শনিবার, ২২ Jun ২০২৪, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন

উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ ও স্বাস্থ্যখাত কমিউনিটি ক্লিনিক : ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’-আবু হেনা মোস্তফা কামাল

উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ ও স্বাস্থ্যখাত কমিউনিটি ক্লিনিক : ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’-আবু হেনা মোস্তফা কামাল

কমিউনিটি ক্লিনিক হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তা প্রসূত একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কার্যক্রম যা কমিউনিটি বেসড হেলথ কেয়ার (সিবিএইচসি) অপারেশনাল প্ল্যান এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং বর্তমান সরকারের সাফল্যের এক উজ্জল দৃষ্টান্ত এবং দেশে-বিদেশে নন্দিত। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ জনগণ নিকটস্থ কমিউনিটি ক্লিনিক হতে সমন্বিত স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টি সেবা পাচ্ছেন। এটি জনগন ও সরকারের যৌথ প্রয়াসে বাস্তবায়িত একটি কার্যক্রম। জনমূখী এ কার্যক্রম ১৯৯৬ সালে গৃহীত হয় যার বাস্তবায়ন শুরু হয় ১৯৯৮ সালে। ২৬ এপ্রিল ২০০০ সালে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের গিমাডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিক উদ্বোধনের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিক সেবা কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধবিধস্ত বাংলাদেশকে গড়তে এবং স্বাস্ব্যখাতের উন্নয়নে বিভিন্ন বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। বঙ্গবন্ধুর সরকার তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রমকে বিকেন্দ্রীকরণের পদক্ষেপ হিসাবে থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করেন। এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা কতৃক আয়োজিত ১৯৭৮ সালের আলমা-আটা শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশ অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ ছিল। আলমা আটার ঘোষণা ছিল প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার মাধ্যমে “২০০০ সনের মধ্যে সবার জন্য স্বাস্থ্য”। কিন্তু ১৯৯৬ সনের সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ লক্ষ্যের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উন্নয়ন চিন্তায় পরিবর্তন নিয়ে আসে। এসময় গ্রামীণ দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে “কমিউনিটি ক্লিনিক” স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। মূলত জনগণের অংশগ্রহণে গ্রামীণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।
কমিউনিটি ক্লিনিক শুরু থেকেই স্বাস্থ্য সেবার মূলধারার সাথে সমন্বয় রেখে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের করমকান্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই ২০১১ হতে আরসিএইচসিআইবি প্রকল্পের পাশাপাশি এইচপিএনএসডিপি এর আওতায় কমিউনিটি বেসড হেলথ কেয়ার (সিবিএইচসি) অপারেশনাল প্ল্যান এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আরসিএইচসিআইবি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে জুলাই ২০১৫ হতে সিবিএইচসি অপারেশনাল প্ল্যান এর মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিক এর সকল কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে যা ডিসেম্বর ২০১৬ তে সমাপ্ত হয়। পরবর্তীতে কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ৪র্থ সেক্টর (৪র্থ এইচপিএনএসপি) কর্মসূচিতে সিবিএইচসি অপারশেনাল প্ল্যান জানুয়ারি ২০১৭ হতে জুন ২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়িত হয়। কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রমকে গতিশীল ও টেকসই করার লক্ষ্যে মহান জাতীয় সংসদে ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট বিল পাশ হয়। এরপর মহামান্য রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে ৮ অক্টোবর ২০১৮ আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় (২০১৮ সালের ৫২ নং আইন)। এই আইনের ক্ষমতাবলে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। বর্তমানে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের আওতাধীন কমিউনিটি বেসড হেলথ কেয়ার (সিবিএইচসি) অপারশেনাল প্ল্যানের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিকসমূহ পরচালিত হচ্ছে।
কমিউনিটি ক্লিনিক পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ (পিপিপি) এর একটি অনন্য উদাহরণ। সব কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে উঠেছে জনগণের দান করা জমিতে। সরকার ভবন নির্মাণ, সেবাদানকারী নিয়োগ, ঔষধসহ প্রয়োজনীয় যাবতীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ সরবরাহ করছে। পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা করছে সরকার এবং জনগণ সম্মিলিতভাবে। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিক পরিচালনার জন্য সমাজের প্রতিনিধিত্বশীল অংশ নিয়ে ১৩-১৭ সদস্য বিশিষ্ট (এর মধ্যে অন্ততপক্ষে ৪ জন মহিলা) একটি কমিউনিটি গ্রুপ (সিজি) আছে। এই পরিচালনা কমিটির (সিজি) সভাপতি হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ওর্য়াডের নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার। সিসি পরিচালনা ও জনগণকে সিসি হতে সেবা গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণে প্রতিটি কমিউনিটি গ্রুপকে সহযোগিতার জন্য ১৩-১৭ সদস্য বিশিষ্ট ৩টি সাপোর্ট গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তার ইউনিয়নের সবগুলো সিসি’র প্রধান পৃষ্ঠপোষক। সরকারি সেবাদানকারীগন এই কমিটিগুলোকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও সেক্রেটারিয়েল সাপোর্ট প্রদান করে থাকে। সিবিএইচসি কার্যক্রমের আওতায় কমিউনিটি গ্রুপ ও কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপ সদস্যদের প্রশিক্ষণ/ওরিয়েন্টেশন প্রদান করা হয়েছে।
কমিউনিটি ক্লিনিক হতে প্রদানকৃত উল্লেখযোগ্য সেবাসমূহ : প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, গর্ভবতী ও প্রসূতির স্বাস্থ্য সেবা, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা, পরিবার পরিকল্পনা সেবা, পুষ্টি সেবা, ইপিআই, সাধারণ রোগ ও জখমের চিকিৎসা সেবা, অসংক্রামক রোগ সনাক্তকরণ ও রেফারেল, কিশোর-কিশোরী ও নববিবাহিত দম্পতিদের সেবা, কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান, জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি ও টিকা প্রদানে সহযোগিতা প্রদান, স্তন ও জরায়ু মুখে ক্যান্সার প্রতিরোধ বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান, জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি ও ভায়া স্ক্রিনিং, রেজিষ্ট্রেশন করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধীকরণ, জরুরি ও জটিল রোগীর রেফারেল সেবা, স্বাভাবিক প্রসব (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মএলাকার জনগণকে খানাভিত্তিক অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন ও হেলথ আইডি কার্ড প্রদান সহ অন্যান্য সেবা।
সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত সপ্তাহে ৬ দিন (শনিবার হতে বৃহস্পতিবার) সকাল ৯:০০ টা হতে বিকাল ৩:০০ টা পর্যন্ত কমিউনিটি ক্লিনিক খোলা থাকে। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) প্রতি কর্মদিবসে কমিউনিটি ক্লিনিকে উপস্থিত থেকে সেবাপ্রদান করেন এবং সিএইচসিপি এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ সহকারী প্রত্যেক সপ্তাহে নূন্যতম ৩ দিন করে (পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে) কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা প্রদান করেন। কমিউনিটি গ্রুপ ও কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপের সদস্যবৃন্দ কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা প্রদান ও মান উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করছেন। এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন- এমন গ্রাম্য চিকিৎসক, দাই এবং অন্যান্য সেবাদানকারী, মাদার সাপোর্ট গ্রুপ ও এনজিও কর্মীদেরকে ইউএইচএন্ডএফপিও, ইউএফপিও এবং এমওএমসিএইচ কমিউনিটি ক্লিনিকের সাথে সম্পৃক্ত করে তাদের সেবা নিশ্চিত করে চলেছেন।
২০০৯ সাল হতে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১১৪ কোটির অধিক ভিজিটের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণ কমিউনিটি ক্লিনিক হতে সেবা গ্রহণ করেছেন। যাদের অধিকাংশই নারী এবং শিশু। গড়ে প্রায় প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রতিদিন ৩৮ জন সেবাগ্রহীতা সেবা গ্রহণ করে থাকে। কমিউনিটি ক্লিনিক হতে সেবাগ্রহণকারীদের মধ্য হতে প্রায় ১ কোটি জরুরি ও জটিল রোগীকে উচ্চতর পর্যায়ে রেফার করা হয়েছে। ৪০০০ এর অধিক কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাভাবিক প্রসব সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ২০০৯ সাল হতে ২০২২ সাল পর্যন্ত কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রায় ১ লক্ষ স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, সকল কমিউনিটি ক্লিনিক টিকাদান কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিগত ৪ বছরে কমিউনিটি ক্লিনিক হতে সেবা গ্রহণকারীঃ বিগত ৪ বছরে কমিউনিটি ক্লিনিক হতে মোট ৩৫ কোটি ৬০ লক্ষের অধিক সেবাগ্রহীতা স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করেছেন। তন্মধ্যে ৮ লক্ষ ৯০ হাজার জন গর্ভবতী মহিলা গর্ভকালীন সেবা গ্রহণ করেছেন। এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে ৮০ হাজার এর অধিক স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। ৩০ লক্ষ ২৬ হাজার এর অধিক ৫ বছরের কম বয়সী শিশুকে কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা প্রদান করা হয়েছে।
কমিউনিটি ক্লিনিকে বর্তমানে ২৭ প্রকার ঔষধ এবং ২ প্রকার পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী সরবরাহ করা হয়। প্রতি কমিউনিটি ক্লিনিকে গড়ে বছরে ১.৫০ লক্ষ টাকার ঔষধ সরবরাহ করা হয়। কমিউনিটি ক্লিনিক হতে অন-লাইন রিপোর্ট এবং তথ্য সরবরাহ ও সংরক্ষণের নিমিত্তে প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে ইন্টারনেট সংযোগসহ ১টি করে ল্যাপটপ সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে ৯৫.৪৭% কমিউনিটি ক্লিনিক হতে অন-লাইন রিপোর্টিং হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে বিভিন্ন প্রকার রেজিস্টার, ফরম, এএনসি কার্ড, জিএমপি কার্ড ইত্যাদি সরবরাহ করা হয়েছে। এসব রেজিস্টারে তথ্য সরক্ষণ করা হচ্ছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ এর লক্ষ্যে ৭টি বিশেষ উদ্যোগের সাথে কমিউনিটি ক্লিনিকে ব্রান্ডিং করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়; সে প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে “শেখ হাসিনার অবদান, কমিউনিটি ক্লিনিক বাঁচায় প্রাণ” এ শ্লোগানটি কমিউনিটি ক্লিনিকের ব্রান্ডিং কার্যক্রমে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে ব্রান্ডিং এর লক্ষ্যে বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। যেমনঃ সকল কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সিভিল সার্জন কার্যালয় ও বিভাগীয় কার্যালয়ে (স্বাস্থ্য) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার ছবি এবং শ্লোগান সম্বলিত লোগোসহ সাইনবোর্ড ও স্টিকার স্থাপন; টিভি স্পট সম্প্রচার, দূর্গম এলাকা গুলোতে জনসংযোগ কার্যক্রম ইত্যাদি।
গ্রামাঞ্চলে আগে হাসপাতাল-ক্লিনিক তো দূরের কথা ভালো ওষুধের দোকানও পাওয়া যেত না। কিন্তু কমিউনিটি ক্লিনিকের সুবাদে এখন মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, পরামর্শ ও ওষুধ পাচ্ছে ঘরের কাছেই। দিন দিন এর সেবাগ্রহীতার সংখ্যাও বাড়ছে। সরকারের পৃথক দুটি জরিপেও এসব ক্লিনিক নিয়ে ৮০ থেকে ৯৮ শতাংশ মানুষ তাদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে। জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের (নিপোর্ট) এক জরিপে দেখা গেছে, বাড়ির পাশের ক্লিনিক থেকে ওষুধ আর পরামর্শ পেয়ে ৮০ শতাংশ মানুষই সন্তুষ্ট। জাতীয় রোগ প্রতিরোধ ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম)-এর জরিপে দেখা যায়, সেবা নিয়ে ৯৮ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট। প্রান্তিক মানুষ এখন স্বাস্থ্যসেবার আশ্রয়স্থল হিসেবে মনে করে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে। স্বাস্থ্যখাতে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ আমরা এমডিজি পুরস্কার, সাউথ-সাউথ পুরস্কার ও গ্যাভি পুরস্কার এবং ভ্যাক্সিন হিরো পুরস্কারের মত অনেক সম্মানজনক আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছি।
জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক মার্গারেট চ্যান বাংলাদেশ সফরের সময় গ্রামে গিয়ে কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে দেখেছিলেন এবং এই উদ্যোগকে ‘স্বাস্থ্য খাতে’ বিপ্লব হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। এ কথা সর্বাংশে সত্য যে, এই কমিউনিটি ক্লিনিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বকীয় উদ্ভাবনী চিন্তার ফসল, যা আজ বিশ্বনন্দিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই অভিনব ধারণা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আজ প্রমাণিত। এর ফলে দেশের তৃনমূল ও সর্বিক স্বাস্থ্য সেবার বিভিন্ন উন্নতি সূচকে ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ আরও অনেক দেশের তুলনায় এগিয়ে। এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো আগামীর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণসহ সত্যিকারভাবেই একটি স্বাস্থ্যকর জাতি গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
সম্প্রতি, ‘কমিউনিটি ভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা অর্জনের লক্ষ্যে একটি অংশগ্রহণমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি’ শিরোনামের ঐতিহাসিক রেজুলেশনটি জাতিসংঘে প্রথমবারের মতো সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহীত হয়। কমিউনিটি ক্লিনিক ভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন স্বরূপ জাতিসংঘের ৭০টি সদস্য রাষ্ট্র এই রেজুলেশনটি কো-স্পন্সর করে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলো এই ক্লিনিক প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল উদ্ভাবনী এই উদ্যোগকে ব্যাপক স্বীকৃতি দিয়ে ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রেজুলেশনটির সফল বাস্তবায়ন ও কমিউনিটি ক্লিনিক ভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ডাঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল : উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা,নীলফামারী সদর, নীলফামারী।

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge