মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

দেখার চেষ্টা চক্ষু খুলিয়া-১২ মো. শওকত আলী

দেখার চেষ্টা চক্ষু খুলিয়া-১২ মো. শওকত আলী

দেখার চেষ্টা চক্ষু খুলিয়া-১২
মো. শওকত আলী

২০১৮ সালের এপ্রিল মাসের তৃতীয় সপ্তাহে চট্টগ্রাম শহরের সদরঘাট এলাকায় একটি সাততলা ভবন দেখতে গিয়েছিলাম। ভবনটির একটা পোশাকি নাম হয়ে গেছে -পি.কে সেন সাততলা ভবন। একটা সাততলা ভবন দেখতে যাবার মধ্যে কী কারণ থাকতে পারে কারো কারো এমন প্রশ্ন জাগতেই পারে।
চট্টগ্রামে নিশ্চয় ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্হাপনা কিম্বা স্হান নিশ্চয় অনেক আছে। তবে এ সাততলা ভবনের একটা বিশেষ মাহাত্ম্য আছে। বৃটিশ শাসনামলে চট্টগ্রামে অনেকদিন পর্যন্ত এ ভবনটি ছিল অন্যতম সুউচ্চ ভবন। এ ভবনটির নির্মাণকাল বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রামাণিক তথ্য না পাওয়া গেলেও মোটামুটি ধারণা পাওয়া যায় এটি গত শতকের প্রথমভাগে অর্থ্যাৎ ১৯২০ সাল থেকে ১৯২৩ সালের মধ্যে নির্মিত।
এ ভবনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি অবিভক্ত বাংলার প্রথম সাততলা ভবন হিসেবে স্বীকৃত। মোগল এবং বৃটিশ ঔপনিবেশিক আমলের স্হাপত্যরীতিতে ভবনটি নির্মিত হয়েছে।
সাততলা ভবন নামে পরিচিত হলেও ভবনটির মূল অংশ চারতলা, বাকি তিনতলার চূড়াটি ঔপনিবেশিক আমলে নির্মিত গীর্জার শীর্ষদেশের মত গম্বুজ আকৃতির। ভবনটিতে চল্লিশটিরও বেশি কক্ষ রয়েছে। ভবনের তিনতলা পর্যন্ত ওঠার জন্য পাশাপাশি দুটো সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছিল যেগুলো এখনও অক্ষত রয়েছে। এক সময় এ ভবনটি দূর সাগরের নাবিকদের কাছে বাতিঘর হিসেবেও কাজ করতো বলে জানা যায়।

সুউচ্চ ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে পুর প্রকৌশল বিজ্ঞানের যে নির্মাণ পদ্ধতি রয়েছে সেক্ষেত্রেও এ ভবনের একটি অনন্য বৈশিষ্ট রয়েছে। Mr.Huda Mohammad Faisal, Department Of Environmental Design, Kyushu University, Japan তার ‘Unfold The Value Of Heritage Building In Chittagong : Through The Path Of P.K Sen Sattala’ নিবন্ধে পি. কে সেন ভবনের ঐতিহাসিক মূল্য সম্পর্কে লিখেছেন, “It’s a valueable building for structural engineers as well as architects to research about the 1st heritage reinforced concrete building in Bangladesh.”

ভবনটির মূল মালিকের নাম প্রফুল্ল কুমার সেন।তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ধনাঢ্য জমিদার ছিলেন। তবে আদিতে তার পেশা ছিল মলম বিক্রি। এ মলম বেচে তিনি ঢের অর্থ সম্পদের মালিক হন এবং চট্টগ্রাম শহরের সদরঘাট এলাকায় সাততলা ভবনটি নির্মাণ করেন। পরে কোন কারনে তিনি ভবনটি আবার বিক্রি করে দেন সুশীল কুমার ঘোষ নামক একজন ব্যক্তির কাছে। তার উত্তরসূরিরাই এখন ভবনটির মালিক। ভবনটির বর্তমান অবস্থা তেমন ভালো নয়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে। আবার অপরিকল্পিত নগরায়নের ফল হিসেবে এটি মূল সড়ক থেকে গলিতে গিয়ে পড়েছে। আশেপাশে অনেক উঁচু ভবন তৈরি হওয়ায় ভবনটি বাইর থেকে সেভাবে দৃশ্যমানও নয়। তবে বাংলার স্হাপত্য শিল্পের উৎকর্ষতার ক্রমবিবর্তনের পথনির্দেশক হিসেবে এটি আমাদের গর্বের বিষয়। ঐতিহ্যের একটি অংশ তো বটেই। ভবনটির স্হাপত্যরীতি, ঐতিহ্য, নান্দনিকতার কারনে স্হানীয় সুধীসমাজের পক্ষ থেকেও এটিকে পুরাকীর্তি ঘোষণার দাবিও রয়েছে।

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge