মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ০৪:০১ অপরাহ্ন

অন্তরীণ আশাবাদ-মারুফ হোসেন মাহবুব

অন্তরীণ আশাবাদ-মারুফ হোসেন মাহবুব

অন্তরীণ আশাবাদ
মারুফ হোসেন মাহবুব

সারাদেশে যেন গৃহযুদ্ধ লেগেছে। মানুষেরা সব ঘরের ভেতরে থাকছে রাতদিন। সারা পৃথিবীই যেন ঘরের ভেতরে অবরুদ্ধ।
অদৃশ্য ভাইরাস পৃথিবীর মানুষকে ধাওয়া করে ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ করে রেখেছে। পৃথিবীর উন্নত ও ধনী দেশগুলোতে হাজার হাজার মানুষ মারা পড়ছে ভাইরাসের আক্রমনে। লাখলাখ মানুষ ধুঁকছে ভাইরাসের কারণে ফুসফুস বিকল হওয়ায়। মৃৃত্যুর বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে।

ফেসবুকের টাইমলাইনে অজস্র ভিডিও আর ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা জনসাধারণকে রাস্তায় পেলেই লাঠিচার্জ করছে। মানুষ থেকে মানুষে বিদ্যুৎগতিতে সংক্রমণ ঘটছে এ রোগের। এ কারণে দেশে দেশে সরকার মানুষকে ঘরের ভেতর অন্তরীণ থাকতে আইন প্রয়োগ করছে কঠোরভাবে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, রিকশাওয়ালা, মজুরশ্রেণির লোকজন রাস্তায় বাধ্য হয়ে নামছে খাবার সংস্থানের জন্য।

শহর একেবারে ফাঁকা। মহামারী করোনার ভয়ে গ্রামেগঞ্জে চলে গেছে সকল মানুষ এশহর ছেড়ে। ফলে শ্রমিক যারা দিন আনে দিন খায় তাদের অন্ন জোগাড়ের উপায় বন্ধ হয়ে গেছে।
ক্ষুধা শব্দটা যতখানি শারীরিক ততখানিই মানসিক। ঘরে যখন যথেষ্ট খাবার আছে- তখন ক্ষুধা পেলেও মালুম হয় না। খাবার সাজনো আছে টেবিলে, খাবার সুরক্ষিত আছে রেফ্রিজারেটরে, তখন যদি কাজের চাপে দুপুর পেরিয়ে বিকেল-সন্ধ্যাও হয়ে যায় ক্ষুধা আমাদের খুব বেশি কাবু করতে পারে না। আমরা তখন ভারী খাবার না খেয়ে হালকা নাস্তা খেয়ে নিই। আমরা যখন পর্যাপ্ত খাবার খাই আমাদের শরীর এক আধ বেলা খাবার না পেলেও টের পায় না।
কিন্তু যদি প্রকৃতই আমাদের ঘরে খাবার না থাকতো তখন আমরা অস্থির হয়ে যেতাম অন্ন সংস্থানের অনিশ্চয়তায়।
দরিদ্র লোকেদের একবেলা না খেয়ে থাকার অনুভূতি আর বড়লোকদের একবেলা না খেয়ে থাকার অনুভূতি এক নয় কখনোই- এটা রোকন বোঝে। দিনের পর দিন অর্ধাহারে, অপুষ্টিকর খাবার খেয়ে জীবন কাটানো জীবনে খাবারের কেনার সামর্থ্য অনিশ্চিত হলে কেবল তারাই জানে এর ভয়াবহতা, যারা এই পরিস্থিতির মধ্যে জীবন কাটায়।
দুর্দিন-দূর্যোগে যাদের সামর্থ্য আছে তারা গুদাম ভরিয়ে রাখে খাবার কিনে মজুদ করে। সেখানে যারা ক্রমাগত খাবারের অভাবে থাকে, শ্রমের বিনিময়ে প্রতিদিনকার খাবার কিনে আনতে পারলে পরিবারের সবার ক্ষুধা মেটে, নচেৎ তাদের উপোস থাকা নিশ্চিত। শ্রমিক মানুষগুলোর যখন শ্রম বিকোবার কোন উপায় থাকেনা, তখন এই দরিদ্র মানুগুলোর কীভাবে জীবন কাটে? তাদের হতাশার, ভয়ের, করুণ আর্তচোখ দেখে রোকন বিপন্ন বোধ করে। শ্রমিক লোকটি নিজের ক্ষুধার যন্ত্রণা দাঁতে ঠোঁট কামড়ে সইতে পারলেও ছোট ছেলেমেয়েরা যখন কাঁদতে শুরু করে ক্ষুধায়, তখন আর তার ঘরে বসে থাকার উপায় থাকে না। পথে নেমে সে কাজের খোঁজ করতে থাকে হন্নে হয়ে পাগলের মত। নেমে পড়ে খাবারের সন্ধানে। যতই নিষেধাজ্ঞা থাকুক ক্ষুধা পথে নামায় ক্ষুধার্তকে। পেছনে তাদের অভূক্ত সন্তানের চোখ আগুনের মত জ্বলে, চুলার মত পেটে ক্ষুধার আগুন নিয়ে তারা বাবার ফেরার পথ চেয়ে থাকে।

শ্যামলী বাসস্টান্ডের একেবারে পাশেই এই বিল্ডিংয়ের তিনতলা থেকে জানালা দিয়ে নিচে তাকিয়ে যখন সে দেখে পুলিশ রিকশাওয়ালাকে পেটাচ্ছে বাইরে বের হবার অপরাধে, তখন তার কেবল মনে পড়ে ক্ষুধার আগুন রিকশাওয়ালাকে পথে নামিয়েছে।

কয়েকটি ছবি ফেসবুকে রোকন দেখেছে। একজন এসিল্যান্ড তিনজন দাড়িওয়ালা বয়স্ক লোককে কানধরে উঠবস করাচ্ছে আর নিজেই তার ছবি তুলছে। পাশ থেকে অন্য কারো তোলা এমন দৃশ্য ফেসবুকে যখন ভেসে বেড়ায়, লকডাউনের এই সময়ে পুলিশের লোক খেটে খাওয়া মানুষকে পেটায়, তখন লোকগুলোর অভুক্ত স্ত্রী-সন্তানদের মুখ কল্পনায় আসে রোকনের। তারা পথ চেয়ে আছে বাসায় কখন বাবা চাল নিয়ে ফিরবে- তারপর রান্না হবে। তারপর পেটে খাবার পড়বে না খেয়ে থাকা শিশুদের।

রোকনের অফিস ছুটি থাকায় দেরিতে ঘুম থেকে ওঠে গত কয়দিন থেকে।
কান্তা ফোন করে বগুড়া থেকে। ঠিক সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করা, তারপর এটাওটা কাজ।
দুপুরে আবার ফোন। সঠিক সময়ে খাবার রান্না করে নিলো কিনা রোকন। কি রান্না হচ্ছে, কেমন করে রান্না করছে, সব খোঁজ নেবে ফোনে। রান্না করে দিয়ে যায় যে ছুটা কাজের মহিলা তাকেও আসতে মানা করে দিয়েছে রোকন ভাইরাস সংক্রমণের কারণে।

সকালে কান্তার ফোন পেয়ে ঘুম ভেঙে উঠে ফ্রেশ হয়ে রুটি সবজি দিয়ে নাস্তা করে চা খাচ্ছে সে। এমন সময় নিচে হৈ-হল্লা। জানালা দিয়ে নিচে তাকিয়ে দেখে পুলিশ রিকশাওয়ালাকে পেটাচ্ছে বেধড়ক। এ দৃশ্য দেখে রোকনের মাথায় যেন আগুন ধরে যায়। ঘরে একটা উচ্চমাত্রার শব্দের সাউন্ডবক্স আছে রোকনের। বক্সটি টেনে বেলকনিতে এনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের দুটি অংশ বাজাতে থাকে রোকন। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজতে থাকে উচ্চশব্দে-
“সরকারী কর্মচারীদের বলি, মনে রেখো, এটা স্বাধীন দেশ। এটা ব্রিটিশের কলোনী নয়। পাকিস্তানের কলোনী নয়। যে লোককে দেখবে, তার চেহারাটা তোমার বাবার মত, তোমার ভাইয়ের মত। ওরই পরিশ্রমের পয়সায় তুমি মাইনে পাও। ওরাই সম্মান বেশী পাবে। কারণ, ওরা নিজেরা কামাই করে খায়।”
যানবাহনের হর্ণ না থাকায় চারপাশ যেন প্লাবিত হয়, কেঁপে ওঠে জাতিরপিতার হুংকারে।ভাষণ শুনে মারপিট করা পুলিশগুলো থেমে যায়। তিনতলার দিকে তাকায় পুলিশ অফিসার।
সাদা শার্ট পড়া ম্যাজিস্ট্রেট দুই প্রবীণ ব্যক্তিকে কান ধরিয়ে উঠবস করাচ্ছিলেন তখনো। সাউন্ডবক্সে জাতির পিতা তখনো সাবধান করছেন বাঙালিকে তাঁর বজ্রভাষণে-
“আপনি চাকরি করেন, আপনার মাইনে দেয় ঐ গরীব কৃষক। আপনার মাইনে দেয় ঐ গরীব শ্রমিক। আপনার সংসার চলে ওই টাকায়। আমরা গাড়ি চড়ি ঐ টাকায়। ওদের সম্মান করে কথা বলুন, ইজ্জত করে কথা বলুন। ওরাই মালিক। ওদের দ্বারাই আপনার সংসার চলে।”

কিছুক্ষণের মধ্যে মারপিট সব থেমে যায়।
ম্যজিস্ট্রেট তার পাজেরোতে উঠে বসলে ড্রাইভার গাড়ি চালিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পুলিশগুলো আরো কিছুক্ষণ অবস্থান করে এদিক ওদিক টহল দেয়। লাঠিগুলো একজন কনস্টেবল সবার কাছ থেকে নিয়ে তাদের ভ্যানে রেখে আসে।

কান্তা ফোন করছে। ফোনটা রিসিভ করলো রোকন ।
চা খেয়েছো?
হ্যাঁ। খাচ্ছে, জানালো রোকন।
অথচ সে অন্য সময় হলে কান্তাকে বলতো কি ঘটছে চারপাশে। এতএত মানবিকতার বিপর্যয়। কোনটা বলবে। কি বলবে। একধরনের অবসাদ নেমে আসে রোকনের মনে।
ফোনটা রেখে দেয় কান্তার আরো কিছু রুটিন খোঁজখবরের জবাব হুঁ হাঁ তে সেরে।

টিভিটা ছাড়ে রোকন রিমোট কন্ট্রোলার চেপে। খবর হচ্ছে একটা চ্যানেলে। জাতিসংঘ মুখোপাত্র বলছেন, বিশ্বে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে করোনা ভাইরাসের আক্রমনের ফলে।
এরই মধ্যে ইউরোপ, আমেরিকায় অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়ে গেছে। কলকারখানার চাকা ঘুরছে না। এদিকে বিভিন্ন দেশে পঙ্গপাল সাবাড় করে দিচ্ছে কৃষিফসল।
পঞ্চাশের মন্বন্তরের মর্মান্তিক ছবি এঁকেছিলেন জয়নুল। একাত্তরের মুক্তিযুদ্বের পর খাদ্যসংকট কাটাতে বঙ্গবন্ধুকে যুদ্ধপরবর্তী শক্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে।
রোকন এসব ভাবে। ভেবে ভেবে শিউরে ওঠে। তবে কী আরেকটা দূর্ভিক্ষের মুখোমুখি হচ্ছে পৃথিবী?
ভাবতেই নিজের ঘরে খাবার কতটুকু আছে চিন্তা করতে থাকে। যা আছে একলা তার হয়তো দু-তিনদিন চলবে।
লকডাউনের পূর্বে ভেবেছিলো মুদিদোকান আর কাঁচাবাজার তো খোলা আছেই। আনা যাবে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বাজার থেকে। যদিও সে জানে, তার পরিচিত অনেক অফিসার, বিত্তবান লোকেরা অকল্পনীয় খাবার সামগ্রী মজুদ করেছে সারাদেশ লকডাউনের ঘোষণার খবর জানতে পেরে।
এদিকে ব্যবসায়ীরা সব পণ্যের দাম দুই-তিনগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। হাত ধোয়ার লিকুইড সাবান পঁয়ত্রিশ টাকার জায়গায় সত্তর-পঁচাত্তর টাকা রাখছে দোকানদার।
চাল-ডাল তেল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে হুহু করে। ভ্রাম্যমান আদালত এসব নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে কোথাও কোথাও ব্যবসায়ীরা স্ট্রাইকের হুমকি দিচ্ছে ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটকে।
এই সব দেখে, জেনেশুনে রোকনের মন বড় শংকিত হয়ে ওঠে।

ঘরের ভেতরে একধরণের দমবন্ধ অবস্থা বোধ করে সে। সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠে আসে। বসন্তের দখিনা বাতাস বইছে। বাড়িওয়ালার কলেজ পড়ুয়া মেয়েটি ছাদে নানা জাতের ফুলের গাছ লাগিয়েছে। চমৎকার ফুল এসেছে সব গাছেই। বাগানবিলাস ছাদের রেলিং ছেয়ে নেমে গেছে নিচের দিকে। কলেজ পড়ুয়া মেয়েটি ছোট্ট আরো দুটি শিশুকে নিয়ে এসে খেলা করছে ছাদের এক কোণে। শিশুদের চোখেমুখে কী স্বর্গীয় আভা। অথচ এই যে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে, এই বাতাসেও হয়তো মিশে আছে মৃত্যুর বীজাণূ।
ছাদ থেকে ঢাকা শহরের যতদূর দেখা যায় সব ফাঁকা। চিরচেনা জ্যাম, গাড়ির শব্দদূষণ নেই। মৃত্যুর ভয়ে শহর ছেড়ে পালিয়েছে সমস্ত লোক।
অভ্যাসবসত রোকন পকেটে হাত দেয়, সিগারেট হাতড়ায়। কিন্তু করোনায় আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে ভর্তি করোনা আক্রান্ত এক নারীর মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরিহিত অবস্থায় ফেসবুক লাইভে তার শ্বাসকষ্টের নিদারুণ বর্ণনা যেদিন দেখেছে, সেদিন থেকে সিগারেট বারবার ধরাতে যেয়েও রোকনের মনে হয়েছে, লাঙসটা সুস্থ রাখতে হবে। মৃত্যু হবে একদিন, সেসব নিয়ে রোকন ভাবে না। কিন্তু অসময়ে সে বেঘোরে মরতে চায় না। পৃথিবীর অনেক কিছুই সে দেখে যেতে চায়। পৃথিবীতে অনেক কিছু তার করবার আছে। পৃথিবীর মত সুন্দর জায়গা আর কি হয়। বেঁচে থাকার মত আনন্দের আর কী হতে পারে?
সিগারেট সে ছেড়ে দিয়েছে সপ্তাহ দুয়েক হলো।

ফোন বাজছে। কান্তা আবারো ফোন করেছে। নিচে পুলিশ খেটে খাওয়া মানুষকে পেটাচ্ছিল তখন। তাই ফোনটা রেখে দিয়েছিলো কান্তার। সে আবার ফোন করেছে। তার চিন্তা একটাই। বাবার বাড়িতে আছে সে। নিজেকে নিয়ে ভাবে না। যত ভাবনা রোকনকে ঘিরে। ডাক্তার ইমিউন সিস্টেম বাড়াতে কি কি খেতে পরামর্শ দিয়েছে তা রিপিট করবে। ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে কি কি করতে হবে, সকল সময়ে ফোন করে করে তা মনে করিয়ে দেবে।
অথচ সবাই ঢাকা ছাড়লেও রোকনের ঢাকা ছাড়া হয়নি। অফিসের কাজ- অনেক দায়িত্ব তার। এ নিয়ে কান্তার অনেক রাগ, চাকরি কি রোকন একাই করে? দুনিয়ার আর সবাই কি চাকরি করে না?

কান্তার সাথে কথা শেষ করে রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে নিচে তাকায় রোকন। রাস্তায় পুলিশের টহল। সেনাবাহিনীর সদস্যরা দিনরাত একাকার করে মানুষকে ঘরে থাকার জন্য মাইকে ঘোষণা করে সচেতন করছে। তারপরও কিছু লোক রাস্তার মোড়ে-গলিতে আড্ডা দিতে বেরোচ্ছে। কাহাঁতক আর সহ্য করে পুলিশ। স্টাবোর্ন লোকেদের সাথে না পেরে তারা তখন লাঠিচার্জ করছে।
তবু খেটে খাওয়া মানুষ, দরিদ্র ও দিনমজুর, দিন এনে দিন খাওয়া মানুষদের ক্ষুধার্ত চোখমুখ, তাদের পরিবার সন্তানদের মুখ ভেবে বুকে চাপচাপ কষ্ট অনুভব করে রোকন।

দূরে একঝাঁক পাখি উড়ে যাচ্ছে আকাশে। গাছেগাছে বসন্তের সবুজ পাতা। শহুরে গাছও ফুলে মুকুলে ভরে উঠেছে।
এসব দেখে একধরণের প্রবল বিশ্বাস রোকনকে আশাবাদী করে। প্রকৃতি তার সন্তানদেরকে নিশ্চয়ই রক্ষা করবে। প্রকৃতি আবার মেতে উঠবে জীবনানন্দে। পৃথিবীর আনন্দযজ্ঞে আবার মানুষ, ফুল, পাখি, আকাশ ও ভূমিতল জেগে উঠবে। আবার জীবনের জয়গানে মুখোর হবে প্রিয় পৃথিবী।

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge