাঁচা-
এরুম রাইতের হরেঅ আইবো দিন
মাইনষের মুখে মানুষ দেখা যাইবো।
৪. হাল্টি গেচে মানুষ
হাড়ায় হাড়ায় মাডির রাস্তা আছিল আমরার,
রাস্তাত চাক্কার ঘষা
সুয়ারি খোলের ঘষা
খাজুড্ডোগার ঠেলা গাড়ির দাগ
ভালা চবি আঁকন্যাঅ আচানক অই যাইতো দেইখলে অন
অন হাল্টি গেচে মানুষ
মাইনষের মনেঅ চবি নাই
হাত্তর অই গেচে বেক
বেক চবি হুঁচিয়েলাইচে হাত্তর
মানুষ অইবার হঁত ঢাকি গেছে রাস্তার নিচে।
রাস্তাত ঘষা নাই
আঁইটতে আঁইটতে মাইনষের মিচিল
হঁত টোয়ায় হুদামিচা।
৫. স্বাদিনতা
স্বাদিনতা কোনঅ বড্ডা গাচের নাম নঅ
লতার নাম
রিফুজি লতা,
বাড়ে আর বাড়ে…
বেড়াই ধরে,
জীবন মরণ চিনে না।
শক্ত করি মাডি ধরি রাইখলেঅ
টোয়াই টোয়াই কাডি হালাই দে বেএকে!
৬. তারকাঁডা
দুই দিকে দুই হাড়
মদ্যয়ানে হুয়াই গেচে নদী
টানের জল টানি গেচে
কঙ্কালের মত ভাসি উইটছে তারকাঁডা !
দেশে থাকিঅ দেশ দেখি না
মদ্যয়ানে ভাসি গেচে নদী।
৭. ছিত্তিছান
আঁই আন্নে আর হেতে
তিনজন
মুখামুখি দাড়াইলে চুলার মত
তিনজনের মদ্যয়ানে এক্কান জাগা
ব্যেকে ঠিক থাইকলে ভাত রান্দি খন
কোনও ব্যাফার নঅ।
কিল্লাই জানি তিনঅজনের উল্টা আঁডা!
চদ্রাই গেচে ভাতের ডেগ।
৮. বাজনা
আঁর ডায়্যা বাঁয়্যা হিডি চাআয় রামুর হুতে,
জাকির হোসেনের মতঅ আবাজ বাইর কইত্যো হারেনি কনঅ…
ডায়্যা কয়, তুই কোনদিকে? তুই কোনদিকে!
বাঁয়্যা কয়, কন্ডে যাইতাম? কন্ডে যাইতাম!
কনছে হোসেন, চামড়া অইলেই বাজনা বাজে?
হশ্ন হুনি কি কয় বেডা-
আঙ্গুল লড়ে বাতাস ঘাঁডি
তবলা বাজে, তবলা খালি
তবলা খালি তবলা জানে
ছালির টালে ছালি চালি!
৯. মাডির ঘর
যেই ঘরে আঁই ছোড আবু আছিলাম
হেই ঘর অন নাই।
ছনের যুগ শেষ অইতেই
আঁইঅ আর আবু নাই,
মাডির ঘর বুকের ভিত্রে
ঘুমে, অন্য আরিগ্যা আঁই, স্বপ্ন দেই–
আঁই অনঅ খেলার আবু উগিরতলে।
ঘর ভাঙ্গি ঘর অয়
আগের ঘর আঁজি যায় আবুর মত।
১০. রেনি চঅ
তোঁয়ার যেরুম হেট, আঁরগাঅ।
আঁরঅ ক্ষুদা লাগে তোঁয়ার মত ,
ভাতের ক্ষুদা।
যদিঅ তোঁয়ার মত মাইনষের ভাতের খুদা কম
টেঁয়ার ক্ষুদা বেশি, তবুঅ
ভাত চাইরগ্যাঅ কি দেশের ভিত্রে নাই !
হুদা ভাত অইলেঅ হরাণ বাচে
কাচের দেশ, হরাণ কাডের, রেনি চঅ–
গরিবের বুক ভাঙ্গের অন।
ভাঙ্গা কাচে আঁডন লাইগবো হগলেই।
১১. সময় বুলি কতা
ব্যেকে দেই রসিঘর লই ডরার,
ভাঁড়ের ডেগ গাছের ওঁচে চড়ার !
এরাম…
রসিঘর আর হাকঘরের চরিত্র ত এক
রান্দনবাড়ন, খায়নদায়ন, লোডাহাট্লি ব্যেক !
গেরাম…
হাকের হরে যত খানা সিক্কার ওঁচে উডি যায়,
দেইখছনি ! বেয়ান্তাইজ্যারা কি ভুলি যায়?
ব্যেরাম…
১২. মনকলা
মনে মনে মনকলা খাই লাব নাই
হাইল্যে বুকে বল জুডঅ, নামি যঅ জলে,
বলে বলে ককাল চলে?
অইতো ন, লাব অইতো ন,
শান্তির মুয়েঅ হুনি– ওম শান্তি।
অন কি আর কুত্কুত্ খেইলবার সময় আছে?
ভালা লাইগলে কইয়েল, আইবা মনে কইল্যে
এক্কারে খারাপ অইতো ন, হেরুম
আঁই কবিতা মারুম, তুঁই লাফদি ধরিও।
জানঅ ত, অন অবস্থা ভালা ন,
গাছের টোট্টেং ঘরে আই ঢুইকছে
হুদা খাই, নয় নখাই যে সমে আঁর ঘুম আইয়ে
ঘুম ভাইঙবার গান গায় টোট্টেং–
হুঁউ্উঁ- হুঁউ্উঁ- হুঁউ্উঁ- বিপদ !
১৩.মাইনষের হাপ
যেন্নে বিষ্টি হেন্নে খরায়
ভান্ড খালি, কিয়া চড়ায়!
গরু ছাগল আঁসে।
যেদিন গেছে হেদিন গেছে
ভিক্ষা করি জীবন গেছে
মাসের হর মাসে…
নিয়াইল্যাগুন আইল্যা অইছে
দোতাইল্যাগুন তালে কইছে
যুগ হুরাইছে চাইর,
হিটলার হেতে তুঘলক এতে!
ভুতেঅ ডরায় হরকা বেতে,
মাইরের ওঁচে মাইর।
ঠাউর খাবঅ, গেরাম খাবঅ
কাঙ্গাল অইলেই ঘেঁডিত চাবঅ
ন্যাতা ত্যেনা লই!
কতা হুনি হোলার বাপের,
মাইয়্যার বাপে রাস্তা মাপের।
হেদিন গেল কই?
বান্দা এগুন ছাড়া ঘুরের
ছাড়া এগুন ঘরে ঝুরের
মাইনষের এত হাপ !
ব্যেকই যদি মাইনষের হয়,
যেন্নে লাভের হেন্নে ক্ষয়,
বুইজ্জনিগো বাপ?
১৪. খবর
জীবন গেছে হরের কামে হোড়া রুটি খাই,
দুয়ার খুলি শ্মশান নামে মুখের ছবি চাই !
এতে হেতে যেতেই কঅ ব্যেকের ইসাব এক
কতা ন কই রেনি থঅ দৈনদুয়ারে ব্যেক।
হেতে জিজ্ঞায় এতের কিইছে এন্নে রইছে বই !
মরাবাপের কাতার নিচে হিরার আংটি কই ?
মনার বাপে বুইজ্ঝে ব্যথা আসল ব্যাপার কি,
আংটির লাইএ এত কতা ধাইছে বোদয় ঝি !
হুনা কতায় দুনা দোষ আর কিয়ের বা ডর,
জোনা ছিড়ি বদলা ব্যেওঁশ চিতার ওঁচে ঘর।
আকাম ইয়েন কইচ্চে যেতে কন্ডে গেছে অন
হুক্কা ন্যেতা হিয়াল হেতে গাত্তাত হান্দাই চন।
ঝিয়ে চিনে নিজের কবর আধাহেডি হোঁতা,
আঁডি আঁডি অইছে খবর ছিড়ি গেছে জোতা।
১৫. ধরা
ও করোনা…
আর হারি না,
কনদিন যাইবি কঅ ?
এই জীবনে
হুইনছে কনে–
খুঁজি মাগি খঅ !
গরীব বুলি
কামলা কুলি
হাতর হুরা হোনা
তোর আগুনে
এই হাগুনে
জুইটছে ঘরের কোণা।
তোরে আনি
কি হাপ জানি
কইচ্চে কন হাগলে ?
ব্যেকে ভোগের
মরার রোগের
শান্তি তঅ নাই বলে !
আইজ্যা এমুই
কাইল্যা হেমুই
রুগী হাইতে হুনি,
ব্যেকগ্গুন ধরি
গাড়ীত ভরি
লই জাইবোগোইনি !
হ্যেতের ডরে
এ্যতে ঘরে
হেডের ক্ষুদায় মরা,
আইন্তো যাই
হিডা খাই
হঁতে হঁতে ধরা।
যা আছিল
শেষ অই গেল
আর হারি না বাপ,
কি যে কইত্যাম
কন্ডে যাইতাম
কোন জন্মের হাপ !

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge