বুধবার, ১৭ Jul ২০২৪, ১০:৫১ অপরাহ্ন

“দ্যা আর্ট অফ স্যাংশন” একটি পর্যালোচনা এবং প্রেক্ষিত বাংলাদেশ-লতিফুর রহমান প্রামাণিক।

“দ্যা আর্ট অফ স্যাংশন” একটি পর্যালোচনা এবং প্রেক্ষিত বাংলাদেশ-লতিফুর রহমান প্রামাণিক।

(১)
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এই প্রথম স্যাংশন বা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যে আলোচনার জন্ম হয়েছে তা হয়তো অতীতে আর কখনো ঘটেনি। সেই আলোচনা পত্রিকার প্রথম পাতায় পাতায় বা চায়ের টেবিলে এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির মাঠে ময়দানে। এই স্যাংশন নিয়ে কবে আন্দোলিত হয়েছিল রাস্ট্র আর সেই ইতিহাস ও খুঁজে পাওয়া যায় না। আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিমন্ডলে যদি ও এই স্যাংশন একটা ডাল ভাতের মতো বিষয়। কিন্তু এর শুরুই বা কবে? দঃ এশিয়ার রাস্ট্র গুলো বহুকাল যাবত এই স্যাংশন এর ছায়ার ছোঁয়াখানি ও পায়নি। বর্তমান রাস্ট্র ব্যবস্থা এক দিনে গোড়াপত্তন হয়নি। কালের বিবর্তনে রাস্ট্র ব্যবস্থার প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটেছে এবং যা প্রাচীন কাল হইতে প্রতিদ্বন্দ্বী রাস্ট্রের শাসকরা তাদের আধিপত্য আর ক্ষমতা টিকে রাখার জন্য কিংবা শাস্তি হিসেবে এই স্যাংশন একটা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার উদাহরণ কম নয়। বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় নিষেধাজ্ঞাকে সাধারণত এক ধরনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটা হতে পারে নিয়ন্ত্রণের জন্য বা হতে পারে দমনের জন্য। ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই ধারাবাহিকতায় নানা ঘটনাপ্রবাহে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশ হচ্ছে রাশিয়া। ইতিহাসে এক রাস্ট্র অন্য রাস্ট্র বা কোন ব্যক্তির উপর যে স্যাংশন প্রদান করে তার মুখ্য কারণ গুলো মুলত কয়েকটি বিষয়কে কেন্দ্র করে যেমন, সেই রাস্ট্র অন্য কোন দুর্বল রাস্ট্রকে দখল বা অপরাধ মূলক কোন কার্য্য গ্রহণ করলে, জাতীসংঘ বা রাশিয়া, চীন বা আমেরিকার স্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ড চালাতে থাকলে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে, যুদ্ধ বাধালে, পারমাণবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণে, একনায়ক বা কোন স্বৈরশাসক তার দেশের নাগরিকের উপর নির্যাতন চালালে ইত্যাদি। অনুন্নত আর ছোট রাস্ট্রগুলোর জন্য স্যাংশন এক ধরনের যুদ্ধ ঘোষণার মতো এবং যদি তা হয়ে থাকে খোদ রাস্ট্রের বিরুদ্ধে বা সেটা যদি হয় অর্থনৈতিক স্যাংশন। শুরু হওয়া রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সারা দুনিয়ায় আমেরিকা বনাম রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি স্যাংশনে বিশ্বের প্রায় সমস্ত দেশে অর্থনৈতিক মন্দায় বিপর্যয় হয়ে গেছে। সম্ভবত রাশি ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এক সাথে এত ব্যক্তি, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বা রাস্ট্র অতীত কালে আর এত স্যাংশন দেখেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে বাইডেন প্রশাসন বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে নড়েচড়ে বসছেন। এক সময় পশ্চিমা দেশগুলোর গন্ডির ভিতর থমকে বসে থাকা স্যাংশন বা নিষেধাজ্ঞা আজ দক্ষিণ এশিয়ার রাস্ট্রগুলোর উপর চোখ রাঙ্গাচ্ছে। সীমাহীন দুর্নীতি, গণতন্ত্রহীনতা, বাক স্বাধীনতা, বিচারহীনতা৷ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন এমন একটা পর্যায়ে চলে গিয়েছে যার ফলে বাংলাদেশের উপর জাতিসংঘ ইউরোপ ইউনিয়ন ও আমেরিকার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে বাংলাদেশ এবং পাশাপাশি মায়ানমারের কথা ও না বললে নয়। মায়ানমারের সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা দাবীতে আন্তর্জাতিক মহলের দেয়া স্যাংশন এর ঘটনা খুব পুরনো নয়। বাংলাদেশের মতো মধ্যমের দেশ এবং রেমিটেন্স এর উপর নির্ভরশীল একটি রাষ্ট্রের জন্য আমেরিকার বা জাতিসংঘের বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের যেকোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিঃসন্দেহে ভয়াবহতা সৃষ্টি করবে। দিনে দিনে তা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈশ্বিক দুর্নীতি দমন বিভাগের সমন্বয়কারী রিচার্ড নেফিউ আজ রোববার রাতে ঢাকায় আসছেন। দুর্নীতি দমন বিষয়ে আলোচনার জন্যই আসছেন তিনি। জাতীয় পত্রিকার এই শিরোনাম কিন্তু সুখকর নয়। সম্ভবত এই প্রথম আমেরিকার কোন উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতি দমন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এত ঢাকঢোল পিটিয়ে আসছে। আর সময় টাও কিন্তু সহনীয় পর্যায়ের নয়। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দুনিয়ার মোড়ল রাষ্ট্রগুলি, জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বারংবার বর্তমান সরকারের ওপরে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের তাগিদ দিয়ে ইতোমধ্যে ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম ঘটনা। ইতোমধ্যে একজন নামকরা পত্রিকার সম্পাদক এক প্রকার নিশ্চিত পরিনামের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন যে, বাংলাদেশের ব্যবসায়ী দের উপর আমেরিকার এক ভয়ংকর ঝড় আসছে এবং তা এক সপ্তাহের মধ্যে। এই লেখা যখন লিখছি তখন অব্দি সেই ঝড় না আসলে ও তা যে আসন্ন সেই নিয়ে খুব ভ্রান্তি নেই। বাংলাদেশ থেকে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের অব্যবস্থাপনা, শেয়ার বাজারে ধ্বস, কেলেঙ্কারি, তথা অর্থনৈতিক মন্দা, বিদেশে লুটপাট কারীদের অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে যাওয়ার ঘটনা, আর দুর্নীতি বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা এখন। পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে একটি আলোচনার বিষয় হলো, জাতিসংঘের দুর্নীতি কনফারেন্সে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে, আর দুঃশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে রিচার্ড নেফিউ বাংলাদেশে এসেছেন কেন? কারণ তিনি হলেন স্যাংশনের মাস্টার! তার পরিকল্পনা, নির্দেশনা বা গবেষণা ইত্যাদি বিষয়গুলো অনুসরণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়।
রিচার্ড নেফিউ সম্পর্কে খুব একটা ধারণা ছিল না। সহজ সরল আর সদালাপী মানুষটা আমেরিকার কাছে কেন এতটা গুরুত্বপূর্ণ? রিচার্ড নেফিউ এর লেখা বই the Art of sanctions. রিচার্ড নেফিউ এর লেখা এই বইটি আবার নাকি আমেরিকার নীতিনির্ধারণী ব্যক্তিদের দুর্নীতি দমনের গ্রামার বা নীতিমালার মতো। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। রিচার্ড নেফিউ আমেরিকার পারমাণবিক অস্ত্র ও নিষেধাজ্ঞা বিশেষজ্ঞ যিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল অফ গ্লোবাল এনার্জি এর পলিসি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এবং কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি এর স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল এন্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স এর সিনিয়র রিসার্চ শিক্ষক। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এই ছাত্র টি আজ সারা আমেরিকার ব্রেইন অফ স্যাংশন হিসেবে আবিষ্কার হয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে স্যাংশন মাস্টার হিসেবে তার উপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল তা অতি সফলতার সাথে করতে জুড়ি ছিলো না তার। এর মধ্যে সেক্রেটারি অফ স্টেট অ্যাওয়ার্ড জাতিসংঘ থেকে ২০০৮ সালে লুফে নিয়েছেন রিচার্ড নেফিউ। এছাড়া আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকেও রয়েছে অনেক পুরস্কার। লেখক হিসেবে বইটি তার প্রথম। আমেরিকার দুর্নীতি বিরোধী সমন্বয় হিসেবে ২০২২ সালে তার কাজের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হয় সেই সূত্রে বাংলাদেশে তার আগমন আনন্দের নাকি দুঃখের সেটা সময়ের সাথে সাথে আমরা বুঝতে পারব। এই বইয়ের আলোচনায় জনাব নেফিউ ব্যাখ্যা করেন যে কীভাবে এবং কেন নিষেধাজ্ঞাগুলি একটি বিদেশী-নীতির হাতিয়ার, তাদের বিকাশের পিছনে প্রেরণা এবং অনুশীলনকারীদের দেখায় কিভাবে নতুন ব্যবস্থা বিকাশ করা যায়। রিস্ক অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স জার্নালের সাথে আলোচনায়, তিনি বইটি সম্পর্কে কথা বলেন, বর্তমান নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা বিশ্লেষণ করেন এবং নিষেধাজ্ঞার প্রথম সারিতে থাকাকালীন শেখা পাঠ প্রদান করেন। এটি স্বচ্ছতার জন্য হালকাভাবে সম্পাদনা করা হয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে জার্মানভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এবং মার্কেট ও কনজিউমার ডেটা প্ল্যাটফর্ম স্ট্যাটিস্টার এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, ইউক্রেনে আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশ হয়ে উঠেছে রাশিয়া।
স্ট্যাটিস্টার সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছরের ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত রুশ নাগরিক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর ১৪ হাজার ৮১টি নিষেধাজ্ঞা ছিল। এটি পূর্ব ইউক্রেনের লুহানস্ক এবং দোনেৎস্ক অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার আগের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা আরোপের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ১ হাজার ৯৪৮টি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা সুইজারল্যান্ড ও কানাডা যথাক্রমে ১ হাজার ৭৮২টি এবং ১ হাজার ৫৯০টি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
মস্কোর ইউক্রেন আক্রমণের আগে ইরান ছিল বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত রাষ্ট্র। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত ও ইসরায়েলের মতো দেশগুলোর আরোপিত ৩ হাজার ৬১৬টি সক্রিয় নিষেধাজ্ঞা ছিল।
পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে বিরোধ এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে ইরানের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে এবং ফেব্রুয়ারির সেই পরিসংখ্যানে ইরানের বিরুদ্ধে বর্তমানে সবমিলিয়ে ৪ হাজার ১৯১টি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কাজ করা ওয়েবসাইট কাস্টেলাম-ডট-এআইয়ের তালিকা অনুযায়ী নিজেদের ওই তালিকা প্রস্তুত করে স্ট্যাটিস্টা। কাস্টেলাম-ডট-এআইয়ের তালিকায় নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশটির বিরুদ্ধে মোট নিষেধাজ্ঞা ছিল ২ হাজার ৬৪৩টি।
তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে থাকা উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে রয়েছে ২ হাজার ১৩৩টি নিষেধাজ্ঞা। পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে বেলারুশ, মিয়ানমার ও ভেনেজুয়েলা। এই তিন দেশের নিষেধাজ্ঞার পরিমাণ যথাক্রমে ১ হাজার ১৫৫টি, ৮০৬টি এবং ৬৫১টি।
জাতিসংঘের আরোপিত সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক নিষেধাজ্ঞাগুলো কেবল সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সম্ভব হয়েছিল, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের একমাত্র আধিপত্যের দেশ হয়ে ওঠে। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা হঠাৎ করেই ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। ১৯৯০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ইরাকের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো একটি জাতিরাষ্ট্রের ওপর আরোপিত সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল। তারা ইরাকের সামাজিক কাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়েছে। অবশ্য ইরান ও লিবিয়া সরকারের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাব প্রভাব নিয়ে বিতর্ক আছে। চল্লিশ বছর ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তেহরান সরকারকে খুব কমই প্রভাবিত করেছে বা বিপাকে ফেলেছে। ইরান কি নিষেধাজ্ঞা কাটানোর আশায় ২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তিতে প্রবেশ করেছিল? বিষয়টা প্রশ্নবিদ্ধ। কিউবার ওপর নিষেধাজ্ঞার ৬০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র আদতে কী অর্জন করেছে? কিউবার অর্থনীতি ভেঙে পড়লেও এবং দারিদ্র্য ছড়িয়ে পড়লেও এর ফলে শাসনব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। নিষেধাজ্ঞা সহ্য করা উত্তর কোরিয়ার রাজনীতিতেও এর কোনো প্রভাবই পড়েনি। কিন্তু এই দেশ গুলোর সাথে কি বাংলাদেশের তুলনা করা যায়? ইরান অর্থনৈতিক ভাবে অনেক স্বয়ংসম্পূর্ণ, নিজস্ব শক্তিশালী সামরিক ব্যবস্থা, অস্ত্র বিক্রি, তেল বিক্রি ইত্যাদি ভরসার যায়গা। রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক বা সামরিক যেই ক্ষেত্রে বলিনা কেন বাংলাদেশের সাথে তার তুলনা করা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। কিউবা ভেংগে পড়েছে। উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাহিরে একটা অন্ধকার দেশ। একনায়ক কিম জং উন তার দেশের মানুষ কে সারা দুনিয়ার মানুষের সাথে করেছে সম্পর্কহীন। এটা কি দেশটির জন্য যে ক্ষতিকর নয় তা কেউ অস্বীকার করতে পারে না। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক উন্নতি নিয়ে যে গর্বের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছিল তা ক্রমশ স্থিমিত হওয়ার পর্যায়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ কি পারবে আমেরিকার সাহায্য ছাড়া এগিয়ে যেতে, যে আমেরিকাই হচ্ছে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করা দেশ, সবচেয়ে বড় সাহায্যকারী রাস্ট্র। বিশ্বায়নের এই যুগে দুনিয়ার মোড়ল রাস্ট্র কে এড়িয়ে এগিয়ে চলতে? তর্ক নয়, বাস্তবতা হলো চিন্তার ফসল। পোশাক রপ্তানি যখন প্রধান আয় এবং তা যদি আমেরিকার বন্ধু রাস্ট্র ইউরোপ হয়। যেখানে ই ইউ বারবার আমেরিকার সুরে কথা বলছে। বাংলাদেশ কথা না শুনলে ই ইউ যদি ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বলে? বাংলাদেশ কি পারবে লক্ষ লক্ষ পোশাক শ্রমিকদের নতুন কাজ দিতে? জাতীসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য বাংলাদেশের। জাতীসংঘের সুস্ট নির্বাচনের দাবী অগ্রাহ্য করলে কোন স্যাংশন দিলে কি বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের সুবিধা দিতে পারবে? এরকম হাজারো প্রশ্ন ঘুরছে।
একটি দেশের উপর স্যাংশন আসলে কিভাবে কাজ করে। তার প্রতিক্রিয়া কি? বা তার ভবিষ্যতে কি ফলাফল অপেক্ষা করছে। এমন হাজারো প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় এই বইয়ের পাতায় পাতায়। অথচ এই স্যাংশন নিয়ে এতকাল যে ধোয়াশার মধ্যে ছিল তা লেখক গবেষক নেফিউ এর দ্যা আর্ট অফ স্যাংশন এর মধ্যে ফুটে উঠেছে অবিশ্বাস্য ভাবে। স্যাংশন কি একটা কলা? শৈল্পিক বিষয় তা হয়তো কল্পানায় ছিলো এতকাল।
১৮০৭ সালের এমবার্গো আইনের ব্যর্থতার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত বিদেশী দেশগুলির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে তেমন আগ্রহী ছিল না। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর, তারা পুনরায় এই বিষয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠে। প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন এই ধরনের নিষেধাজ্ঞাকে লীগ অফ নেশনস-এর শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি পদ্ধতি হিসেবে প্রচার করেছিলেন। যদিও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতালির বিরুদ্ধে ১৯৩৫ সালের লীগ নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেয়নি। যদিও, ১৯৪০ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের বিরুদ্ধে এবিসিডি লাইনে অংশগ্রহণ করে এবং ১৯২৫ সালের হিলিয়াম আইনের মাধ্যমে সেদেশে কৌশলগত পণ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করে। স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে বৈদেশিক নীতির হাতিয়ার হিসাবে নিষেধাজ্ঞাকে ব্যবহার করা হয়। পরে, মার্কিন সরকার “সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক” হিসাবে তালিকাভুক্ত দেশগুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন একতরফা নিষেধাজ্ঞা বিভিন্ন সময়ে সমালোচিত হয়েছে। ১৯৯৮ সাল থেকে আজ পর্য়ন্ত যুক্তরাষ্ট্র ২০টিরও বেশি দেশের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।Daniel T. Griswold-এর মতে, এই নিষেধাজ্ঞাগুলিরি যে সকল দেশের বিরুদ্ধে দেয় হয়েছিল, তাদের বেশিরভাগেরই আচরণে কোন পরিবর্তন আসেনি; কিন্তু তারা আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে সেখানে কাজ করা থেকে বিরত রেখেছে এবং ফলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর দরিদ্র জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
ইরানে ১৯৭৯ সাল থেকে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়। সমস্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর প্রায় সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে; প্রেক্ষাপট হিসাবে উল্লেখ করা হয়, ইরানের বিপ্লবীদের দ্বারা তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে ঝড়ের প্রতিক্রিয়ায়, কয়েক ডজন আমেরিকান কূটনীতিককে নিয়ে জিম্মি সঙ্কট তৈরি করেছে। যদিও ১৯৮১ সালে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইরানের দুর্বল মানবাধিকার রেকর্ডের কারণে ১৯৮৭ সালে আবার উল্লেখযোগ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরানকে সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে উত্তর কোরিয়ায় চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছিল। উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিমন্ডলে এই স্যাংশন গুলো আলোচনার খোরাক জোগায় সবসময়ই।
আলোচনার বিষয়বস্তু তা নয় আর্ট অফ স্যাংশন নিয়ে এবার আলোকপাত করবো। Amazon এর বিশ্লেষণের দিকে সামান্য আলোকপাত করলে যে বিষয় টা পরিস্কার হয় তা হচ্ছে যদিও নিষেধাজ্ঞাগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে একটি বৈদেশিক নীতির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তবে সেগুলি অকার্যকর হয় যদি একটি স্পষ্ট কৌশল ছাড়াই কার্যকর করা হয় যা লক্ষ্যের প্রকৃতি এবং পরিবর্তনশীল আচরণের প্রতি প্রতিক্রিয়াশীল। নিষেধাজ্ঞার আর্ট-এ, রিচার্ড নেফিউ নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা এবং প্রয়োগের জন্য একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক কাঠামো অফার করে যা শুধুমাত্র প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার কৌশলের উপর ফোকাস করে না বরং গুরুত্বপূর্ণভাবে, কীভাবে পথ ধরে ক্রমাঙ্কন করা যায় এবং কীভাবে নিষেধাজ্ঞাগুলি অর্জিত হয় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সর্বাধিক কার্যকারিতা।

(২)
নেফিউ
ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞার নকশা এবং বাস্তবায়নের একজন নেতা – দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণের উপর ভিত্তি করে নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যের প্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা করার জন্য নির্দেশিকা তৈরি করে: ব্যথা এবং সমাধান। নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা একটি লক্ষ্যের বিরুদ্ধে ব্যথা প্রয়োগের মধ্যে নিহিত, তবে লক্ষ্যগুলির এই ব্যথা প্রতিরোধ, সহ্য করা বা কাটিয়ে উঠতে উল্লেখযোগ্য সংকল্প থাকতে পারে। ব্যাথা এবং সংকল্পের ইন্টারপ্লে বোঝার জন্য নিষেধাজ্ঞাগুলি সফলভাবে এবং মানবিকভাবে ব্যবহার করার কেন্দ্রবিন্দু। এই দুটি মূল ভেরিয়েবলের দিকে মনোযোগ দিয়ে এবং নিষেধাজ্ঞার শাসনের সময় তারা কীভাবে পরিবর্তিত হয়, নীতি নির্ধারকরা নির্ধারণ করতে পারেন কখন কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ সফল হতে পারে বা কখন বৃদ্ধি প্রয়োজন। ইরান এবং ইরাক উভয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা থেকে পাঠের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, নীতি নির্ধারকদেরকে কীভাবে পরিমাপ করা যায় এবং ব্যথার প্রতি সাড়া দেওয়া যায় এবং শক্তিশালী ও সফল নিষেধাজ্ঞার শাসন ব্যবস্থার সেবায় সমাধান করা যায় সে বিষয়ে বাস্তব নির্দেশনা প্রদান করে। এত চমৎকার ব্যাখ্যা আর সুচারুভাবে গবেষণা না হলে স্যাংশন কে আসলেই শিল্পের আবরণে তুলে আনা সম্ভব নয় কখনো।
নিষেধাজ্ঞার তাৎপর্য বিবেচনা করে, তাদের প্রয়োগের জন্য দুটি বিশেষ উপায়ে চিন্তা করা উচিত: বাণিজ্য-সম্পর্কিত ব্যবস্থা এবং অর্থ-সম্পর্কিত ব্যবস্থা। ইতিহাস জুড়ে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শব্দটি মূলত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার সমার্থক ছিল, বিশেষ আইটেম আমদানি বা রপ্তানি নিষিদ্ধ ছিল। বিপরীতে, আর্থিক নিষেধাজ্ঞাগুলি একটি অপেক্ষাকৃত নতুন বিশেষীকরণ, যা মুদ্রা বাজার, আর্থিক প্রবাহ এবং বীমা প্যাটার্নের ক্রমবর্ধমান বিশ্বায়িত প্রকৃতির সুবিধা গ্রহণ করে। অন্তর্নিহিত বাণিজ্যের জন্য আর্থিক প্রবাহের কেন্দ্রীয় প্রকৃতির স্বীকৃতি এবং – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের জন্য – আর্থিক জন্য পশ্চিমা দেশগুলির কেন্দ্রীয়তাকে স্বীকার করে আর্থিক নিষেধাজ্ঞাগুলি কমোডিটি বা পণ্যের লেনদেনের ধরনগুলির উপর কম এবং তাদের বাণিজ্যের পদ্ধতির উপর বেশি মনোযোগ দেয়৷ প্রবাহিত 2005-2006 থেকে শুরু করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর্থিক নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার হুমকিকে একটি ঠেলাঠেলি হিসাবে ব্যবহার করেছে, ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিপূর্ণ এখতিয়ার সহ ব্যবসা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। 2014 সালে, যেমনটি আমরা অধ্যায় 9-এ দেখব, রাশিয়াকে স্পর্শ করে, এই সরঞ্জামটি একটি সম্পূর্ণ নতুন কৌশল নিয়েছে, চাপ প্রয়োগের উপায় হিসাবে বিদেশী-নিয়ন্ত্রিত রাশিয়ান ঋণকে লক্ষ্য করে। শেষ পর্যন্ত, এটা বিতর্কিত যে এই ধরনের অর্থনৈতিক অনুমোদনের বলটি হাতিয়ারের প্রকৃতি-অসুবিধাপূর্ণ আর্থিক যোগসূত্র থেকে-নাকি এটি পরিচালনাকারী রাষ্ট্রগুলির প্রকৃতি থেকে। কিন্তু এটা নিশ্চিত যে এই ধরনের যন্ত্রগুলির ক্ষমতা আছে এবং অন্যথায় বৈধ পণ্যের স্থানান্তরকে স্বাভাবিকভাবে বাধা না দিয়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কাছে যাওয়ার একটি শৈল্পিক উপায় হিসাবে দেখা হয়। (আর্থিক নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের উপযোগিতা সম্পর্কে আরও জানতে, জুয়ান জারেটের চমৎকার বই, ট্রেজারি’স ওয়ার দেখুন।) অবশ্যই, নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাগুলিকে বিভিন্ন বিভাগে বিভক্ত করা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়, কারণ শুধুমাত্র বিরল পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাগুলি তাই কাঠামোবদ্ধ। যে তাদের পরিমাপ পরিষ্কারভাবে শুধুমাত্র এক বা দুটি ধরণের মধ্যে পড়ে।
ব্যাথা কি? এই প্রাথমিক কষ্ট দেওয়ার কারণ ই বা কি? লেখক তুলে এনেছেন ইরান, কোরিয়া সহ নানান দেশের উপর অতীতের প্রবাহের প্রতি স্পর্শ করে।
একটি নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যের বিরুদ্ধে ব্যথার প্রয়োগ হল নিছক দুঃখজনক, যদি না এটি সেই ব্যথা কী অর্জন করবে সে সম্পর্কে একটি প্রত্যাশার সাথে সংযুক্ত না হয় এবং যখন অনুমোদনকারী রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য পূরণ হয় তখন ব্যথা দেওয়া বন্ধ করার প্রস্তুতির সাথে মিলিত হয়। আমার অভিজ্ঞতায়, একটি রাষ্ট্র সাধারণত নিম্নলিখিত স্বার্থগুলির মধ্যে অন্তত একটিকে সন্তুষ্ট করার জন্য নিষেধাজ্ঞাগুলি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়:
নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যের আচরণ এবং ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে �� অনুমোদনকারীর পক্ষ থেকে অধ্যবসায়ের প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করা (যা আরও শক্তিশালী হয় যদি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে মঞ্জুরিদাতার পাশাপাশি মঞ্জুরিপ্রাপ্তদের জন্য ব্যয় হয়) �� অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক উপাদান বা স্টেকহোল্ডারদের দাবি সন্তুষ্ট করার জন্য হয় একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া যা কিছু অসদাচরণ চলছে বা, সাধারণভাবে, কারো জন্য “কিছু করার” জন্য �� নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যমাত্রা পরিবর্তন না হলে চাপ বাড়ানোর ইচ্ছা প্রদর্শন করা কিন্তু তা সত্ত্বেও, কীভাবে নিষেধাজ্ঞাগুলি নিযুক্ত করা যেতে পারে তার মধ্যে অবিশ্বাস্য বৈচিত্র্য রয়েছে। কিছু নিষেধাজ্ঞার শাসন দ্রুত আরোপ করা হয়, প্রাথমিক পদক্ষেপ থেকে বিধিনিষেধের একটি ব্যাপক সেটে দ্রুত বৃদ্ধির সাথে, যেমন 1990 এর ইরাকের ক্ষেত্রে হয়েছিল। অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা শাসনের বিকাশ হতে আরও বেশি সময় লাগে, যেমনটি ছিল ইরানের ক্ষেত্রে, যেটি – যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে – ডিসেম্বর 2006 এ UNSC রেজুলেশন 1737 গৃহীত হওয়ার সাথে সাথে একটি আন্তর্জাতিক আন্দোলন হিসাবে আন্তরিকভাবে শুরু হয়েছিল৷ প্রকৃতির উপর নির্ভর করে প্রতিটি পদ্ধতির সুবিধা রয়েছে৷ লক্ষ্য এবং এর লঙ্ঘন, এর দুর্বলতার পরিমাণ এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থনের মাত্রা। আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি দুটি ক্ষেত্রে এই বিষয়ে দরকারী বৈপরীত্য প্রস্তাব. উভয় ক্ষেত্রেই, নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাগুলি একটি উল্লেখযোগ্য প্রথম পদক্ষেপের সাথে শুরু হয়েছিল, তারপরে নিষেধাজ্ঞাগুলি বৃদ্ধির জন্য জায়গা রেখেছিল। প্রাথমিক পার্থক্য হল যে, ইরাকের জন্য, পরিস্থিতির অত্যাবশ্যকীয় প্রকৃতির কারণে আংশিকভাবে নাটকীয়ভাবে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে বৃদ্ধি ঘটেছিল- একটি ধারণার বিপরীতে দখলকৃত ভূখণ্ডে শক্তির সাথে একটি সক্রিয় আগ্রাসন দৈনিক ভিত্তিতে একত্রিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনো কোনো সময়ে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের হুমকি—একটি শক্তিশালী প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় স্তরের আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রদান করেছে।
প্রযোজ্য এবং অনুভূত ব্যথার স্তরের মূল্যায়ন লক্ষ্য দেশের চিহ্নিত মান এবং দুর্বলতার সাথে সম্পর্কিত এবং নিষেধাজ্ঞাগুলি লক্ষ্যমাত্রার জন্য কতটা ব্যয় করে তা পরিমাপ করা উচিত, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে ঠিক কী ঘটবে তার নিখুঁত মূল্যায়নের বাইরে। আমার দৃষ্টিতে, এর মানে হল যে একটি আদর্শ মডেল যা প্রকৃত নির্দেশনা দিতে পারে কিছু জাতীয় সুনির্দিষ্ট না জেনে বিকাশ করা অসম্ভব। কিন্তু এটাই মূল বিষয়। নিষেধাজ্ঞা উপযোগী করা উচিত; তারা সাধারণত সরাসরি আলনা বন্ধ খারাপভাবে পরেন. একটি স্বতন্ত্র পরিমাপ পদ্ধতি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত রাষ্ট্রের জাতীয় অগ্রাধিকার এবং স্ব-ইমেজ মূল্যায়নের উপর ফোকাস করবে এবং কীভাবে তাদের আঘাত করা যায়। কিন্তু এই মূল্যায়নে অবদান রাখতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলির মধ্যে নিম্নলিখিত আটটি পয়েন্ট অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে (যা গুরুত্বের ক্রমানুসারে নয়, কারণ এটি প্রশ্নে থাকা দেশের উপর নির্ভর করে)।
সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ দেশের জনসংখ্যা কি বস্তুগতভাবে অনুপ্রাণিত নাকি? এর জনসংখ্যা কি শাহাদতের ইতিহাস সহ একটি ধর্মের সাবস্ক্রাইব করে? জাতিসংঘ এবং বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলো কি গর্ব ও বৈধতার গুরুত্বপূর্ণ উৎস? এই ধরনের প্রশ্নগুলি নিষেধাজ্ঞার ব্যথা আরোপ করার প্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করতে পারে এবং সমাধান কাটিয়ে উঠতে কী ধরনের ব্যথার প্রয়োজন হতে পারে তার জন্য প্রত্যাশাগুলি ক্যালিব্রেট করতে পারে। তারা ব্যবহার করার জন্য অনুমোদনের ধরন চালাতেও সাহায্য করতে পারে। যে দেশ জাতিসংঘের ব্যবস্থাকে পুরস্কৃত করে (যেমন পূর্ব তিমুর, যা জাতিসংঘের অংশে তার অস্তিত্বের জন্য ঋণী) জাতিসংঘের ভোটাধিকার এবং স্বাভাবিক অবস্থাকে সীমিত করে নিষেধাজ্ঞার দ্বারা বেশি প্রভাবিত হতে পারে জাতিসংঘ এবং অনুরূপ দেশগুলির তুলনায় প্রতিষ্ঠান তবে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অতিরিক্ত ব্যাখ্যা করা যেতে পারে এবং যত্ন সহকারে মূল্যায়ন করা উচিত। কেবলমাত্র কারণ একটি দেশের একটি প্রাথমিক ধর্ম রয়েছে যা ব্যথা এবং ত্যাগ স্বীকার করে তার কোনও গ্যারান্টি নেই যে নিষেধাজ্ঞা-চালিত ব্যথা জনসংখ্যা বা সরকারকে স্পর্শ করবে না, ঠিক যেমন একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক স্মৃতি বর্তমান কষ্টের বিরুদ্ধে কোনও সুরক্ষা নয়। সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ এবং অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলিকে বিবেচনা করা উচিত, তবে এগুলি নির্ধারক নয় বা বিশ্লেষণের অন্যান্য উপাদানগুলিকে ছাড় দেওয়ার অজুহাত নয়। প্রকৃতপক্ষে প্রায়শই, আমার অভিজ্ঞতায়, যারা একটি অবস্থানের পক্ষে বা বিপক্ষে যুক্তি হিসাবে এই জাতীয় মানগুলি ব্যবহার করে তারা জটিল মূল্যায়ন এড়াতে স্টেরিওটাইপগুলি মেনে চলে। ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার রূপ নিয়ে বলা যায় সাম্প্রতিক ইতিহাস দেশটি কি কয়েক দশক ধরে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে বা দীর্ঘ শান্তির অভিজ্ঞতা লাভ করেছে? এমনকি এই জাতীয় একটি সাধারণ প্রশ্ন একটি চিত্র তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে যে দেশের নেতৃত্বকে একটি নতুন পথ অনুসরণ করার জন্য কী ধরণের নিষেধাজ্ঞার ব্যথার প্রয়োজন হতে পারে। তদুপরি, দেশগুলিও এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে যা তারা এগিয়ে যাওয়ার কী যন্ত্রণা গ্রহণ করতে পারে সে সম্পর্কে বিস্তৃত ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। একটি বিজয়ী দেশ যেটি কিছু গোপনীয়তার মধ্য দিয়েছিল তা একটি ব্যর্থ কারণের জন্য বিপুল পরিমাণ রক্ত ​​এবং ধন ব্যয় করার চেয়ে বেশি স্থিতিস্থাপক হতে পারে।
এবং, অবশ্যই, যুদ্ধ সাম্প্রতিক ইতিহাসের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নয়: অন্যান্য ঘটনা, যেমন রাজনৈতিক উত্থান, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক মন্দাও গুরুত্বপূর্ণ। জনসংখ্যা কি বৃদ্ধ ও যুবক, পুরুষ ও মহিলার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ? অথবা এটি কি অত্যধিক তরুণ বা বৃদ্ধ, একটি লিঙ্গ গোষ্ঠী বা অন্য লিঙ্গের দিকে তির্যক? কিছু ধরনের অর্থনৈতিক চাপ, বিশেষ করে, একটি তরুণ জনসংখ্যা বনাম বয়স্ক জনসংখ্যাকে লক্ষ্য করার ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর, যেমন বেকারত্বের কারণ নিষেধাজ্ঞা।
নির্বাচন নিয়ে বিশদ আলোচনা কম আলোচিত হয়নি। সম্প্রতি আমেরিকা কয়েকটি দেশের উপর নির্বাচনে কারচুপির জন্য স্যাংশন প্রদান করেছে। আমেরিকার নতুন নীতির উদ্দেশ্যে সারাদুনিয়ায় গনতন্ত্রের হত্যাকারীদের টুটি চেপে ধরার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে বাইডেন প্রশাসন।
জনপ্রিয় অনুভূতি এবং শাসন সমর্থনের উপর পোলিং ডেটা এটি আমাদের পোলিং ডেটা এবং জনপ্রিয় অনুভূতির অনুরূপ অভিব্যক্তির ইস্যুতে নিয়ে যায়। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিশীলতার মতো, এই সূচকটি সম্ভবত স্বৈরাচারের চেয়ে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় আরও সহজে পরিলক্ষিত হয়। তবুও, এমনকি বেশিরভাগ স্বৈরাচারেও, জনসংখ্যার মতামত পরিমাপ এবং মূল্যায়ন করার উপায় রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে। নিঃসন্দেহে, কর্তৃত্ববাদী বিচারব্যবস্থার নির্বাচনগুলি কিছুটা সংশয়ের যোগ্যতা রাখে যদি না তাদের পদ্ধতিগুলি সরকারী নীতিগুলিকে সমর্থন করার সম্ভাবনাকে পর্যাপ্তভাবে বাদ না দেয়, সে যাই হোক না কেন। কিন্তু পোলিং যে মাত্রায় আত্মবিশ্বাসের সাথে জাতীয় অগ্রাধিকার এবং স্বার্থ বর্ণনা করতে পারে, তারা লক্ষ্যবস্তু দেশের দৃষ্টিভঙ্গির একটি চিত্র তৈরি করতে সাহায্য করতে সাহায্য করতে পারে। এবং, গুরুত্বপূর্ণভাবে, এগুলি চিহ্নিত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে কোন সমস্যাগুলি নাগরিক অস্থিরতা বা ন্যূনতম, নাগরিক অসন্তোষের জন্য যথেষ্ট কারণ হতে পারে। সাদ্দামের ইরাক থেকে পোল খুঁজে পাওয়া কঠিন। ইরাক থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনের ফলাফল নিয়মিতভাবে সাদ্দামকে তার “পুনঃনির্বাচন” প্রচারাভিযানে 99 শতাংশের উপরে স্থান দিয়েছে৷ 9 ইরানে, এর বিপরীতে, 1990 এবং 2000 এর দশকে একটি স্থিরভাবে ভোট জমা হয়েছে, যা বহিরাগতদের প্রকৃতি সম্পর্কে অবহিত করতে সাহায্য করেছে এবং ইরানী জনসাধারণের চিন্তাধারার বিবর্তন। উদাহরণস্বরূপ, 2005 সালের আগে, পারমাণবিক কর্মসূচী ইরানীদের জন্য খুব বেশি গুরুত্ব পায়নি। 10 2005-2013 নিষেধাজ্ঞার পরে, যখন পারমাণবিক কর্মসূচি প্রতিদিনের খবর ছিল, পোলিং প্রোগ্রামের প্রতি আগ্রহ এবং সংযুক্তি বৃদ্ধিকে প্রতিফলিত করে।11 একইভাবে, ইরানের অর্থনীতির উপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি এবং একটি চুক্তিতে সেই নিষেধাজ্ঞাগুলি অপসারণের গুরুত্বের বিষয়ে জনগণের অনুভূতির সাথে সাপেক্ষে পোলিং ডেটা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়। সর্বত্র ভোটদানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে (যেমন, একটি উপযুক্ত নমুনার আকার খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে, বাইরের মতামতের সাথে কাজ করা এবং এর অস্থির প্রকৃতি
124 পূর্ববর্তী অধ্যায়গুলিতে আমরা খুঁজে পেয়েছি নিষেধাজ্ঞার ব্যথা পরীক্ষা করেছি এবং আলোচনায় এসেছে লেখকের কথায়, বিচ্ছিন্নভাবে সমাধান ও এসেছে লেখার ভিতর। উভয় পক্ষের দ্বন্দ্বের মধ্যে যে লিভারেজের এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলিতে যায় সেগুলিকে শ্রেণিবদ্ধ করার এবং ওজন করার উপায়গুলি চিহ্নিত করে। আমরা ইরানের বিষয়টিও বিবেচনা করেছি যখন এটি অগ্রগতি হয়েছে। এই অধ্যায়ে, আমরা এই দুটি শক্তির ছেদ খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা পরীক্ষা করব, যা শেষ পর্যন্ত একটি নিষেধাজ্ঞা প্রচারের কৌশল: একটি দেশকে এমন যন্ত্রণার সম্মুখীন করা যে এটি যত দ্রুত সম্ভব মেনে নেয় এবং পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য (যদি) তার আচরণ পরিবর্তন করে আদর্শ নয়) পদ্ধতি। আমি দাবি করি যে জেসিপিওএ একটি অনুমোদিত দেশের জন্য বেদনা, সংকল্প এবং সুযোগের একটি সংযোগস্থল গঠন করে। কার্যকর নিষেধাজ্ঞার চাপের “গোল্ডিলক্স” ইনফ্লেকশন পয়েন্টে পৌঁছানো এবং পরিবর্তনগুলি সমাধান করার জন্য ব্যথা প্রয়োগের জন্য একটি কৌশল বিকাশের প্রয়োজন। পূর্ববর্তী অধ্যায়ে আলোচিত বিষয়গুলি থেকে প্রবাহিত হয়ে, আমি বিশ্বাস করি যে ভূমিকায় প্রবর্তিত এবং এখানে পুনরায় উল্লেখ করা একটি কাঠামো অনুসরণ করে নিষেধাজ্ঞাগুলি ডিজাইন করা এবং বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন৷ একটি রাষ্ট্রকে অবশ্যই ব্যথা আরোপ করার লক্ষ্যগুলি চিহ্নিত করতে হবে।
২০১৮ সালের আগস্টে সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি অব স্যালফোর্ডের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মরটিজ পিয়েপার বলেন, ‘আপনি একটি দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেন। কারণ আপনি ওই দেশটির আচরণে পরিবর্তন দেখতে চান।’
বিষয়টা হলো- ‘ওই দেশের নাগরিক তার নিজ দেশের সরকারের ওপর রাগান্বিত হবে এবং দাবি জানাবে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ভিত্তিতে সরকার যেন তার ভুল শোধরায়।’
নেফিউ এর দ্যা আর্ট অফ স্যাংশন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় হয়ে থাকবে আগামী প্রজন্মের জন্য। স্যাংশন নিয়ে অদূরে হয়তো দেখবো আরো গবেষণা হচ্ছে নতুন ভাবে। যা চিন্তার বিকাশ ঘটাতে পারে ভিন্ন রুপ নিয়ে। সফলতা কামনা করছি, কামনা করছি স্যাংশন না হোক কোন প্রতিকার বা শাস্তি। কারণ তার জন্য হয়তো অনেক মূল্য দিতে হয় দেশ জাতি কিংবা ব্যক্তির উপর।
লতিফুর রহমান প্রামাণিক: লেখক, আইনজীবী।

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge