মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ০৫:২১ অপরাহ্ন

দাগ-আবিদ করিম মুন্না

দাগ-আবিদ করিম মুন্না

দাগ
আবিদ করিম মুন্না

আচমকা গ্যাস লাইনে আগুন ধরে যাবার ভয়ংকর সেই বিকেলের স্মৃতি আজও মনে পড়ে আয়নায় তাকালে।
জীবন থেমে যেতে পারত সেখানেই। কিন্তু না, শেষ পর্যন্ত বেঁচে আছি আল্লাহর অসীম রহমতে। স্বপ্নেও কোনোদিন ভাবি নি আগুনে পুড়তে হবে। ২০১২ সালের অক্টোবরের শেষার্ধ, বয়স তখন আটত্রিশ ছুঁই ছুঁই। আর কদিন পর ঢাকায় শীত উঁকি দেবে কুয়াশার চাদরে মাথা ঢেকে ।
এক শনিবার বিকেলে পান্থপথ কলাবাগান উত্তর ধানমন্ডির বাসায় ঢুকে দেখি বিদ্যুৎ নেই। যেখানে থাকি সেটিকে ‘পিওর-ব্যাচেলর’ পরিবার বলা যায়। দুজন জেনুইন আর দুজন ম্যারিড ব্যাচেলর নিয়েই সুখ-দুঃখের সংসার।
ঘটনাটি যখন ঘটে তখন প্রথম দুজন বাসায় ছিল। বিদ্যুৎ যখন থাকত না তখন মোবাইলের টর্চ দিয়েই ওয়াশরুমের প্রয়োজনীয় কাজ চালিয়ে নেবার চেষ্টা করতাম।
ওয়াশরুমের ফ্লোর দিয়ে গ্যাসের লাইন কিচেন পর্যন্ত সংযোগ ছিল। সেই লাইনে লিকেজ থাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।
সেদিন কেন যেন মনে হয়েছিল ছোট্ট একটি মোমবাতি নিয়ে ঢুকি। সেখানে আমাদের ওঠারও খুব বেশি দিন হয় নি। দিন দিন অভিজ্ঞতার খাতায় নতুন অধ্যায় যোগ হচ্ছিল। আজ এ সমস্যা তো কাল আরেকটা। সমস্যার যেন অন্ত নেই।
ওয়াশরুমে মোমবাতি নিয়েই প্রবেশ করলাম। রাখলাম ডানদিকের এক কোনায়। কাজও প্রায় শেষ। হঠাৎ হাতের স্পর্শ পেয়ে মোমবাতিটি পড়ে গেল ফ্লোরে। আগুনের ফুলকি বেশ দ্রুত ছুটতে শুরু করল ডান থেকে বাদিকে।
অনুভব করলাম ঠোঁট, মুখ, হাত, পায়ে তীব্র জ্বালা। মনে হচ্ছিল কোথাও যদি একটু শান্তি পেতাম। ততক্ষণে কাপড়ে আগুন লেগে গেছে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হওয়ায় বুঝতে পারি নি আমার কোথায় কতটুকু পুড়ে গেছে।
কাকতালীয়ভাবে একটা ভালো কাজ করেছিলাম, ওয়াশরুম সেদিন লক করি নি। দরজায় প্রবল বেগে ধাক্কা দিয়ে বুঝলাম বাইরে অন্ধকার। লাফ দিতে গিয়ে কেটে গেল হাত ও পায়ের কিছু অংশ।
সেসময় রুমমেট দুজনের একজন বাপ্পি ব্যস্ত ছিল মোবাইল চর্চা নিয়ে এবং আরেকজন ঘুমের দেশে। বাপ্পি পেছন ফিরে দেখতে পেল ওয়াশরুমের আগুন কয়েক ফুট পর্যন্ত উঠে গেছে। তার চিৎকারে ঘুম গেল ভেঙে শাহরিয়ার ভাইয়ের।
তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছি। হারিয়ে ফেলেছি মুখের ভাষা। ওয়াশরুমের আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে অংশ না নিয়ে চলে গেলাম অন্য একটি ওয়াশরুমে। জ্বালা থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে বার বার গোসল করি। একটু পর পর বের হয়ে দেখি আগুন কতটা নিয়ন্ত্রণে। আমার ছটফটানি থামে না।
একজন ধমক দিয়ে বলে আপনি এমন করছেন কেন। ওরা আসলে বুঝতেই পারে নি আমার শরীরে আগুন লেগেছে। মোবাইলের টর্চ দিয়ে একজনকে মুখ দেখালে দ্রুত হাসপাতালে নেবার জন্য সবাই তৈরি হয়।
বাসার বিপরীত রাস্তায় শমরিতা হাসপাতাল। সেখানে জরুরি বিভাগে দুটো ইনজেকশন পুশ করে দিয়েই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দিল।
শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। সরকারি চাকরিজীবীদের অফিস না থাকলেও ছিল অনেকের। তারা ফিরছিল।
একটা সিএনজি অটোরিকশায় চেপে বসলাম। জ্যামে যখন পড়লাম তখন দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার তাগিদ বোধ করে নিজেই আশেপাশের সকলকে বলতে লাগলাম রোগী আছে একটু সাইড…।
ঢাকা মেডিকেল এর বার্ন ইউনিটে যখন পৌছে গেলাম তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আরেক রুমমেট রাশেদ-ও চলে এসেছে। এসেছে পাশের বাসার জাকির মামা। একটা ফোনে পাগলের মতো ছুটে এলো অফিস সহকর্মী জাবেদ হোসেন। যতক্ষণ অপারেশন চলেছে পুরো সময়টিতে জাবেদের সক্রিয় উপস্থিতি আমাকে সাহস জুগিয়েছে।
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত লেডি ডাক্তারদ্বয় জানালেন ফোর পারসেন্ট ফেস বার্ন আর পুরো শরীর মিলিয়ে শতকরা ৩৪ ভাগ।
সঙ্গে তেমন টাকাও নিয়ে যাই নি। ভাগ্যিস রুমমেট শাহরিয়ার ভাই বুদ্ধি করে এটিএম কার্ড নিয়েছিলেন। বেশকিছু দামি ব্যান্ডেজ কেনার জন্য রাশেদ চানখারপুল পেরিয়ে বহুদূর কয়েকবার ছুটে গিয়েছিল।
মুরগির চামড়া যেভাবে টেনে ছিড়ে ফেলা হয় আমার শরীরের পোড়া চামড়ার সঙ্গে সুস্থ চামড়াও ব্যান্ডেজ করার আগে বারবার টেনে ছিড়ে ফেলা হচ্ছিল। এর কষ্ট বর্ণনাতীত।
অপারেশন থিয়েটারে পুরোপরি ব্যান্ডেজের কাজ যখন শেষ হলো তখন এশার আযান হচ্ছিল। দেখলাম আরও তিনজন নতুন রোগী। এদের মধ্যে একটি ছোট্ট মেয়ে এসেছে যার শরীরের একাংশ গরম ডালে পুড়ে গেছে।
এদিকে রংপুরে বাড়ি থেকে বারবার ফোন আসছিল। মুখে ব্যান্ডেজ থাকার কারণে কথা বলা নিষেধ ছিল। প্রতিদিন যে সময় কথা বলি সেদিন ফোন না করায় স্বাভাবিকভাবে ধরে নিয়েছিলেন কোনো বিপদ হয়ত ঘটেছে।
ঢাকায় আমার আত্নীয়-স্বজন অনেকেই রুমমেটদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসল ঘটনা জেনে যায়। হাসপাতালে থাকলে হলে ভালো হতো। তারপরও বাসায় থাকলে সেবা শুশ্রƒষা ভালো হবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করি।
বার্ন ইউনিটের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় দেখি মেজো চাচি নীনা, তার মেয়ে ডা. রুহী তাসনীম আন্নিমা, মেয়ে জামাই নিয়াজ, ছেলে রাহিম হাজির। আমাকে ওদের বাসায় নিয়ে যাবে। এখানে থাকলে বুয়ার রান্না খেতে হবে এবং খাবার দাবারের সমস্যা হবে। কী করার! প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড় গুছিয়ে নিয়ে নিয়াজ-আন্নির কারে চেপে মহাখালীর দিকে রওয়ানা দেই।
এই মহাখালীতেই বহুবার এসেছি চাকরির পরীক্ষার সময়। এমনকি বাংলা একাডেমিতে চাকরি হবার পর বেশ কয়েকমাস সেখানে থেকে অফিস করেছি।
চাচা আমিনুল হক পুলিশ কর্মকর্তা। মেজাজ থাকে সবসময় চড়া। মাঝে মাঝে ভাবি তিনি যে এত চ্যাঁচামেচি করেন তা সবার মঙ্গলের জন্যই। তার সাথে বাসার নীচতলায় রাত্রিযাপন স্থির হলো।
পুরো শরীর ব্যান্ডেজ। ওয়াশরুম বিছানা থেকে তিন ফুট দূরে। এত অল্প পথ যেতেও ভীষণ কষ্ট হয়। শরীরের ফোস্কা হাত দিয়ে মাঝে মাঝে গেলে দেই।
চাচার ঘুমের সমস্যা হবে জেনেও কিছুক্ষণ পর পর যন্ত্রণায় মুখ চিপে চিৎকার করিѬ ও মা, ও মা বলে। মানুষ কষ্টে পড়লে প্রথমেই হয়ত মাকেই ডেকে থাকে অজান্তে। হায়রে মা! সে সময় থাকলে হয়ত কত স্নেহেই না বুকে টেনে নিতেন।
রংপুরে আমার আত্নীয়-স্বজন জেনে যায় সবকিছু। স্ত্রী রত্না এবং দুই বছরের শিশুপুত্র রাইয়ান চলে আসে একদিন পরই ঢাকায়।
বলছিলাম চাচার কথা। আমার নোংরা কাপড়-চোপড় পর্যন্ত ধুয়ে দিয়েছেন প্রতিদিন সকালে অফিস যাবার আগে। চাচাতো বোন আন্নিমা আর তার ভাই রাহিম হাসপাতালের ডাক্তার আর ব্রাদারের মতোই দিনরাত নিযুক্ত ছিল। আর ওদের মা নীনা চাচির কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। স্পেশাল খাবার-দাবার বিশেষ করে চিকেন স্যুপ এবং ফ্রুট জুস সরবরাহ করে গেছেন ক্লান্তিহীন।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০ অক্টোবর ২০১২। ২৭ অক্টোবর ছিল কোরবানী ঈদ। ঈদের ছুটির সময় হাসপাতালে ডাক্তার স্বল্পতা থাকবে। ঢাকায় না থেকে রংপুরে বাড়িতে যাবার সিদ্ধান্ত নেই। মাঝখানে দুদিন ড্রেসিং করেও আসি।
বন্ধুবর প্রথম আলোর প্রধান ফটোসাংবাদিক জিয়া ইসলামের রেফারেন্সে বার্ন ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডা. সামন্ত লাল সেনকে শেষবার ড্রেসিং করার সময় দেখানোর সুযোগ পাই।
তিনি এক্সামিন করে বলেন, পেশেন্টকে সবসময় ঠান্ডা জায়গায় রাখবেন। নর্থবেঙ্গলে তখন বেশ ঠান্ডা পড়ে গেছে। আমার বাড়ি নর্থবেঙ্গল জানতে পেরে তখনই বাড়িতে যাবার পরামর্শ দিলেন।
২৫ অক্টোবর ২০১২ মধ্যরাতে অ্যামবুলেন্সে রওয়ানা দেই মহাখালী থেকে। ঈদের আগে ঢাকা থেকে নাড়ির টানে যারা নিয়মিত ছুটে যান তারাই ভালো বলতে পারবেন রাস্তার অবস্থা কেমন থাকে। ঈদের আগে ৩৬ ঘণ্টা যাত্রা শেষে বাড়ি পৌঁছার অভিজ্ঞতাও আছে আমার।
অ্যামবুলেন্স হুইসেল বাজিয়ে যাত্রা শুরু করল। শুয়ে দেখছি রাতের ঢাকা। আস্তে আস্তে ঢাকা জেলা পেরিয়ে গাজীপুরের চন্দ্রা মোড়ে পৌঁছলাম, দেখি ভীষণ জ্যাম। অ্যামবুলেন্স কখনও রং সাইডে কখনও ক্ষেতের ভেতর নামিয়ে দিয়ে তীব্র বেগে ছুটে চলল। এর মধ্যে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি বলতে পারি না।
ভোরে ওঠার অভ্যাস দীর্ঘদিনের। অ্যামবুলেন্সে ঘুম থেকে যখন জাগলাম তখনও দেখি ঘড়িতে ভোর ৫টা। বায়োলজিকাল ক্লক অনুযায়ী জেগে উঠেছি।
বগুড়ায় অ্যামবুলেন্সে সিএনজি (কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস) নেবে। আরেক চাচাতো ভাই শোভন সারারাত জেগে ড্রাইভারকে ডিরেকশন দিচ্ছিল। গ্যাস নেবার সময় পাম্পে লম্বা সিরিয়াল। কিন্তু শোভন একটু চালাকি করেছিল। অ্যামবুলেন্সের পেছনের ডালা খুলে দিয়ে দেখিয়েছিল ব্যান্ডেজ করা পুরো শরীর। যাক সিএনজি নেওয়ার কাজটা দ্রুত সেরে ফেলা গেল।
খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম রংপুর। ঘন কুয়াশায় ঢাকা চিরচেনা রংপুরের ঘুম তখনও ভাঙে নি।
বাবার জন্য হুইল চেয়ার কিনেছিলাম। সেই হুইল চেয়ারই যে আমার সঙ্গী হবে ভাবতে পারিনি।
পরদিন ঈদ। ঈদের আগেই আমাকে দেখতে বাড়িতে ভিড় জমল। মুখে ব্যান্ডেজ। কথা বলা নিষেধ। তারপরও ভালোবাসার প্রিয় মানুষ যারা দেখতে এসেছিলেন তাদের সঙ্গে কথা না বলে কি পারা যায়। সেসময় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নি করছিল আমার আরেক ছোটোবোন ডা. মোস্তারী বেগম মিতা। রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজে অ্যানাটমির লেকচারার হিসেবে কাজ করছে এখন। সেও চলে এল। যতদিন ছিলাম রংপুরে মিতা প্রায়ই এসে চেকআপ করে গেছে।
ঢাকা মেডিকেল এর বার্ন ইউনিট থেকে বলা হয়েছিল ৩ সপ্তাহ পর ব্যান্ডেজ খুলতে হবে। আমার স্ত্রীর চাচাতো ভাই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. গোলাম রহমানের কাছে চিরঋণী। সুস্থ হবার আগ পর্যন্ত চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব তিনি নিয়েছিলেন।
ব্যান্ডেজ খোলার পর দেখা গেল যেসব জায়গা পুড়ে গিয়েছে সেখানে জিগজ্যাগ (বাকাচোরা রেখা) দাগ। মনে হচ্ছিল কোনোদিনই এই দাগ মুছবে না। ডাক্তারের পরামর্শে চলতে লাগলাম।
পাশের বাসায় একসময় থাকতেন হাফিজ আনোয়ার চাচা। তিনি মাকে নিয়ে হজে গিয়েছিলেন। হজ থেকে ফিরেই আমাকে দেখতে এসে ভীষণ কষ্ট পেলেন। জানালেন তার মা কামরুন্নেসা আগুনে পুড়ে যাওয়া রোগীর দাগ দূর করার মেডিসিন তৈরি করতে পারেন। তার শাশুড়ি তাকে শিখিয়েছিলেন। হাফিজ চাচার প্রায় আশি বছর পেরোনো মায়ের সাথে দেখা করলাম রংপুরের গুপ্তপাড়ার আইন মহাবিদ্যালয় সংলগ্ন বাসায়। একটি কাসার থালা, সাদা ধুপ, কচি ডাব এবং সামান্য খাঁটি নারকেল তেল ব্যবস্থা করতে বললেন। পরম মমতায় তিনি এগুলো দিয়েই অন্যের সাহায্য নিয়ে তৈরি করলেন মেডিসিন। সেটি ব্যবহার করে অল্প সময়ের মধ্যে উন্নতির দেখা মিলল।
সেই মুহূর্তেই মনে হচ্ছিল ঢাকায় ফিরে কাজে যোগ দেই। ঘটনার পর বুঝতে পারি পরিবার ও সমাজে মানুষ কেন একে অপরকে জড়িয়ে থাকে। তার উত্তর খুঁজে পাবার চেষ্টা করেছি। আমাদের একান্নবর্তী পরিবারের বোঝা হয়ে থাকার যে কী কষ্ট তা বুঝেছি। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবার প্রচণ্ড তাগিদও ছিল প্রতিনিয়ত।
কিন্তু চিকিৎসাশাস্ত্রেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তাছাড়া প্রকৃতিও চাইছিল না কাজে যোগ দেই। চাইলেই তো আমাকে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেয়া হবে না। কাজেই অপেক্ষার প্রহর গুনতেই হলো।
মাঝে মাঝে অফিসের সহকর্মীরা ফোন করে আপডেট খবর জানতে চায়। সহকর্মী আফরোজা সুলতানা এসএমএস পাঠালেন এমনÑ আমরা আবিদের মতো প্রাণবন্ত সেই ছেলেটির অপেক্ষায়…।
প্রায় সোয়া দু মাস পর নিজেকে কাজের উপযোগী মনে হলো।
ঢাকায় এলাম। যেদিন কাজে যোগ দিলাম ২৮ ডিসেম্বর ২০১২, শুক্রবার। সেদিন বাংলা একাডেমির ৩৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা চলছিল।
পুরো মুখে ছোপ ছোপ দাগ। আয়নায় তাকালে নিজেকেই অচেনা মনে হয়।
সেই ঘটনার প্রায় দেড় বছর অতিক্রান্ত হতে চলল।
এখনও মুখে দাগ আছে তবে ধীরে ধীরে তা মিলিয়ে যাচ্ছে, হয়তো চলেও যাবে একদিন। সুখ-দুঃখের কান্না-হাসিমাখা এ জীবনে কত ঘটনাই না ঘটে চলেছে প্রতিনিয়ত। সেসবের মধ্যে কোনো কোনো ঘটনা গভীর দাগ সৃষ্টি করে মনের মধ্যে। ভয়ংকর স্মৃতির দাগ যেটি আকা হয়ে গেছে সেটি মুছবো কোন ইরেজার দিয়ে।

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge