বুধবার, ১৭ Jul ২০২৪, ১১:২৪ অপরাহ্ন

ডা.এম এ ওহাব লাবিব এর ৮টি কবিতা

ডা.এম এ ওহাব লাবিব এর ৮টি কবিতা

ডা.এম এ ওহাব লাবিব এর ৮টি কবিতা
১. কোয়ারেন্টাইনের দিনগুলি
সবদিকে মরা লাশের খবর
জানাযায় লোকবিহীন কবর
বাড়ছে শুধু আক্রান্তের সংখ্যা
ঘরে থাকি ভাইরাসের আশংকা।
হাসপাতালের ডিউটি সেরে
আজ পড়েছে বউ জ্বরে
জ্বরের খবর যেদিন শোনে
বুয়া পালিয়েছে ভাইরাসের ভয়ে
তার বুকে ব্যথা করে
বাসায় থাকলে যাবে মরে।
একা একা করি কী
বউ ঘরে থাকে বন্দী
মারিন, লিয়ানা, আমি একসাথে
সারাদিন কাজে দিন কাটে।
রান্না,মাজা ,শিশুর যত্ন
বউয়ের ফরমায়েশে থাকি মগ্ন
বাচ্চাদের মা আলাদা থাকে
ব্যস্ত আমি দিনে রাতে
স্বজনদের ফোন, খোঁজ খবর
আরম্ভ সেটা বাদ ফজর।
জেনেছে মুয়াজের বাবা মা
আমার তাই রাঁধা মানা
আজ পাঠিয়েছে দুপুরের খাবার
কৃতজ্ঞতার ভাষা নেই আমার।
আমারও হালকা সর্দি জ্বর
শরীরে ধকল, মাথাটাও ভার
করোনার টেস্টের অপেক্ষায় থাকি
ভাল খবরের কতক্ষণ বাকি।
আল্লাহ মহান করো মাফ
ভাইরাসকে করে দাও সাফ।
২. স্বপ্ন ;ভাংগা সাইকেল
একটা ভাংগা সাইকেল
বাজে না তো বেল।
দুইটা ছেড়া প্যাডেল
সাইকেল চালাই মিডেল।
রাস্তায় থাকুক খাল
যায় যাবে ছাল।
ধরি নাকো ধার
দ্রুত হই পাড়।
পড়ে যাই বাপু
ছিলে যায় হাটু।
করি নাকো পরোয়া
বকা খাবো ঘরোয়া ।
লাফিয়ে চলে সাইকেল
আমি যেন মাইকেল।
কিসের বাড়ি গাড়ি
এটাই আমার দরকারী।
আমি সাইকেলে চড়ি
রাজার ভাব ধরি।
নারকেল তেল ঢালি
সাইকেলের যত্ন সারি।
অলি গলি যত
ছুটে চলি অবিরত।
এটাই সেরা দামী
স্বপ্ন এটাই জানি।
৩. চাটুকারিতা
বৃক্ষ তোমার ফলে পরিচয়!
তোমার কিসে মানুষ?
ছলে কৌশলে প্রতারনায়।
হা হা, সত্য বলেছো বটে!
যাহা ঘটে তাহাইতো রটে।
পশু তোমার কর্ম ভাল নয়!
লজ্জা নাই, শুধু কর ভয়।
মানুষ তুমি পশুর অধম
অন্তরে চুরি বাইরে শরম।
ঝর্ণা তুমি কাঁদো নিরালায়
মানুষ তোমার অশ্রু অভিনয়।
পাহাড় তুমি বিশাল উচু
মানুষ তোমার গর্ব মিছু।
পাখি তুমি স্বাধীন আছো
মানুষ তুমি গোলামী ভালবাস।
পিপীলিকাতে আছে নিয়মানুবর্তিতা
মানুষে আছে শুধুই চাটুকারিতা।
ভাল মানুষ আছে তবে অল্প
তারা হয় অবহেলার গল্প।
৪. কী নিবিড় সম্পর্ক
কী নিবিড় সম্পর্ক!
রক্তের নয় ভ্রাতৃত্বের বন্ধন
নীরব ছিলাম পিনপতন।
ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট
রোগী সেবায় ব্যস্ত দৈনিক।
নিজের তাপমাত্রাকে সাথে করে
তাপমাত্রা মেপে যাচ্ছি সাপোজিটরী নিয়ে।
চারিদিকে করোনা ঘুরছে, হাসছে
ডুকরে কাঁদতে চেয়েও পারিনি
লোকে কাপুরুষ বলে কিনা পাছে।
জলান্জলি দিতে হয় আবেগকে
চোখের সামনে দেখি রোগীর মৃত্যুকে।
আমারও করোনায় তাপমাত্রা বেড়েছে
চেপে গেছি কষ্ট, অস্বস্তি, গলা ব্যথা কে।
চিকিৎসক ও রোগী দুজনই অভাগা
জোনাকি রাতে মেঘ- বৃষ্টি -কুয়াশা।
আজ এক পশলা প্রয়োজন বৃষ্টির
ভিজাবো হাহাকার হৃদয়ের তীর।
কবে সেই এসেছি ইনটেনসিভ কেয়ারে
শিশুদের রেখে বাসা থেকে বিকেলে ।
বাবা মা’র চেহারাটা ঝাপসা ভাসে
হবে কি শেষ দেখা আপনজনের সাথে।
মোদের ঈদ পরিবার ছাড়া নসীবে
কী নিবিড় সম্পর্ক! দুজনই হাসপাতালে।
তিমির রাতে ভাবি রোগীর হাত ধরে
করোনায় যাবো কি দুজনই মরে।
৫. করোনা যাচ্ছে বাড়িবাড়ি
মানুষের এবার হুড়োহুড়ি
যাবে তারা ঈদে বাড়ি।
দফায় দফায় সাধারণ ছুটি
টাকার ক্ষতি কোটি কোটি।
কী লাভ হলো এসব করি
করোনা যাচ্ছে বাড়িবাড়ি।
গোঁয়ার মোরা সবাই জানি
বিধি নিষেধ থোরাই মানি।
মরবে সবাই মরুক তবে
গ্রামে ঈদ করতেই হবে।
ঈদে বাড়ি যেতেই হবে
প্রাণ আমার যায় যাবে।
মা শিশু ছিলতো ভাল
এবার তবে করোনা এলো।
করোনারা ছিল বড় সিটিতে
তারাও এখন গ্রামের বাড়িতে।
করোনার মিছিল দলেদলে
মানুষের ভীড় হাটে বন্দরে।
বৃদ্ধা মায়ের রেহাই নাই
করোনা এখন বাড়িতে ভাই।
এক বাড়িতে সবাই পজিটিভ
মরন এখন কপালের নসীব।
৬. মানুষ ত্যাড়া
সরকার সিদ্ধান্ত
নিয়েছিল সেরা
কি আর বলা
মানুষ ত্যাড়া।
ঈদের জামা
হবেই এবার
অসভ্য মানুষ
যাবেই বাজার।
লকডাউন জানি
ক’জন বা মানি
মরনের চেয়ে
জামাটাই দামী ।
নতুন কী আর
মানুষ গোঁয়ার
ধারেনা তারা
করোনার ধার।
বিড়ি সিগারেট
চায়ের কাছে
করোনার ভয়
সবি মিছে।
মাস্ক পরিনা
কেয়ার করিনা
সবাইকে ধরলে
আমায় ধরবেনা।
সবাই মরবে
আমি মরবোনা
ভয় করিনা
নাই করোনা।
নির্বোধ জাতি
বিধি মানেনা
কথা শোনেনা
মরন বুঝেনা।
৭. ডেংগু আম্ফান করোনা
তুমি আম্ফান
সিডরের চেয়েও
তুমি শক্তিমান
তুমি বেগবান।
লন্ডভন্ড ঘরবাড়ি
তছনছ গাছগাছালি
জলোচ্ছ্বাস বাঁধবেড়ি
মৃতদেহ পশুপাখি।
তুমি করোনা
পৃথিবীর আতংক
তুমি ভয়ংকর
মৃত্যু আশংকার ।
অদৃশ্য ভাইরাস
করলে সর্বনাশ
হাজার লাশ
অন্তরীণ বসবাস।
আমেরিকা নিঃস্ব
পৃথিবী অসহায়
প্রকৃতি ধন্যময়
মানুষ কান্নায়।
তুমি ডেংগু
করেছো পংগু
বেড়েছে প্রকোপ
সতর্কতা ব্যাপক।
ডেংগু করোনা
আম্ফান থেমে যা
বিপদ কি
শেষ হবেনা।
নতুন ভোর
স্নিগ্ধ সকাল
নির্মল দুপুর
আরও কতদুর।
৮. করোনা সমাচার
ধকল বেশি
লুঙ্গি ছেড়া
সেলাই করি
বেশি পরি।
অন্তর্বাস ছুটিতে
প্যান্টের যত্ন
শার্টের ব্যবহার
খুবই অল্প।
গ্যান্জি ছেড়া
বেশি পরা
পড়ে আছে
জুতো জোড়া।
বিউটি পার্লার
নেইতো দরকার
বেহাল দশা
পুরাতন বোরকার।
বাসায় থাকি
কথা বেশি
দুজনের তর্করাশি
শিশুদের হাসাহাসি।
কাজ নাই
ঘুম বেশি
নেটের ব্যবহার
সেটাও অতি।
খাওয়া দাওয়া
বেড়ে যাওয়া
ওজন গেছে
আশিতে বাবা।
ধৈর্য ধরা
আর কত
ভাইরাস তুই
চলে যাতো।

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge