মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন

অনামিকা ফেরদৌস এর ২টি কবিতা

অনামিকা ফেরদৌস এর ২টি কবিতা

অনামিকা ফেরদৌস এর ২টি কবিতা

১. মেয়েটি এখন কি করবে?

মেয়েটির বয়স বছর কুড়ি —
সদ্য স্বামী হারিয়েছে সে ।
এখনো স্বামীর কবর হয়নি —
লাস বাড়িতেই আছে এখনো ।
এরই মধ্যে মেয়েটির স্বজনেরা
মেয়েটির গা থেকে তার সমস্ত
গয়না খুলে নিল ।
বাক্যহারা , কান্নার দমকে মেয়েটি কিছুই
বলতে পারছে না ।
মেয়েটিকে গোসল করানো হলো ——-
সবচেয়ে রংহীন , বিবর্ণ কাপড়টি
পড়ানো হলো ।
মেয়েটি এখন মনে ও শরীরের
আবরনে রিক্ত , রংহীন , বর্ণহীন ।
তারপর – তার স্বামীর কবর হলো ;
মেয়েটিকে নিয়ে বসল তার পরিবার ।
স্বামীর পরিবার এত অল্পবয়েসি মেয়েকে
বাড়িতে রাখতে চাইল না ।
যদি বদনাম হয় !!
মেয়েটি বাবার পরিবারে আশ্রয় পেল
অবশেষে ————–
সেখানে তার স্বজনেরা বলে দিল–
ঠিকঠাক চলতে হবে , বাইরে বেরুনো
যাবে না বেশী বেশী ।
বেশী কারো সাথেই বেশী কথা বলা
যাবে না ।
সাদা থান পড়া ভালোই , তবে প্রায়
রংহীন কাপড় পড়বে ।
সবসময় যেন শরীরে , মাথায় কাপড়
ঢাকা থাকে ।
ধর্ম কর্ম কর ।
মেয়েটি বেশ কিছুদিন এই ব্যবস্থা
মেনে নিল ।
তারপর মেয়েটি একদিন স্বজনদের বলল,
আমি লেখাপড়া শেষ করব, নিজের পায়ে
দাঁড়াব , চাকরি করব ।
স্বজনেরা চিৎকার দিয়ে বলল , অপয়া বিধবা মেয়ে
ঘাড়ে নিয়েছি , আবারও চাহিদা ?
মেয়েটি বলল , এ আমার অধিকার ।
বলল সে আরো , ধর্মতো কুমারী , সধবা , বিধবা
সকলেরই সমান অধিকার দিয়েছে !!
আলাদা আলাদা নিয়মতো নেই !!
তবে তোমরা বাধা দাও কেন ?
সমাজ ? আমার দু:খের দিনে সমাজ
কোথায় ছিল ??
মেয়েটি পন করল ,লেখাপড়া শিখে স্বনির্ভর হবে ,
সমাজে মানুষের মতো মানুষ হয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচবে ,
আর পরগাছা হয়ে বাঁচবে না ।।
সে আত্ববিশ্বাস ফিরে পেল ।
ভাবল সে এভাবেও ভাবা যায় ,
এভাবেও আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচা যায় ।

২. কোথাও সুরক্ষিত নই

মেয়েটি খুবই মিশুক ,
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে ।
বন্ধুরা বলে সে ছাড়া আড্ডাটাই মাটি ,
পরনে জিন্স , টিশার্ট , মানিয়ে যায়
তাকে যে কোনো পোশাকেই ।
একদিন ক্লাসশেষে বন্ধুদের সাথে আড্ডা
দিতে একটু দেরি হয়ে গেল ।
রাত ৮ টা ,কয়েকজন ভদ্রবেশী লোক তার পিছু নিল ।
একটা ফাঁকা জায়গায় জোর করে নিয়ে গন ধর্ষন করল ।
মেয়েটিকে বিবস্ত্র , রক্তাক্ত ,অজ্ঞান অবস্থায়
উদ্ধার করে পুলিশ ।
মেয়েটি বোরকা পড়ে , শান্ত মেয়েটি
শুধু মুখটি দেখা যায় ।
ভাইয়ের সাথে কলেজে যাওয়া আসা করে ।
একদিন মেয়েটিকে এক শিক্ষক ডেকে নিয়ে গেল ।
নির্জন কক্ষে মেয়েটির মুখ চেপে ধর্ষন করল ।
মেয়েটি বাসায় এসে তার ডায়রিতে সব লিখে
যেতে পেরেছিল ,গলায় ফাঁস নেওয়ার আগে ।
মেয়েটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে , অতি সাধারন ।
সালোয়ার কামিজ পড়ে ,অভাবের সংসারে তাকে
টিউশনীও করতে হয় ।
একদিন টিউশনী ছেড়ে ফিরছিল সে , আগেই ওৎ
পেতে থাকা এক মানুষরুপী জানোয়ার তাকে স্বল্প আলোয়
নিয়ে গিয়ে ধর্ষন করে । বিবস্ত্র ,রক্তাক্ত ,অজ্ঞান অবস্থায়
পুলিশ তাকে পায় ।
সদ্য ৫০ বছর হওয়া একজন মহিলা । স্বামী , পুত্র
নিয়ে তার সুখের সংসার ।
একদিন স্বামী অফিসে , পুত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছে ।
ভর দুপুরবেলা , কলিং বেল বাজল । মহিলা ভেবেছে
পুত্র এলো । দরজা খুলে দেখে তার পুত্রের বয়সি ৫ জন
যুবক দাঁড়িয়ে আছে । মহিলা বললেন , কি চাই ? তারা পিশাচের
হাসিহেসে বলল , আপনাকে । ভদ্রমহিলা চমকে তাকালেন !
পুত্রসম দলটি তাকে তারই ঘরে , তারই বিছানায় গনধর্ষন করল ।
তার স্বামী পুত্র তাকেও বিবস্ত্র , রক্তাক্ত অবস্থায় পায় ।
শিশু মেয়েটির বয়স ৫ বছর । বাসার পাশের চায়ের দোকানে
প্রতিদিন য়ায় । চাওয়ালাকে সে চা কাকু বলে । বাবার এক বন্ধু এসে বাবাকে ডাকে । বাবা বলে , মামানি তুমি একটু চা কাকুর সাথে থাকো ,
আমি এখনি আসছি । চাওলা বলে , চিন্তা কইরেন না সাব , মামনিরে দেইক্যা রাখুম । আধা ঘন্টা পর বাবা এসে দেখে ,তার মামনি
কাপড়বিহীন , রক্তাক্ত অবসথায় পড়ে চাওয়ালা কোথাও
নেই — ।
৮০ বছরের বৃদ্ধা ভিক্ষাবৃত্তি করে দিন কাটে যার । সন্তানরাদেখে না । রাতে দরজা লাগিয়ে শুয়ে পড়েছে সে । হঠাৎই দরজায় ধাক্কা ।পাড়ার এক নাতি ডাকছে । বৃদ্ধা দরজা খুলে দিল । বৃদ্ধা কিছু বোঝার আগেই বিছানায় ফেলে ধর্ষন করল নাতির বয়সী নরপশিাচটি । বৃদ্ধার চিৎকারে পাড়া প্রতিবেশ িছুটে এসে দেখল
রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে অশীতিপর বৃদ্ধা ।।
৫ থেকে ৮০ কারো ররেহাই নেই ।
বয়স ,দিন , রাত, পোশাক , আইন
কোনো কিছুই ধর্ষন আটকাতে পারে না ।
পারে শুধু মানুষের শুভবুদ্ধি , বিবেক ও মনুষত্য ।

শেয়ার করুন ..

Comments are closed.




© All rights reserved © পাতা প্রকাশ
Developed by : IT incharge