মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন

আপন অস্তিত্বের আলাপন-হেলেন আরা সিডনী

আপন অস্তিত্বের আলাপন-হেলেন আরা সিডনী

আপন অস্তিত্বের আলাপন
হেলেন আরা সিডনী

মৃত্যূগুলো কি নিরব- নি:শব্দে সামনে এসে দাঁড়ায়, ভাবাই যায় না। কার মৃত্যূ কখোন আসবে কেউ জানি না – তবু কি অহংকার, কি মিথ্যাচার, কি বেহিসেবী জীবনের প্রতিযোগিতা । মৃত্যূর পরোয়ানা মনকে কাঁদায়। মন কাঁদে কিন্তু সহজে পরিবর্তন হয় না। আমরা অহেতুক মানুষকে কষ্ট দেই, সত্য কিছু না জেনে, না বুঝেই আঘাত করতে একবিন্দু ছাড়ি না। স্বার্থের লড়াইতে জ্ঞানশূন্য হয়ে মানুষকে ছোট করতে পিছ’পা হই না। জীবনের শেষ পরিণামে জীবনের শেষ মূলধন কি খুঁজেই দেখি না। মানুষের উপলদ্ধিবোধে গীতিকারদের কিছু লিখা গান মনে নাড়া দেয় কতোটা দেয়
জানি না কিন্তু জীবনের চরম সত্যতা অদ্ভুত সুন্দর ভাবে লিখা হয়ে যায় সেখানে…
“…হায়রে মানুষ রঙ্গিন ফানুস দম ফুরালে ঠুস“
“…দুদিনের এই সংসারে কেউ আগে কেউ পরে / চলে যাব সব ছেড়ে শুধু ঘরটা রয় পরে“
ইদানীং আমার ভাবনাগুলো আমায় উদাস করে, নিরবে কাঁদায়। আমি মৃত্যূকে এখন অনেক বেশি দেখি। আমি দেখি আমার বাবা আর মায়ের মুখ, আমার স্বামীর মুখ। আমার জীবনের সব ভালোবাসার শেষ মুখ তাই আমি বলতে পারি না সহজে কোনো কথা, উচ্চারণ করতে পারি না কোনো শব্দ। জীবনটাকে বিশ্লেষন করতেই এখন খুব ভালোবাসি। অনুভব করি কতোটা সহজ , কতোটা সহজ সোজা হয়ে এই পথ চলা যায় । অতীতকে মনে রাখি, আজকের জন্য। চিন্তা করি তবে দুশ্চিন্তায় মরি না। মহান আল্লাহতালার ভরসা আর ধৈর্য – সহ্যের মূল্যবোধে পায়ে পায়ে পথ চলি। ইচ্ছে থাকলেও হয়তোবা নিখাদ সহজ-সরল পথে চলতে পারি না। জীবনের ভার আর সম্পর্কের দায় বড় নিষ্ঠুর, বড় কষ্টের।
চলতে পথে ঘরে কিংবা বাহিরে যা কিছু চোখে পরে তা থেকেই সত্যের ঘরে কড়া নাড়ে বিবেকবোধ কোনটা দৃষ্টিনন্দন আর কোনটা দৃষ্টিকটু। একক প্রেক্ষাপট কিংবা অল্প কিছু মানবিকতার গণনা পত্র সমগ্র জীবনের চালচিত্র বোঝায় না। অধিকাংশ মাত্রার গণনা ক্ষেত্র থেকে যা অনুভূতি অনুভব করে তা যেনো ভালো থাকবার ইচ্ছে সত্ত্বেও গ্রাস করে ভয় – ভীতি, উদ্বেগ আর হতাশা। জীবনটাকে হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারি যখন শূন্যতার ভিতরে একাকী ক্লান্তির মর্মঘাতে একাই ক্লান্তির ঘাম মুছে দেখি এখনো বেঁচে আছি। নিজেকে চিমটি কেটে দেখি কিছু সময় মানুষ সত্যি বড় বেশি একা, অসহায়। থাকে না কেউ পাশে, থাকে না ভাই-বোন, বন্ধু-স্বজন। সময়ের কাছে বুঝে নিতে হয় চাওয়া-পাওয়ার মাপকাঠি। সহজ-স্বাভাবিকতায় মানুষের বড় কৃপনতা তাই এ জীবনটাকে সাপের মতোই মনে হয় যে পারে যতোটা এঁকেবেঁকে পথ চলতে, তারি বেঁচে থাকা।
ইচ্ছে থাকলেও সাপ টানটান সোজা হয়ে চলতে পারে না, একমাত্র মৃত্যুই তাকে সোজা করে দেয় তেমনি আমার এই জীবনটাও মৃত্যূর পরই সুখ- দু:খ, স্বপ্ন-আশা সব কিছুর প্রাপ্তি থেকে ছুটি নেবে একদিন। সেই দিন আমি চিন্তা-ভাবনা মুক্ত সোজা-সাপটা জীবনে একা শুধু একা পরে থাকবো তাই মনকে বলি- ও মন , সেই দিন কোনো অজুহাত, কোনো সময় আর সময় দেবে না তোমায়, পাবে না কোনো অবকাশ তাই অসুস্হ মনকে সুস্হ মনে ফিরিয়ে নিয়ে যাবার যতোটুকু সুস্থতার সম্ভাবনা আছে, ততোটুকুর দিকে তুমি এগিয়ে যাও। তুমি ভালো থেকো মন, ভালোবাসার মনে ভালো থেকো, সুস্হ থেকো। কেউ হয় না আপন…মহান করুনাময়ের উপরেই রাখতে হয় ভরসা আর আস্হা। মন..তোমার যন্ত্রণাকাতর ছোট্ট মনটার জন্য স্বয়ং রাব্বুল আলামীন সহায় হোন ।

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge