শনিবার, ২২ Jun ২০২৪, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন

নজরুল চেতনায় বঙ্গবন্ধু-সুনীল সরকার

নজরুল চেতনায় বঙ্গবন্ধু-সুনীল সরকার

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বাঙালি সমাজে এক অনন্য দুটি নাম। তারা ছিলেন একই চেতনার মানুষ।তাদের মধ্যে ছিল এক অনন্য যুগলবন্দিতা। দুজনেই বাংলা মায়ের অপরাজেয় বীর, দুজনেই ট্র্যাজেডির নায়ক। তাঁরা উভয়েই প্রবল বাঙালি জাতীয়তাবাদ চেতনার বোধে সমৃদ্ধ ছিলেন। একজন ব্রিটিশের বিরুদ্ধে, অন্যজন মাতৃভূমি রক্ষায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করে গিয়েছেন। তাই তো বিবিসি জরীপে এই দুই বাঙালির একজন দখল করে আছেন সর্বকালের সেরা বাঙালির এক নম্বর স্থানটি, অপরজন তথা জাতীয় কবি দখল করে আছেন তিন নম্বর স্থানটি। আসলে বাঙালিত্বের সংজ্ঞায়নের প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু ও নজরুল দুটি সম্পূরক সত্তা। একজন পূর্বসূরি, অন্যজন উত্তরসূরি।এই দুইজন মহামানব আজ আমাদের প্রেরণার বাতিঘর।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গভীর যোগ ছিল।কবিকে অসম্ভব শ্রদ্ধাভরে দেখতেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের পেছনে যে নামটি জড়িত, তা হলো কবি কাজী নজরুল ইসলাম।১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বীজমন্ত্র ছিল ‘জয় বাংলা’।এর আগেও অবশ্য শোনা গেছে কিন্তু বঙ্গবন্ধু এই বীজমন্ত্রটি ৭ই মার্চের তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে গগনবিদারী উচ্চস্বরে বাঙালির সামনে ঘোষণা করেন। এরপর থেকে ‘জয় বাংলা’ হয়ে ওঠে বাঙালির পরিচয়ের অপর নাম।জয়বাংলা শব্দটি কাজী নজরুল ইসলাম যখন সৃষ্টি করলেন তখন প্রেক্ষাপট ছিলো ভিন্ন।বিট্রিশ বিরোধী আন্দোলন তখন অঙ্কুরোদগম হচ্ছে।কবি ১৯৪২ সালের জুলাই মাসে চিরতরে নিস্তব্ধ হওয়ার আগে ‘বাঙালির বাঙলা’ শীর্ষক রচনায় বলেন, ‘বাঙালি যেদিন ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলতে পারবে-‘বাঙালির বাংলা’ সেদিন তারা অসাধ্য সাধন করবে। সেদিন একা বাঙালিই ভারতকে স্বাধীন করতে পারবে। বাঙালির মতো জ্ঞানশক্তি ও প্রেমশক্তি এশিয়া কেন, বুঝি পৃথিবীর কোনো জাতির নেই। কিন্তু কর্ম-শক্তি একেবারে নেই বলেই তাদের এই দিব্যশক্তি তমসাচ্ছন্ন হয়ে আছে।’কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালিকে সতর্ক করে জানিয়ে দিতে চেয়েছেন- ইংরেজ বিদায়ের পরে যেন নতুন কোনো অসুরের জন্ম না হয়। ‘এ আমাদের ভগবানের দান, এ আমাদের মাতৃ-ঐশ্বর্য! খবরদার, যে রাক্ষস একে গ্রাস করতে আসবে, যে দস্যু এ ঐশ্বর্য স্পর্শ করবে তাকে ‘প্রহারেণ ধনঞ্জয়’ দিয়ে বিনাশ করবো সংহার করবো।’ এ রচনায়, বাংলা অঞ্চলকে তিনি ‘বাংলাদেশ’ বলে উল্লেখ করছেন, এর আগে যার বিরল উদাহরণ রয়েছে। বাঙালির বাঙালিত্ব যে আবার কোনো ষড়যন্ত্রে বিনাশ হতে পারে, তার জন্য তিনি অভয়মন্ত্র রচনা করছেন। বাঙালিকে, বাঙালির ছেলেমেয়েকে ছেলেবেলা থেকে শুধু এই এক মন্ত্র শেখাতে বলেছেন : ‘এই পবিত্র বাংলাদেশ
বাঙালি- আমাদের।
দিয়ে ‘প্রহারেণ ধনঞ্জয়’
তাড়াব আমরা, করি না ভয়
যত পরদেশী দস্যু ডাকাত
‘রামা’দের ‘গামা’দের।’
বাঙলা বাঙালির হোক! বাঙলার জয় হোক! বাঙালির জয় হোক।’ কে জানত এই মন্ত্রই একদিন বাঙালির মুক্তির মন্ত্র হয়ে উঠবে। এই ‘জয় বাংলা’ই হয়ে উঠবে সেই মুক্তির স্লোগান! বঙ্গবন্ধুর স্লোগান। বঙ্গবন্ধু এ প্রেরণা ও বার্তা নিয়ে জয় বাংলাকে মুক্তির স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। সেই থেকে জয়বাংলা শব্দটি আমাদের।
মূলত এক অভিন্ন চিন্তাচেতনা ও স্বপ্নের নায়ক ছিলেন নজরুল ও বঙ্গবন্ধু। জাতি-ধর্মের বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের দৃঢ়অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিলেন এই দুই মহান নেতা। বিদ্রোহী কবি উচ্চারণ করেন ‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান/মুসলিম তার নয়ন-মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ’। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বাঙালি-অবাঙালি হিন্দু-মুসলমান সবাই আমাদের ভাই তাদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের’।বিদ্রোহী কবি ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে কলিকাতা মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য-সমিতির রজত-জয়ন্তী অনুষ্ঠানের ভাষণে বলেন, ‘বিশ্বাস করুন আমি কবি হতে আসিনি, আমি নেতা হতে আসিনি’। বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ৭ই মার্চের ভাষণে বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না, মানুষের অধিকার চাই’।দুই জনের চাওয়ার মধ্যে নেই কোন লোভ, নেই ক্ষমতা। দেশপ্রেমই যেন তাদের জীবনের আদর্শ।
বঙ্গবন্ধুর জন্মের পরের বছর প্রকাশিত হয় কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ “অগ্নিবীণা”। বঙ্গবন্ধু অগ্নিবীণার মত জ্বলে উঠেছেন। অগ্নিবীণার আদর্শেই যেন বঙ্গবন্ধু।কবি‘বিদ্রোহী’ কবিতার শেষাংশে বলেন ‘যবে উত্পীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না, বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত আমি সেইদিন হব শান্ত’। বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে লড়াইয়ের ডাক দিয়ে বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।
স্বাধীনতা অর্জনের পর জাতির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন কবিকে ঢাকায় এনে মহা ধুমধামে জন্মদিন পালন করতে।তাৎক্ষণিক বিষয়টি নিয়ে সাড়া পড়লেও এখানে কিছু প্রশাসনিক জট ছিল।কারণ ভারত সরকারের মতামতের ব্যাপার ছিল,কবিপরিবারের ইচ্ছার ব্যাপারটিও ছিল।যখন দুই দেশের ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রশ্ন উঠে আসে,তখন এর সমাধান কূটনীতির মাধ্যমেই হতে হবে।এ ক্ষেত্রে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী অবদান রাখলেন।কবিকে দেশে নিতে চান এমন প্রস্তাব ইন্দিরা গান্ধীকে দেন বঙ্গবন্ধু।ভারতের সরকার প্রধান ছাড়াও বঙ্গবন্ধু কবি পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।তবে এখানেই কূটনীতির শেষ হয়নি। কবিকে আনার বিষয়টি তখনও ঝুলেই ছিল।বঙ্গবন্ধুর এই ভারত সফর ৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছিল।কবির জন্মদিন আসতে তখনও ২-৩ মাস বাকি।কবিকে বাংলাদেশে আনার জন্য শুরু হয় চিঠি দেওয়া নেওয়া,নানান চিন্তাভাবনা।‘হে কবি’ সম্বোধন করে নজরুল ও তার পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি লেখেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু! চিঠির বিবরণে লেখা হয়, ‘আমি আমার বন্ধু ও সহকর্মী জনাব মতিউর রহমান এবং আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক জনাব মোস্তফা সারওয়ারকে আপনার কাছে পাঠাচ্ছি। অনুগ্রহপূর্বক আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা গ্রহণ করবেন। মুক্ত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জনগণ ও আমার পক্ষে আমি আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আপনার জন্মবার্ষিকীতে আপনার আদর্শে বাংলাদেশকে সিক্ত হতে দিন। আমরা বাংলাদেশে সাগ্রহে আপনার আগমনের প্রতীক্ষা করছি। আমি আশা করি, আপনি অনুগ্রহ করে আসবেন। জয় বাংলা।’
বঙ্গবন্ধু হাল ছাড়েননি।অবশেষে কবির ৭৩তম জন্মবার্ষিকীতে (১৯৭২ সালের ২৪ মে) সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্বাধীন বাংলাদেশে তাকে ফিরিয়ে আনেন বঙ্গবন্ধু।বাংলাদেশে আসার পর নজরুলকে নিয়ে যাওয়া হয় ‘কবিভবনে’, ধানমন্ডি ২৮ নম্বর রোডের ৩৩০/বি নম্বরের একটি দ্বিতল বাড়িতে। ধানমন্ডিতে নজরুলের জন্য এই বিশেষ বাড়িটিও রাষ্ট্রীয়ভাবে দেওয়া হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর বাড়ির খুব কাছেই ছিল নজরুলের জন্য বরাদ্দকৃত বাড়িটি। এই বাড়িটি পছন্দ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু নিজেই। ২৪ মে নজরুল পা রাখলেন খোলামেলা এই বাড়িতে, সবুজ ঘাসের আঙ্গিনা কবিকে মনে করিয়ে দেয় বাংলাদেশে আছেন তিনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবিকে শ্রদ্ধা জানাতে তার ভবনে এলেন। তার হাতে বিশাল ফুলের ডালি। গভীর শ্রদ্ধাভরে পুষ্পমালা পরিয়ে দিলেন কবিকে। বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব কবির হাতে তুলে দিলেন নিজ হাতে অতি যত্নে বানানো ফুলের তোড়া। বঙ্গবন্ধু পরম স্নেহে বারবার হাত বুলিয়ে দিতে থাকলেন কবির মাথায় ও পিঠে। নির্বাক কবি অপলক দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে রইলেন বঙ্গবন্ধুর দিকে। হাত বাড়িয়ে কী যেন বিড়বিড় করে বললেন বঙ্গবন্ধুকে। বাকশক্তিহীন সে মুখের ভাষা বোঝা গেল না। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ কবির সান্নিধ্যে সময় কাটান বঙ্গবন্ধু এ সময়ের স্মৃতিচারণে কবির নাতনি খিলখিল কাজী লিখেছেন, ‘… এর কিছুক্ষণের মধ্যে সেই মহান নেতা বঙ্গবন্ধু হাসি মুখে দাদুকে শ্রদ্ধা জানাতে এলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বাবা ও চাচা শ্রদ্ধাভরে দাদুর কাছে নিয়ে গেলেন। … তাকে দেখেই বুঝতে পেরেছিলেন দাদুর প্রতি তার অসীম শ্রদ্ধাবোধ ও অফুরন্ত ভালোবাসা।’
বিদ্রোহী কবিকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কবি পরিবারের মতামতকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। কবির ৭৩তম জন্মদিবস উপলক্ষ্যে নজরুল একাডেমি আয়োজিত অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাণী দিয়েছিলেন এই বলে, ‘নজরুল বাংলার বিদ্রোহী আত্মা ও বাঙালির স্বাধীন ঐতিহাসিক সত্তার রূপকার।…বিশ্ববিধাতা নজরুলকে এক স্বতন্ত্র ছাঁচে গড়ে পাঠিয়েছিলেন এই ধরার ধুলায়।’বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে কবি নজরুল স্বীকৃতি পেলেন বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে। এরপর কবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধি পান। কবিকে দেওয়া হয় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব। কবি নজরুল ভূষিত হনএকুশে পদকেও।বঙ্গবন্ধু জানতেন,বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে কবি নজরুল ছিলেন অবিরাম প্রেরণার উৎস। নজরুলের কবিতা ও গান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উজ্জীবিত করে।বাঙালির চেতনা ও মননে এই দুই মহান পুরুষের আবির্ভাব ছিল অনেকটা ধূমকেতুর মতো।দুই জনেই ছিলেন স্বাধীনতার প্রবাদপুরুষ।আপামর বাঙালি ব্যাপক উজ্জীবিত হয় এই দুই স্বাধীনতাকামী মহান পুরুষের দ্বারা।‘বাঙালির জয় হোক’ বলে যে মুক্তির কথা কবি নজরুল লিখেছিলেন,বঙ্গবন্ধু সেই ইচ্ছাকে পূর্ণতা দিলেন ‘জয় বাংলা’ বলে।দুই জনেই আজীবন সংগ্রাম করেছেন সাম্রাজ্যবাদ,সাম্প্রদায়িকতা ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে।সাহিত্যের কবি কাজী নজরুল,আর রাজনীতির কবি বঙ্গবন্ধু।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে নজরুলের গানকে রণসংগীত হিসেবে মর্যাদা দেন। বঙ্গবন্ধু সব অনুষ্ঠানে নজরুল সংগীত পরিবেশন করার কথা বলতেন। নজরুলের গানের লাইন কথায় কথায় উদাহরণ দিতেন। নজরুল ও বাংলাদেশকে এমনি করে একীভূত করেছিলেন বাঙালির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু। অবাক বিস্ময়ে লক্ষণীয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট খুনিরা সপরিবারে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুকে। কবি কাজী নজরুলও মৃত্যুবরণ করেন এর ঠিক পরের বছর সেই আগস্ট মাসেই (’৭৬-এর ২৯ আগস্ট)! নজরুল হয়তো বুঝতে পেরেছেন যে মানুষটি তাকে লালন করেছেন আজীবন তার আজ এমন পরিনতি। তাই তিনি চলে গেলেন অনন্তলোকে।
নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার ৯০ বছরপূর্তিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ-ভারত যৌথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে বলেছিলেন, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল এবং বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানসিকতার দিক থেকে সমান্তরাল অবস্থানে রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছা ছিল শোষণহীন বাংলাদেশ গড়া। নজরুলও চেয়েছেন বঞ্চনাহীন, অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়তে। দুই জনের স্বপ্ন ছিল এক ও অভিন্ন। দুই জনেই ছিলেন বিদ্রোহী। এক জন সাহিত্যে, অন্য জন রাজনীতিতে। এজন্য এক জনকে বলা হয় ‘পোয়েট অব লিটারেচার’, অন্য জনকে ‘পোয়েট অব পলিটিকস’।
বঙ্গবন্ধু ও কবি নজরুল ইসলামের তুলনা করতে গিয়ে খিলখিল কাজী একজনকে বলেছেন মহাকবি এবং অন্যজনকে মহানেতা। খিলখিল কাজীর ভাষায় এই মহাকবি ও মহানেতা দেশের জন্য দেশের মানুষের কল্যাণে ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক এবং স্বতন্ত্র ও এককভাবে বাঙালির প্রাণে আজীবন স্পন্দিত হতে থাকবেন, যার কোনো ক্ষয় নেই।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-বয়সে বঙ্গবন্ধু নজরুলের চেয়ে একুশ বছরের ছোটো ছিলেন।বয়সের এই ব্যবধান সত্ত্বেও দুই বাঙালির চিন্তায় ছিল বাঙালির স্বাধীনতা এবং সর্বস্তরের মানুষের মুক্তির আকাংক্ষার মিল।যে কারণে বলাই চলে,কাজী নজরুল ইসলাম যা চিন্তা করেছিলেন,বঙ্গবন্ধু সে চিন্তার ধারাবাহিকতা এনেছেন আর বাঙালিকে যথাযোগ্য নেতৃত্ব দিয়েছেন।সে-সূত্রেই বাঙালি পেয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ এবং ১৯৭২ সালের ঐতিহাসিক সংবিধান।বঙ্গবন্ধুর ভাবনায় কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন আদর্শিক ধ্রুব তারার মতো।১৯৭৫-এর আগস্টে বঙ্গবন্ধু হত্যা হলে পরের বছর আগস্টে অভিমান করেই হয়তো চিরতরে দূরে চলে যান বাঙালির চির বিদ্রোহী,চির অভিমানী কবি কাজী নজরুল ইসলাম!দৈহিক মৃত্যু ঘটলেও এই দুই মহাত্মার অজর-অমর-অক্ষয় আদর্শের সত্যি মৃত্যু নেই।

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge