বুধবার, ১৭ Jul ২০২৪, ১০:৪৬ অপরাহ্ন

আবছায়া-সুমাইয়া তাসনিম স্মৃতি

আবছায়া-সুমাইয়া তাসনিম স্মৃতি

আবছায়া
সুমাইয়া তাসনিম স্মৃতি

জ্বরের ঘোরে ঘুম ভেঙে যায় ইরার। প্রচন্ড তেষ্টা নিয়ে বিছানায় এপাশ ওপাশ করে বাকি রাতটুকু কাটিয়ে দেয়। আযানের শব্দ ভেসে আসছে। ভোর দেখবে বলে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। উদাস চোখে তাকিয়ে হয়তো কিছু ভাবতে লাগলো।
একটুখানি দমকা হাওয়া এসে এলোমেলো করে দিলো ওর ভাবনার দেয়াল।
জব হওয়ার পর থেকে শহরে ছোট্ট একটা ফ্ল্যাটে একা থাকে ইরা। মফস্বলে বড় হয়েছে। বন্ধুবান্ধব নেই বললেই চলে। পরিবার ছেড়ে একা ফ্ল্যাটে থাকতে খুব বেশি খারাপ লাগে না। নিজের মধ্যেই থাকতে পছন্দ করে। সবাই যেমন নিজেদের শৈশব কৈশোর নিয়ে নস্টালজিক হয়ে যায়, ইরার তেমন কোন নস্টালজিয়া নেই!
ইরা বরং ভুলে থাকতে চায় ওর ছোটবেলা। মাত্র নয় বছর বয়সে যে মেয়ের শরীরে খারাপ হাতের ছোঁয়া পড়েছে সেই শৈশব ও ভুলে থাকতে চায়। ভুলে যেতে চায় ওর সবথেকে পছন্দের এক আঙ্কেল ওর শরীর ছিঁড়ে নিতে চেয়েছিলো। সেই আঙ্কেল যে ওকে মা বলে সম্বোধন করতো!
দুই কানে হাত চেপে মেঝেতে বসে পড়ে ইরা। ও ভুলে যেতে চায় সব। ​পঁচিশ বছর বয়সে এসেও নয় বছর বয়সের সেই নোংড়া অভিজ্ঞতা কেড়ে নিয়েছে ওর সব আনন্দ। নিজের শরীরের সাথে যুদ্ধ করে বড় হয়েছে ইরা!
অফিস ছুটি থাকায় ​বাড়ি এসেছে ইরা। অনেকদিন পর একটু বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ পেল। দুপুরে একটা ভাতঘুম দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো ইরা। মায়ের ফোনটা বেজে উঠলো। মা ইন্নানিল্লাহ পড়ছে! সেই চাচা আজ ভোরে ইন্তেকাল করেছে। ইরা বুঝতে পারছে না ও ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছে নাকি জেগে আছে।
আচ্ছা, স্বপ্ন হোক আর সত্যিই হোক ইরা এখন কি করবে ভাবছে। ও কি মৃত চাচার জন্য ​শোকে স্তব্ধ হয়ে থাকবে নাকি সেই নোংড়া লোকটার মৃত্যুতে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে!
চোখ বুঁজেও ইরার ঠোঁটের কোণে একচিলতে হাসি ফুটে উঠেছে, হয়তো চোখের এক কোণেও জমেছে এক ফোঁটা অশ্রু!​

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge