মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন

তন্ময়ের অষ্টপ্রহর পর্ব : ১ম-মো. রোকনুজ্জামান

তন্ময়ের অষ্টপ্রহর পর্ব : ১ম-মো. রোকনুজ্জামান

তন্ময়ের অষ্টপ্রহর পর্ব : ১ম
মো. রোকনুজ্জামান

আমার নিয়তী জুড়ে তার ঘনঘটা আমাকে কাঁদিয়েছে বহুবার। আমার এ ব্যাকুল মন তাকে আঁকড়ে ধরছিলো শতবার। কিন্তু নিয়তী আমাকে সায় দেয়নি। তার ছল ছল চোখে আমি শেষ বারের মত রক্তজবা দেখেছিলাম। তার আক্ষেপের চাহনি আজও আমাকে নিঃশেষ করে। শেষ বিদায় টাও ছিলো রক্তক্ষয়ী বেদনার মত। আমি হয়তো তাকে হারিয়েছি, কিন্তু হার মানিনি।
হ্যাঁ প্রবীর ভাই, তুমি একজন ছাক্কা প্রেমিক। তোমার মত এমন প্রেমিকের নজির কয়জনা দিতে পারে বলো? আমি আমার ওয়াদা রক্ষা করেছি মাত্র তনু। প্রবীর ভাই, আজ মনে হচ্ছে শুধু তোমাকেই শুনে যাই। তোমার প্রত্যেকটা কথাই আমার কাছে মহাকাব্যের মত লাগে। তোমার প্রত্যেকটা কথাতেই মিশে আছে ছন্দের হাতছানি। তবে, তুমি যে ব্যথায় ব্যতিত তার শান্ত্বনা আমার কাছে নেই। তবে আমি এটা বিশ্বাস করি, তোমাকে দুরদর্শী করার জন্য তোমার সেই বিচ্ছেদটাই বেশি দামী। হ্যাঁ তা হয়তো ঠিকি বলেছো।
দ্রুত চলো ট্রেন আসার সময় হয়ে যাচ্ছে। আকাশটাও মেঘলা যেকোন সময় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি নামতে পারে। আরে প্রবীর ভাই, তুমি এত ব্যস্ত হইছো কেন? এখনো অনেকটা সময় বাকি আছে। আর বৃষ্টি হলে না হয় একটু ভিজলামি। তাতে সমস্যা কি? দেখ তনু, অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে তার উপর আমরা দুজনেই অচেনা পথিক। পথ যেখানে আড়ষ্ট পথিক তো সেখানেই উন্মুক্ত প্রবীর ভাই। তা বুজলাম, তবে বাস্তবের মানদন্ডে বিচক্ষণতার কোন জুড়ি নেই। তাই সদা সতর্ক হয়েই পথ চলা ভালো।
তন্ময়কে তনু নাম ধরেই ডাকে প্রবীর। তন্ময় হলো এক রহস্যময় পুরুষ। সে যেমন প্রতিভাবান তেমনি সুদর্শন ও ধনবানও। সাহিত্যে প্রখর মেধা সম্পূর্ণ একজন যূবক। সে সদ্য পড়াশুনা শেষ করেছে। তন্ময়ের ইচ্ছা, সে সাহিত্য নিয়ে কাজ করবে। সে বাংলা সাহিত্যকে পৌছাতে চায় এক অনন্য মাত্রায়। তাই আর দশজনের মত চাকুরি না খুজে সে সিদ্ধান্ত নেয় যে, দেশের বিভিন্ন জেলা ঘুরে খুব কাছ থেকে মানুষের জীবন বাহিকা দেখবে। এবং সেগুলোকে বাস্তব সাহিত্যে রুপ দিবে। তবে তন্ময় সব সময় নিজেকে সাদা মাটা ভাবে উপস্থাপন করতেই বেশি ভালোবাসে। তার চলা ফেরাও খুব সাধারন মানুষের মত।
প্রবীর খুব বিচক্ষণ ও বাস্তববাদী মানুষ। কিন্তু সাহিত্যে তার প্রচুর অনুরাগ। সাহিত্যের জন্যই প্রবীর তনুকে এত বেশি ভালোবাসে। সহচরের মত সব সময় পাশে থাকে। প্রবীর দীর্ঘ দশ বছর প্রবাসে কাটিয়েছে। বিচ্ছেদ প্রেমে সে এখনো বিয়ে করেনি। আর বিয়েও করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বয়সও মোটামুটি চল্লিশের কোটায়।প্রবীর হলো তনুর দুঃস্পর্কের খালাতো ভাই। প্রবীর মনে প্রাণে বিশ্বাস করে তনু একজন অনেক বড় মাপের সাহিত্যিক। আর এই সাহিত্যের জন্যই তনু একদিন বিশ্বব্যাপি পরিচিতি লাভ করবে।
আজ তারা দুজনেই রহনা দিবে কুমিল্লার ময়নামতীর দিকে। সেখানে দুঃস্পর্কের এক আত্মীয়ার বাড়িতে উঠার কথা।
ঐ যে ট্রেন এসে গেছে প্রবীর ভাই। যাইহোক, তোমার অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হয়নি। চলো তাহলে এবার ট্রেনে উঠে পড়ি।
তনু ও প্রবীর দুজনেই ট্রেনে উঠে পড়লো। রংপুর থেকে কুমিল্লা অনেক দূরের পথ। বেশ কয়েক ঘন্টা তাদের ট্রেনে কাটাতে হবে। তাই সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়াই ছিলো তনুদের। ট্রেন ছেড়ে দিল, কিছুদূর যেতে না যেতেই পাশের সিট থেকে একটা হট্টগোল শোনা যাচ্ছিল। তিন/ চার জন ছোট ছোট ছেলে মেয়ে তাদের সঙ্গে থাকা মেয়েটার কাছে বায়না ধরছে তারা ঐ মেয়ের কন্ঠে গান শুনবে। কামড়ায় বেশ কিছু মানুষ থাকায় মেয়েটা খুব সংকোচ বোধ করছে। পরে পাশের এক মহিলার অনুরোধে সে গান গাইতে রাজি হলো। বেশ মিষ্টি গলা মেয়েটার। তার কন্ঠে যেন মুগ্ধতার সুবাস ছড়াচ্ছিলো।
মেয়েটার বয়স আঠারো কিংবা ঊনিষ হবে। দেখতেও ভারি রূপবতী মেয়েটা। আশে পাশের সবাই বেশ আগ্রহ সহকারে তার গান শুনছিলো। তনু একটা গল্পের বই হাতে নিয়ে জানালার কাছে বসে। সে শুধু একটু পর পর আড় চোখে মেয়েটার দিকে তাকাচ্ছিলো। তনু যেখানে বসে ছিলো সেখান থেকে মেয়েটাকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো। মেয়েটা দেখতে অনেকটা সোনালি রঙ্গের মত যেন সাদা দুধে হালকা আলতা দিলে যেই রঙ্গ আসে ঠিক সেই বর্ণের মত। তার চাহনিও বেশ নজর কাড়া। মেয়েটার মাঝে কি যেন এক অপরুপ সৌন্দর্য্য লুকিয়ে আছে। তনু একটু ইতস্তত বোধ করছে এভাবে আর কখনো কোন মেয়ের দিকে তাকাইনি সে। কিন্তু তনুর বার বার তাকানোর ফলে মেয়েটা ততক্ষণে বুজি গিয়েছে যে তনু তাকেই ফলো করছে। তনু মাথা নিচু করে হাতে থাকা গল্পের বইটা পড়া শুরু করলো কিছুক্ষণ পরে আবার তাকাতেই দুজনের চোখ এক সাথে পড়ে গেলো। অনেকটা চোখাচুখির মত…

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge